শিল্পপতি স্যামসন এইচ চৌধুরীর জন্মদিন আজ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১, ৫:১৮ অপরাহ্ণ


এবিএম ফজলুর রহমান


দেশের শিল্পাঙ্গনে উন্নয়নের রোল মডেল। সততা, নিষ্ঠা, শ্রম, মেধা ও শৃংখলা যার সম্পদ। এ সব কর্মকাণ্ড একজন মানুষকে যে কত উপরে নিয়ে যেতে পারেন তার উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত স্কয়ার গ্রুপের কর্নধার প্রয়াত স্যামসন এইচ চৌধুরী। যিনি প্রচণ্ড আস্থা ও মনোবলকে পূঁজি করে শুন্য থেকে শিখরে পৌছেছিলেন।
এ দেশের শিল্প ও ব্যবসা প্রসারের ক্ষেত্রে যার অবদান প্রশংসনীয়। প্রতিকুল অবস্থাকে পাশ কাটিয়ে শুন্য থেকে স্কয়ার গ্রুপের তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দেশের মধ্যে শীর্ষে উঠে এসেছে। শনিবার ২৫ সেপ্টেম্বর তার ৯৫তম জন্মদিন। দেশ বরেণ্য এই শিল্পপতির জন্মদিনে করোনার কারণে তেমন কোনো কর্মসুচি রাখা হয়নি। তবে তার পরিবারের পক্ষ থেকে পাবনার এস্ট্রাস খামার বাড়িতে সংক্ষিপ্ত পরিসরে প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী স্যামসন এইচ চৌধুরী ১৯২৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার কাশীয়ানী থানার আড়–য়াকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তারা বাবা ছিলেন ইয়াকুব হোসেন চৌধুরী। স্যামসন চৌধুরী ভারতে পড়াশুনা শেষ করে ১৯৫২ সালে পাবনা জেলার আতাইকুলায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তার পিতা ছিলেন একটি ফার্মেসীর মেডিকেল অফিসার। ১৯৫৮ সালে চার বন্ধু মিলে পাবনায় গড়ে তোলেন স্কয়ার ফার্মাসিটিউক্যালস। বর্তমানে স্কয়ার ফার্মায় ৩০ হাজারসহ স্কয়ার গ্রুপের ৫০ হাজার কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, স্কয়ার আজ বাংলাদেশে শীর্ষ স্থানীয় শিল্প গ্রুপে আর এর স্বপ্নদ্রষ্টা হলেন স্যামসন এইচ চৌধুরী। ৬৩ বছর আগে স্যামসান এইচ চৌধুরীর নেতৃত্বে চার বন্ধু মিলে পাবনা শহরে শালগাড়িয়া এলাকায় যে ছোট্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেটি আজ মহিরুহ। ১৯৫৮ সালে যে প্রতিষ্ঠান দিয়ে স্কয়ারের যাত্রা শুরু হয়েছিল তার নাম ছিল স্কয়ার ফার্মা। পুঁজির পরিমাণ ছিল প্রায় ২০ হাজার টাকা। ১৯৬৪ সালে স্কয়ার ফার্মা নাম পরিবর্তন করে করা হয় স্কয়ার ফর্মাসিউটিক্যাল লিঃ। ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও ছিমছাম ছিল কারখানাটি। এখনও স্কয়ারের প্রত্যকটি কর্মকান্ডে এ ব্যাপারটি লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু সবকিছুর মধ্যে আছে ছিমছামভাব ও স্বচ্ছতা। আছে আধুনিকতা ও প্রযুক্তির ছোঁয়া। কঠোর নিয়মের মধ্যে দিয়ে চলছে সবকিছু। স্কয়ার নামের মহত্ব আরও অনেক গভীরে। সেদিন চার বন্ধু মিলে আট হাতে গড়ে তুলেছিলেন এক বর্গাকার চতুর্ভুজের। স্কয়ার মানে হচ্ছে সেই বর্গাকার চতুর্ভূজ। কিন্তু পারফেক্ট না হলে যেমন চতুর্ভূজ বর্গাকার হয় না। তেমনি নৈতিক বিশুদ্ধতা না থাকলে জীবনে সাফল্য আর লাভ করা যায় না। সেই পারফেক্টের চিন্তা থেকেই তাদের গ্রুপের নামকরণ করা হয় স্কয়ার। এ প্রসঙ্গে স্যামসান এইচ চৌধুরী ঐ সময় বলেছিলেন, ‘স্কয়ার মানেই পারফেকশন। এ জন্যই আমরা কোম্পানীর নাম রাখলাম স্কয়ার’।