শিবনদী সংস্কারের দাবি মোহনপুরে উজানি ঢলে তলিয়েছে বোরো ধান

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২২, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

মোস্তফা কামাল, মোহনপুর:


উজানি ঢলে ডুবে গেছে কৃষকের স্বপ্নের ফসল বোরোধান। গত ৪ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) রাজশাহী ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে ভারীবর্ষণ হয়েছে। বর্ষণে মোহনপুর উপজেলা, মান্দা উপজেলা এবং মান্দা উপজেলার মিলনস্থল বিলকুমারীবিলের প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির সদ্য রোপনকৃত বোরোধান তলিয়ে গেছে বলে কৃষকদের দাবি।

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছে, মোহনপুর, তানোর ও মান্দা উপজেলায় বৃষ্টির পরও নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলা হতে নেমে আসা উজানি পানিতে এ অঞ্চলের ফসলগুলো প্লাবিত হয়েছে। প্রতি বছর বোরোধান রোপনের পর পাকার সময় ডুবতো। তখন তড়িঘড়ি করে বোরোধান ঘরে তোলা যেত তবে এবার রোপনের শুরুতেই ফসল হানি হয়েছে। উজানি ঢলে মোহনপুর উপজেলার বড়াইল, বেলনা, মেলান্দি, পালশা, দেওপুর এবং তানোর উপজেলার কামারগাঁ, চাপড়া, গোকুল, তালন্দগ্রামের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মোহনপুর উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত শিব নদী সংস্কারের অভাবে পানিনিষ্কাশন হতে না পেরে প্রতি বছর এধরণের ফসলহানি ঘটছে। এজন্য শিবনদী দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

উপজেলার বেলনা গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমি প্রতি বছর বিলকুমরারী বিলে বোরোধানের চাষ করি। ফসল পাকার সময় কোনো কোনো বছর উজানি ঢলে ধান তলিয়ে যেতে শুরু করতেই কেটে ঘরে তুলি। এবছর রোপন মৌসুমেই ঢুবে গেল বোরোধান এতে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

শহিদুল ইসলাম নামে অপর একজন কৃষক বলেন, বিল কুমারী বিলে বোরোধানের ভাল ফলন হয়। প্রতিবছরের মতো এ বছর প্রায় ৩ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। উজানি ঢলের পানি নিস্কাশন হতে না পেরে তলিয়ে গেছে। এজন্য শিবনদী সঙ্কার করা জরুরী। কৃষক আবুল হোসেন বলেন, বিলকুমারীবিল এখন যেন কৃষকের স্বপ্ন কেড়ে নেওয়ার মাঠে পরিণত হয়েছে। এবছর আমি প্রায় ৮ বিঘা জমিতে বোরোধানের চাষ করেছি তা সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। এজন্য আমার সারা বছরের খাবারের সংকট হবে এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

তানোর উপজেলার গোকুল গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, বিলকুমারী বিলে কয়েক উপজেলার মানুষের জমি আছে। প্রতি বছর উপর দিক থেকে পানি নেমে এসে নিস্কাশন হতে না পেরেই ফসলহানি ঘটে। এজন্য শিবনদী সংস্কারের দাবি জানান তিনি।

জানতে চাইলে মোহনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রহিমা খাতুন সোনার দেশকে জানান, মাঘের বৃষ্টিতে উজানি ঢলে নেমে আসা পানি নিষ্কাশন হতে না পেরে রোপনকৃত বোরোধন তলিয়ে গেছে। বিলটি কয়েক উপজেলার সীমান্ত জুড়ে বিস্তৃত। মোহনপুর অংশে তলিয়ে যাওয়া জমি এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।