শিমু হত্যা: দুলাভাইকে আসামি করতে দ্বিধায় শ্যালিকা

আপডেট: জানুয়ারি ১৮, ২০২২, ৮:০৫ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক:


চিত্রনায়িকা ও মডেল রাইমা ইসলাম শিমু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু ফরহাদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে শিমুর স্বামী নোবেল হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

এদিকে হত্যা মামলা দায়ের করতে শিমুর বোন বর্তমানে কেরানীগঞ্জ থানায় অবস্থান করছেন। তবে হত্যা মামলায় দুলাভাইকে আসামি করার বিষয়ে দ্বিধায় পড়েছেন তিনি। এমনকি বোনকে তার দুলাভাই নোবেল হত্যা করেছে, সেটি এখনো মানতে রাজি নন শিমুর বোন ফাতিমা নিশা।

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে এমনটাই জানালেন নিশা।
হত্যা মামলায় বোনের স্বামীকে আসামি করা হচ্ছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে ফাতিমা নিশা বলেন, এ বিষয়ে আমরা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছিনা। তবে আমরা আলাপ আলোচনা করছি।

পুলিশ বলেছে, নোবেল তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে, কি কারণে এই হত্যাকা-? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো আমি কিছু বলতে চাচ্ছি না। পুলিশকে কোন পরিপ্রেক্ষিতে আমার বোন জামাই একথা বলেছে, তা পুলিশই জানে। হয়তো, পুলিশের কাছে তথ্যপ্রমাণও আছে। তবে আমি আমার বোনের স্বামীর (নোবেল) সঙ্গে কথা না বলা পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছি না। আমি আমার বোনের স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে চাই।

ফাতিমা নিশা বলেন, আমি এখন থানায় আছি। মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। মামলার কাজ শেষে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাবো বোনের মরদেহ নিতে।
এর আগে, মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, পারিবারিক বিষয় ও দাম্পত্য কলহের কারণে চিত্রনায়িকা ও মডেল রাইমা ইসলাম শিমুকে (৩৫) হত্যা করেছে তার স্বামী শাখাওয়াত আলী নোবেল। এরপর শিমুর মরদেহ গুম করতে বস্তায় ভরে কেরানীগঞ্জে ফেলতে সহায়তা করেছে নোবেলের বন্ধু ফরহাদ।

মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি তদন্ত করে হত্যাকা-ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত শিমুর স্বামী ও তার বন্ধুকে গ্রেফতার করেছে কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিমুর স্বামী নোবেল ও তার বন্ধু হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ৷

পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন বলেন, সোমবার মরদেহ উদ্ধারের পরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চিত্রনায়িকা শিমুর স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেল ও তার বন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের ফলে শিমুর স্বামী নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু ফরহাদের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, বিভিন্ন পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী নোবেলের সঙ্গে দাম্পত্য কলহ শুরু হয় শিমুর। এর জেরে ১৬ জানুয়ারি সকাল ৭ টা থেকে ৮ টার মধ্যে যেকোন সময় খুন হন তিনি।

মারুফ হোসেন বলেন, যে গাড়ি ব্যবহার করে মরদেহ গুমের চেষ্টা করা হয়েছে সেটি জব্দ করে থানায় নিয়েছি এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেছি। শিমুর স্বামী নোবেল এবং তার বাল্যবন্ধু ফরহাদ বর্তমানে থানা হেফাজতে আছে। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ