শিশুদের মূর্খ বানাবে সোশ্যাল মিডিয়া

আপডেট: অক্টোবর ১, ২০২২, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

এ.এস.এম. শাহরিয়ার জাহান, তথ্য-প্রযুক্তিবিদ:


প্রযুক্তির উৎকর্ষতার যেমন ভালো দিক রয়েছে, তেমনি রয়েছে বিপরীত ফলও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাত্রতিরিক্ত ব্যবহার তেমনই আশংকার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কয়েক বছর আগে বুকার পুরস্কার বিজয়ী ব্রিটিশ লেখক হাওয়ার্ড জ্যাকবসনের মতে, স্মার্টফোন ও ফেসবুক-টুইটারসহ বিভিন্ন রকম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে আগামী ২০ বছরের মধ্যে শিশুরা অশিক্ষিত হবে। স্মার্টফোনের ব্যবহার এবং প্রচুর পরিমাণে ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের কারণে নাটকীয়ভাবে তরুণদের যোগাযোগের পদ্ধতি বদলে যাচ্ছে। আর এসবের কারণে তারা হারাচ্ছে বই পড়ার অভ্যাসও।

তিনি জানান, শুধু তরুণরাই নয়, তিনি নিজেও বইয়ের প্রতি আর তেমন মনোযোগ দিতে পারেন না। কারণ তার মনোযোগের একটা বড় অংশও চলে যায় মোবাইল-কম্পিউটারের স্ক্রিনের পেছনে। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বর্তমানে শিক্ষার মান অনেক কমে গেছে। এক গবেষণায় পাওয়া যায় মাত্র ৪৩ শতাংশ মানুষ বছরে মাত্র একটি বই পাঠ করেছেন। স্মার্টফোনে আসক্ত ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুরা সপ্তাহে গড়ে প্রায় ১৫ ঘণ্টা অনলাইনে কাটিয়ে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে কিশোর বয়সীদের মধ্যে একাকিত্বের মাত্রা সবচেয়ে বেশী।

শুধু অল্পবয়সীরাই নয়, স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেটের যথেচ্ছ ব্যবহার বিভিন্ন বয়সী মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দেখা যাচ্ছে সন্তানকে সচেতন করবে যে বাবা-মা বা শিক্ষক, তারা নিজেরাই এসবের নেতিবাচকতা দ্বারা আক্রান্ত। তাই এটা একটা ভয়ানক সমস্যার দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং অবশ্যই এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কার্যকর সামাজিক প্রচার-প্রচারণা ও সচেতনতামূলক কর্মকান্ড থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।