শিশুদের জন্য বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট: অক্টোবর ৩, ২০১৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক
বেড়ে ওঠার পথে শিশুদের যাতে বৈষম্যের শিকার হতে না হয়, সেভাবেই সমাজকে গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, “আমরা চাই, আমাদের দেশে ধনী, দরিদ্র, প্রতিবন্ধী- যে শিশুই হোক, সকলের যেন সমান অধিকার থাকে। কোনো বৈষম্য যেন না থাকে।”
সোমবার বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহের উদ্বোধন করে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যেহেতু আমাদের শিশুরাই হচ্ছে ভবিষ্যৎ, তাদেরকে আমাদের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে। পারিবারিক, সাংস্কৃতিক বা সামাজিক প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই তাদের যে মেধা তা বিকাশের যেন সুযোগ থাকে, সেই সুযোগটা আমাদের সৃষ্টি করতে হবে।”
তিনি প্রতিটি শিশুর জন্য খাবার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সেই সমাজ তিনি গড়ে তোলার কথা বলেন, যেখানে বৈষম্য বলে কিছু থাকবে না।
“আপনাদের আশপাশে যারা দরিদ্র শিশু; সেই শিশুটি কেমন আছে, সে লেখাপড়া করতে পারছে কি না, পোশাক আছে কি না বা পেট ভরে খেতে পারছে কি না- যারা বিত্তবান তারা দয়া করে এই শিশুদের দিকে নজর দেবেন, সেটাই আমি আহ্বান জানাব।”
শেখ হাসিনা বলেন, কেউ দরিদ্র হয়ে জন্মায় না। ‘ভাগ্যচক্রে’ কারও দরিদ্র পরিবারে জন্ম হলে তাকে দারিদ্র্য মোকাবিলা করতে হয়; ধনীর ঘরে জন্মালে তা হয়  না।
“কাজেই এই ব্যবধানটা যেন শিশুদের মধ্যে কোনোমতে না দেখা দেয়। প্রতিটা শিশু তার অধিকার যেন নিশ্চিতভাবে পায়- সেটা সকলে দেখবেন, এটা আমি আশা করি।”
প্রধানমন্ত্রী শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় বঙ্গবন্ধুর সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা স্মরণ করেন, সেইসঙ্গে বর্তমান সরকারের সময় নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হচ্ছে, ঝরে পড়া রোধ করতে নানা উদ্েযাগ নিয়েছে সরকার; চালু করা হয়েছে মিড ডে মিল।
“ধীরে ধীরে সব বই ই-বুক করে দেওয়া হবে। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করে দেওয়া হচ্ছে। পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় আবাসিক স্কুল করে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা বাড়াতেও সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেক উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম করে দেয়া হচ্ছে; স্কুল থেকে নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ করে দিতে প্রতিটি স্কুলে স্টুডেন্ট কাউন্সিল গঠনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “একটু সুযোগ সৃষ্টি করলে আমাদের ছেলে-মেয়েরা অনেক ভাল কিছু করতে পারে। আমরা চাই এদেশের কোনো মানুষ দরিদ্র থাকবে না, কোনো শিশু মায়ের কোলে ধুকে ধুকে মারা যাবে না। প্রত্যেকটা মানুষ তার জীবনের অধিকার পাবে।”
শেখ হাসিনা বলেন, “১৬ কোটি মানুষের খাবার আমরা নিশ্চিত করেছি। তাহলে আমার শিশুরা কেন কষ্ট পাবে, কেন পুষ্টিহীনতায় ভুগবে? সেজন্য আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছি, বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।”
অন্যদের মধ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।- বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ