শিবনদী সংস্কারের দাবি ফসলের ক্ষয়ক্ষতি রক্ষার্থে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২২, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ

নদীমাতৃক বাংলাদেশের বেশিরভাগ নদীর অবস্থা ভালো নেই। অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ছে অনেক নদী। অনেক নদী হারিয়ে গেছে। একসময়ের খরস্রোতা নদীর বুকজুড়ে দেখা দিচ্ছে ধু ধু বালুচর। শুকনো মৌসুমে পানি নেই। বর্ষা মৌসুমে এই নদীই আবার দুই কূল ছাপিয়ে দুর্দশার কারণ হয়। বর্ষার পানি ধারণ করার ক্ষমতা নেই বেশিরভাগ নদীর। সুষ্ঠু পরিচর্যার অভাবে নাব্যতা হারিয়েছে অনেক নদী। এমনি এক নদী হচ্ছে শিবনদী। যে নদীর সংস্কারের অভাবে মাঘ মাসের বৃষ্টিতে উজানি ঢলে ডুবে গেছে কৃষকের স্বপ্নের ফসল বোরোধান। কৃষকদের ভাষ্য, মোহনপুর, তানোর ও মান্দা উপজেলায় বৃষ্টির পরও নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলা হতে নেমে আসা উজানি পানিতে এ অঞ্চলের ফসলগুলো প্লাবিত হয়েছে। প্রতি বছর বোরোধান রোপনের পর পাকার সময় ডুবতো। তখন তড়িঘড়ি করে বোরোধান ঘরে তোলা যেত তবে এবার রোপনের শুরুতেই ফসল হানি হয়েছে। উজানি ঢলে মোহনপুর উপজেলার বড়াইল, বেলনা, মেলান্দি, পালশা, দেওপুর এবং তানোর উপজেলার কামারগাঁ, চাপড়া, গোকুল, তালন্দগ্রামের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোহনপুর উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত শিব নদী সংস্কারের অভাবে পানিনিস্কাশন হতে না পেরে প্রতি বছর এধরণের ফসলহানি ঘটছে। এজন্য শিবনদী দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। এনিয়ে গতকাল সোনার দেশ পত্রিকার শেষ পাতায় একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। সেখানে শহিদুল ইসলাম নামের একজন কৃষক বলেছেন, বিল কুমারী বিলে বোরোধানের ভাল ফলন হয়। প্রতিবছরের মতো এ বছর প্রায় ৩ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। উজানি ঢলের পানি নিস্কাশন হতে না পেরে তলিয়ে গেছে। এজন্য শিবনদী সঙ্কার করা জরুরি। কৃষক আবুল হোসেন বলেন, বিলকুমারীবিল এখন যেন কৃষকের স্বপ্ন কেড়ে নেওয়ার মাঠে পরিণত হয়েছে। এবছর আমি প্রায় ৮ বিঘা জমিতে বোরোধানের চাষ করেছি তা সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। এজন্য আমার সারা বছরের খাবারের সংকট হবে এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তানোর উপজেলার গোকুল গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, বিলকুমারী বিলে কয়েক উপজেলার মানুষের জমি আছে। প্রতি বছর উপর দিক থেকে পানি নেমে এসে নিস্কাশন হতে না পেরেই ফসলহানি ঘটে। এজন্য শিবনদী সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
এই প্রতিবেদন অনুযায়ী সবার ভাষ্য হচ্ছে, শিবনদী সংস্কার করা হলে ফসলের তেমন ক্ষয়ক্ষতি হবে না। জনস্বার্থে শিবনদী সংস্কার করা প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। কারণ দেশের অর্থনীতিতে কৃষকদের ভূমিকা অনেক বড়। তাদের যেকোন সমস্যা আমাদের সবার আগে দেখা উচিত।
নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রকৃতি, জনজীবন, চাষাবাদ প্রায় সবই নদীনির্ভর। তাই বলা হয়, নদী না বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে না; অর্থাৎ বাংলাদেশের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। অথচ বাংলাদেশ সে পথেই এগিয়ে চলেছে। বহু নদী এর মধ্যেই মরে গেছে। বহু নদী মৃত্যুর পথে। নদীগুলোর গভীরতা কমে যাওয়ায় তখন বন্যা ও জলাবদ্ধতা অবধারিত হয়ে পড়ে। আমরা মনে করি মোহনপুর উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত শিব নদী যে হারিয়ে না যায়। আবার এই নদীকে সংস্কার করে চাষাবাদসহ পরিবেশ রক্ষায় যেন এলাকাবাসীর উপকৃত হয়। সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজর দেয়া উচিত।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ