শিবিরের টার্গেট রাবি ছাত্রলীগের ১৫ নেতা! || শান্ত ক্যাম্পাসকে আশান্ত করার চেষ্টা

আপডেট: আগস্ট ২১, ২০১৭, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ

দীর্ঘ সময় ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার চত্ত্বর শান্ত হয়ে আছে। শিক্ষার্থীরা সুন্দর পরিবেশে লেখাপড়া করছে। এমন সময় ছাত্রলীগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ১৫ নেতাকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যায়িত করে হুমকি দিয়েছে ছাত্রশিবির। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘জাগ্রত বিবেক’ নামের একটি আইডি থেকে নেতাদেরকে এ হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ১৫ নেতাকে ছাত্রশিবির রাবি শাখার ক্যাডাররা টার্গেট করেছে বলে গতকালের সোনার দেশসহ বিভিন্ন সংবাদ পত্রে প্রকাশিত হয়েছে।
এক সময় দেড় যুগেও বেশি সময় ধরে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জামায়াতে ইসলামীর সংগঠন ছাত্রশিবির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে আধিপাত্য বিস্তার করেছে। তারা এসময় ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব, আবাসিক হলে সিট বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির একক রাজত্ব কায়েম করেছে। কিন্তু এখন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর গোয়েন্দা নজরদারিতে তাদের সেই রাজত্ব কায়েম করতে পারছে না। কিন্তু নিজেদেরকে জানান দিতে ও ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। তাদেরকে চিহিৃত করতে হবে। সেইসাথে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। কারণ তাদের পুরনো ইতিহাস খুবই খারাপ। তারা ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ চাই না। অনেক আগের পত্রপত্রিকার খবরাখবর দেখলে অনুমান করা যায়  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের সন্ত্রাসী কর্মকা-ের ইতিহাস। তাদের নৃশংস আক্রমণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য ছাত্র প্রাণ হারিয়েছে। হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়ায় অনেক ছাত্র পঙ্গু হয়ে অভিশপ্ত জীবনযাপন করছে। সন্ত্রাসী কর্মকা- চালাতে এসে ছাত্রশিবিরেরও অনেক নেতাকর্মীর প্রাণহানি ঘটেছে। প্রকৃতপক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের বেড়ে ওঠা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দেশের বৃহত্তর রাজনীতির সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ যোগ আছে।
মুক্তিযুদ্ধচলাকালীন প্রফেসর বারী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকা-ে লিপ্ত থাকার কারণে পাকিস্তানি দালাল হিসেবে তিনি ধিক্কৃত হয়েছিলেন। প্রফেসর ড. বারীর উপাচার্য হিসেবে নিয়োগের সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির তথা মৌলবাদী শক্তির উত্থানের ঘনিষ্ঠ যোগ রয়েছে। ১৯৮০ সালের ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস পালন করতে গিয়ে জাতীয়তাবাদ তথা ইসলামী মৌলবাদে বিশ্বাসী ছাত্রদের হাতে প্রাণ দিতে হয় ছাত্রলীগের কর্মী মীর মোশতাক এলাহীকে। প্রফেসর মুহম্মদ আবদুল বারীর পৃষ্ঠপোষকতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের পাশাপাশি ইসলামী ছাত্রশিবিরও দিন দিন শক্তিবৃদ্ধি করতে থাকে। তারা সুযোগ পেলেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহারের সবুজ চত্বরকে রক্তে লাল করে দেয়। কিন্তু তাদের এই জঘন্য কামকা-কে প্রতিহত করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ