শিবগঞ্জ খাদ্য অধিদপ্তর থেকে ২০৭০ মেট্রিক টন গম সারেন্ডার

আপডেট: জুন ৮, ২০২০, ১:৪৭ অপরাহ্ণ

শিবগঞ্জ(চাঁপাইনবাবগঞ্জ)সংবাদদাতা:


কৃষকরা গম সরবরাহ না দেয়ায় শিবগঞ্জ খাদ্য গুদামে গম সংগ্রহ/ক্রয় বন্ধ হয়েছে। সারেন্ডর করা হয়েছে ২০৭০ মেট্রিক টন গম। খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিস ও খাদ্য গুদামের কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে অর্থাৎ ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে শিবগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ২৫৭২ মেট্রিক টন গম ২৮টাকা কেজি দরে সরাসরি কৃষকদের নিকট হতে ক্রয় করা সিদ্ধান্ত ছিল। কৃষি অফিস থেকে ২ হাজার ২শ জন কৃষকের তালিকাও তৈরি হয়েছিল। এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য শস্য সংগ্রহ কমিটির সভাপতি শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল আকতার ১০ মে ২০২০ গম ক্রয়ের উদ্বোধন করেন। সেদিন থেকে গম ক্রম শুরু হয়। কিন্তু কৃষকরা গম সরবরাহ না দেয়ায় খাদ্য অধিদপ্তর গম সংগ্রহ করতে পারে নি। ফলে ১৭ মে ২০২০ শিবগঞ্জ উপজেলা মিলনায়তনে উপজেলা খাদ্য সংগ্রহ কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল আকতারের সভাপতিত্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন শিমুল সহ সকলের উপস্থিতে সর্বসম্মতিক্রমে গম সেরেন্ডারের সিদ্ধান্ত হয় এবং তা সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এর প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠি মূলে ৩১ মে ২০৭০ মেট্রিক টন সেরেন্ডার করা হয়েছে। খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা গোলাম রসুল বলেন, ১০ মে থেকে মোট গম ক্রয় করা হয়েছে ১৬৩ মেট্রিক টন। গম কৃষকরা সরবরাহ না দেয়ায় গম ক্রয় করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরো জানান, সাধারণত খোলা বাজারের গমের দর কেজি প্রতি ২৮ টাকা ও খাদ্য অধিদপ্তরের গমের দরও কেজি প্রতি ২৮ টাকা হওয়ায় কৃষক কষ্ট করে খাদ্য গুদামে গম সরবরাহ না দেয়ায় গম ক্রয় করা স¤ভব হয়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক জানান, কোনো বছরই প্রকৃত কৃষকদের নিকট গম ক্রয় করা হয়নি এবং প্রতি বছরই কৃষকদের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যেমে গোপনে তালিকা তৈরি হয়েছে। প্রকৃত কৃষকদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গম ক্রয় করা হয়েছে। এবার সিন্ডিকেট না থাকায় গম ক্রয়/সংগ্রহ করতে পারেনি। একজন গম ব্যবসায়ী বলেন, সিন্ডিকের্টে মাধ্যমে গম ক্রয় হলেও প্রতিবছরই গম মৌসুমে প্রায় ১শ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতো। কিন্তু এবছর তারা বঞ্চিত আছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জান মোহাম্মদের সাথে মুঠো ফোনে যোগযোগ করা হলে তিনি শুধু বলেন, গম সারেন্ডার করা হয়েছে। ব্যস্ত আছি বলে ফোন সংযোগ কেটে দেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল আকতার বলেন, কৃষকরা গম সরবরাহ না দেয়ায় মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক উপজেলা খাদ্য শস্য সংগ্রহ কমিটি ২০৭০ মেট্রিক গম সারেন্ডার করেছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহম্দে শিমুলের সাথে যোগযোগের বারবার চেষ্টা করেও ফোন রিসিভ না করায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ