শিবগঞ্জ সীমান্তে পেয়ারা চাষ করে সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন চার কৃষক

আপডেট: ডিসেম্বর ৫, ২০১৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি



৮ বছরের প্রকল্পনা নিয়ে ৬০ বিঘা জমিতে পেয়ারা চাষ করে সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের চার পেয়ারা চাষি। গত তিন বছরে ১০ লাখ টাকা লোকসান হলেও হাল ছাড়েন নি তারা।
গত শুক্রবার কথা হয় পেয়ারা চাষী জাহাঙ্গাীর হোসেন, সোহরাব হোসেন ও নকির হোসেনের সঙ্গে। তারা জানান, টেলিভিষনে ও রেডিওতে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান দেখে ও দেশের অন্য স্থানে পেয়ারা চাষিদের সাফল্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা থাই পেয়ারা চাষের সিন্ধান্ত নেই। জেলার একেবারে শেষ সীমান্তে মাসুদপুর কোদার মাঠে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে প্রতি বছর বিঘা প্রতি ৫ হাজার টাকা করে ৮ বছরের জন্য ৬০ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ২০১৩ সালে নাটোরসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে জমিতে পৌাঁছা পর্যন্ত চারা প্রতি ১০ টাকা করে সাড়ে আট হাজার থাই পেয়ারার চারা আমদানি করি। প্রথম চারা রোপণের একবছর পর  ২০১৪ সালে সামান্য কিছু ফল পেয়েছিলাম। ২০১৫ সালে ১৫ লাখ টাকার থাই পেয়ারা বিক্রি করেছি। ২০১৬ সালে প্রচুর ফল ধরলেও অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে পেয়ারা পাকার আগেই পচন ধরায় মাত্র ৫ লাখ টাকার পেয়ারা বিক্রি করতে পেরেছি। তারা আরো জানায়, গত ৩ বছর লোকসান হলেও হাল ছাড়ছি না। আমরা আশাবাদী সামনে ৫ বছরে খরচ বাদে ৬০ লাখ টাকা লাভ করতে পারবো। খরচ ক্রমান্বয়ে  কম হবে। ফলন ক্রমান্বয়ে বাড়বে এবং দামও ভালো পাব। জাহাঙ্গাীর বলেন, আমাদের এ পেয়ারা চাষে প্রায় ৪০ জনলোকের কর্মসংস্থান করতে পেরেছি। তারা সারা বছর এ জমিতেই কাজ করে দৈনিক ৩শ টাকা করে উপার্জন করতে পারে। এক সময়ের মাদক আমদানির শ্রেষ্ঠ রুট হিসাবে পরিচিত এ মাঠে বর্তমানে সার্বক্ষণিক লোকজন থাকায় এ রুটে মাদক আমদানি প্রায় বন্ধ হতে চলেছে। বন্ধ হয়েছে চুরি ডাকাতি ও ছিনতাইও। সোহরাব জানান, এ মৌসুমে আমরা দুইটি কারণে লোকসানের সম্মুখীন হয়েছি। তা হলো অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে পেয়ারা গাছ মারা যাচ্ছে এবং পেয়ারা পাকার আগে পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে। ব্যাগিং সিস্টেম প্রয়োগ করেও কোনো লাভ হয় নি। কৃষি অফিসে সংবাদ দিয়ে মাত্র একদিন একজন অফিসার এসেছিলেন। তবে এ রোগ রোধের উপযুক্ত কোন পরামর্শ দিতে পারেন নি তিনি। তিনি আরো জানান, এ মাঠের জমি নিচু হওয়ায় বন্যার পানিতে পেয়ারা বাগান তলিয়ে যাওয়ায় অনেকটা ক্ষতি হয়েছে।
এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আমিনুজ্জামান জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিল না।  পেয়ারার চাষ করে কৃষকদের লোকসান হওয়ার কথা নয় যদি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ঠিকমতো চাষাবাদ করতে পারে। তবে আমি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বাগান পর্যবেক্ষণ করবো যাতে কৃষকরা লাভবান হতে সে ব্যাপারে পরামর্শ দিব।