শিল্পকলায় ‘অনিয়ম’ ‘দায়িত্ব পালনে বাধ্য হয়েছি, বসের হুকুম তালিম করেছি’

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২১, ১২:০৯ অপরাহ্ণ

সৈয়দা মাহবুবা করিম মিনি (ডানে)

সোনার দেশ ডেস্ক


শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক (ডিজি) লিয়াকত আলী লাকীর বিরুদ্ধে অনিয়ম করে সরকারের ২৬ কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। লিয়াকত আলী লাকীর আদেশে পেছনের তারিখে প্রায় ২৬ কোটি টাকার চেকে স্বাক্ষর করেন একাডেমির চুক্তিভিত্তিক পরিচালক (চারুকলা) সৈয়দা মাহবুবা করিম মিনি। তার দাবি, ডিজির নির্দেশে সচিবের দায়িত্ব পালনকালে ওই চেকে স্বাক্ষর করেন তিনি।
এক প্রতিক্রিয়ায় সৈয়দা মাহবুবা করিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ডিজি লিয়াকত আলী লাকীর আদেশে একাডেমির সচিবের দায়িত্ব পেয়ে তারই হুকুম তালিম করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে তার হুকুম অমান্য করতে পারিনি। বাধ্য হয়েছি সচিবের দায়িত্ব পালন করতে। দায়িত্ব পালনকালে ডিজির অনুমোদিত ফাইলেই সই করেছি। এর বাইরে কোনও ফাইলে সই করিনি। নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে সচিবের দায়িত্ব পালন করেছি। ওই দায়িত্ব পালন করে কোনও বেনিফিশিয়ারিও (সুবিধাভোগী) হইনি।
রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের পরিচালক ও একাডেমির দুই দফায় সচিবের দায়িত্ব পালনকারী সৈয়দা মাহবুবা করিম মিনি এসব কথা বলেন।
জানা গেছে, শিল্পকলার আগের সচিব মো. নওসাদ হোসেন গত ৩০ জুন বদলি হন। ওইদিনই শিল্পকলা একাডেমির ডিজি লিয়াকত আলী লাকী নতুন আদেশ দিয়ে একাডেমির চুক্তিভিত্তিক পরিচালক (চারুকলা) সৈয়দা মাহবুবা করিম মিনিকে সচিবের দায়িত্ব দেন।
ওই আদেশে বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে একাডেমির অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার প্রয়োজনে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সচিব যোগদানের পূর্ব পর্যন্ত নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্ব তাকে প্রদান করার কথা বলা হয়। একাডেমিতে নতুন সচিব যোগদানের না করা পর্যন্ত (১৯ জুলাই) তিনি ওই দায়িত্ব পালন করেন।
মাহবুবা করিম দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম করে একাডেমির ২৬ কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে। তিনি দাবি করেছেন, কেবল ডিজির আদেশই পালন করেছেন। তার স্বাক্ষরিত ফাইলগুলোতে সই করেছেন।
নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রণালয় থেকে আদেশপ্রাপ্ত কোনও সচিব ছাড়া একাডেমির ডিজির আদেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির চেকে স্বাক্ষর করার সুযোগ নেই। শিল্পকলা একাডেমির নিয়ম অনুযায়ী মহাপরিচালকও সেটি পারেন না। বিধি অনুযায়ী ডিজি নয় সচিব এবং একাডেমির অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাই চেকে স্বাক্ষর করতে পারেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দা মাহবুবা করিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমি সচিবের দায়িত্ব নিতে চাইনি। আমাকে ডিজি মহোদয় বারবার বলার কারণেই আমি সচিবের দায়িত্ব নিয়েছি। আমাকে মৌখিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য একাধিকবার বলেছেন। আমার আগেও অনেকে এরকম দায়িত্ব নিয়েছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন। ডিজি আমার বস। তার আদেশ তো অমান্য করতে পারি না। তিনি হুকুম দিয়েছেন। তাই আমি এটা করেছি।
চেকে স্বাক্ষর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি হুকুমের তালিম করেছি। তবে আমি যেসব ফাইলে সই করেছি তার সবই ডিজির অনুমোদিত। ওনার অনুমোদিত ছাড়া কোনও ফাইল বা চেকে সই করিনি। জানা মতে অন্যায় কিছু করিনি। আর যদি কোনও প্রশ্ন থাকে সেটা ওনাকেই করতে হবে।
অর্থ বছর শেষ হয়ে যাওয়ার আগে অগ্রিম টাকা উত্তোলন প্রশ্নে সৈয়দা মাহবুবা করিম বলেন, সেরকম কোনও কিছু হয়নি। আমার এটা করারই কথা নয়। আমি চারুকলার পরিচালক। মোস্ট সিনিয়র হিসেবে আমাকে বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ডিজি লিখিতভাবে এ বিষয়ে আদেশ করেছেন। সেই আদেশের একটি কপি মন্ত্রণালয়কেও দিয়েছেন। আমাকে বলা হয়েছিল ডিজির অনুমোদিত ফাইলগুলোই দেওয়া হবে। আমি ডিজি এবং আগের সচিবের অনুমোদিত ফাইলগুলো যতটা সম্ভব দেখেশুনে দিয়েছি।

দায়িত্ব নিতে চাননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার তো এই দায়িত্ব পালন করার কথা নয়। আমি বলেছিলাম, আমি করতে ইচ্ছুক নই। যতটুকু খবর নিয়েছি এর আগেও অনেকেই নাকি করেছেন। আর যেহেতু ডিজি আদেশ করেছেন, আমি তো হুকুমের চাকর। পরিচালক হিসেবে সরাসরি ডিজির আন্ডারে কাজ করি। সেজন্য আমি বাধ্যই হয়েছি দায়িত্ব পালন করতে। আমার মনে হয়ে যাকেই দেওয়া হতো তিনি সেটা পালন করতে বাধ্য হতেন। কারণ প্রতিষ্ঠানটির ডিজিই তো সব। দায়িত্ব পালনকালে ডিজি মহোদয়ের অনুমোদিত ফাইলগুলোই আমি দিয়েছি। এর বাইরে নিজের ইচ্ছামতো কোনও ফাইল আমি দেইনি। দেওয়ার অধিকারও আমার নেই।
কোনও কাজ না করে টাকা উত্তোলন করা যায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সৈয়দা মাহবুবা করিম বলেন, এ ধরনের কোনও ফাইল তো আমার নজরে আসেনি। আমি তো সব ডিজির অনুমোদিত ফাইলে সই করেছি। কাজ শেষ না করে অগ্রিম টাকা তোলা হয়েছে এমন কোনও ফাইল আমি দেখিনি, সইও করিনি। ডিজির অনুমোদিত ফাইলগুলোতেই সই করেছি। দায়ভার তো ওনার কাছে যাবে।
বিষয়টি তদন্ত হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে আমি কিছু জানিও না।
এবার আপনাকে যখন সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেখানে বলা হয়েছে রুটিন দায়িত্ব কিন্তু আগেরবার রুটিন দায়িত্বের কথা কেন বলা হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগেরবার তো আমি দায়িত্ব নিতেই চাইনি। বলেছিলাম অর্থকড়ির কোনও দায়িত্ব আমি নেবো না।
দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ চেকে বা আর্থিক ফাইলে সই করতে পারেন কী না এমন প্রশ্নের জবাবে মিনি বলেন, এই বিষয়টি আমার জানা নেই। এটা ডিজি মহোদয় বলতে পারবেন।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন