শিবগঞ্জ পৌরসভার পাঁচমাস থেকে বেতন বন্ধ ৩৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীর

আপডেট: ডিসেম্বর ২২, ২০১৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি



পাঁচমাস থেকে বেতন বন্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ পৌরসভার ৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর। এর ফলে তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, পৌরসভার অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে গত আগস্ট মাস থেকে পৌরসভার ৩৮জন কর্মকর্তা-কর্মচারী সম্পূর্ণ  ও ১২০ জন কর্মচারীর আংশিক বেতন উত্তোলন করছেন। ফলে অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে পৌরসভার কার্যক্রম। অন্য আরেকজন কর্মকর্তা জানান, সাবেক মেয়র ইমানী আলির আমলে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, কর অনাদায়, অবৈধভাবে জনবল নিয়োগসহ বিভিন্ন কারণে পৌরসভার প্রায় ১৭০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ৫ মাস বেতন বন্ধ ছিল। বর্তমান মেয়রের আমলে ওই ৫ মাসের বেতন ভাতা পরিশোধ করায় বর্তমানে পাঁচমাসের বেতন ঘাটতি রয়েছে। তিনি আরো জানান, উপজেলা পরিষদের নিকট প্রায় ২০ লাখ টাকা, ভূমি অফিসের নিকট লক্ষাধিক টাকাসহ বিভিন্ন স্তরে ১ বছর থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কর অনাদায় থাকাও অর্থনৈতিক সঙ্কটের অন্যতম কারণ।
এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অঅিফসার মো. শফিকুল ইসলাম কর্মকর্তাদের বেতন সম্পর্কে কোন মন্তব্য না করে উপজেলা পরিষদের বকেয়া কর সম্পর্কে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা পরিষদ কর দিতে হবে। তবে সেটা বিল আকারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠাতে হয় এবং পরিষদের কর পরিশোধের ব্যাপারে শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কল্যাণ চৌধুরী জানান, গত ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ভূমি অফিসের নিকট পৌরসভার ৭৭ হাজার টাকা কর বকেয়া রয়েছে। যা প্ররিশোধ করার প্রক্রিয়া চলছে। এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র এআরএম আজরী কারিবুল হক রাজেনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সরাসরি তার অফিসে গিয়ে এবং তার মুঠোফোনে বার বার চেষ্টার পরও যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি।
তবে পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন বেতন বন্ধ থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বন্ধ নেই। পূর্বে পৌরসভার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিমাসের বেতন ভাতা পরিশোধ করতে প্রয়োজন হতো ১৪ লাখ টাকার। বর্তমানের তাদের বেতন বৃদ্ধি করায় এখন প্রয়োজন হয় ২৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। তাছাড়া পূর্ববর্তী মেয়রের আমলের বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে গিয়ে কিছুটা সমস্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে অল্প সময়ের মধ্যে এসব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
তিনি আরো জানান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র ইমানী আলির সময়ে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ৫ মাসের বাকী বেতন বর্তমান মেয়রকে দিতে হয়েছে। তাছাড়া তার আমলে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ দেয়াও অর্থনৈতিক ঘাটতির অন্যতম কারণ। তবে সাবেক মেয়র ইমানী আলি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার সময়ে কারো বেতন বন্ধ ছিলো না। বরং ৬০ লাখ টাকা উদ্বৃত্ত রেখে এসেছি। আর বিধি মোতাবেক আমি জনবল নিয়োগ দিয়েছিলাম। যা বর্তমান মেয়র তাদের অব্যাহতি দিয়েছেন।