শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি! শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার দায় সবাইকে নিতে হবে

আপডেট: নভেম্বর ১৯, ২০২২, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

শিশু নির্যাতনের ফলে শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া ছাড়াও রোগ প্রবণতা তাদের সুস্বাস্থ্যের ব্যাপারে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের প্রকোপ ১৬ দশমিক ২ শতাংশ, যার মধ্যে ছেলে শিশুর সংখ্যা বেশি। অতিরিক্ত সময় বসে থাকা, স্থূলতা এবং শারীরিক পরিশ্রম না করাকে ঝুঁকির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোভিড মহামারি চলাকালীন ২০ শতাংশ কিশোর-কিশোরী বিভিন্ন মাত্রার অনিদ্রায় আক্রান্ত হয়েছিল, যার মধ্যে যথাক্রমে ১৮ শতাংশ, ১৪ শতাংশ এবং ১৬ শতাংশের বিষণœতা, উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তা ছিল।
১৭ নভেম্বর ‘বিশ্ব শিশু দিবস-২০২২’ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের আয়োজনে (বিএসএমএমইউ) ‘শিশু স্বাস্থ্য, বিকাশ ও সুরক্ষা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিভাগটির বিগত পাঁচ বছরে শিশুদের নিয়ে বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এই গবেষণা ফলাফল দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
শিশু অধিকার এবং সুরক্ষা বিষয়ে অসচেতনতা ও উদাসীনতার ফলে এ ধরনের সঙ্কট সৃষ্টি হচ্ছেÑ এটা খুবই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। আমরা শিশুদের মধ্যে সম্ভাবনা ও সুন্দর ভবিষ্যত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ঘাটতির স্বরূপটাও স্পষ্ট হয়েছে। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, শিশুদের জন্য একটা উন্নত ব্যবস্থা ও পরিবেশ গড়ে তোলা যায়নি। সুরক্ষার জন্য যে আইনি ব্যবস্থা আছে তাও কার্যকর উদ্যোগের মধ্যে আনা সম্ভব হচ্ছে না। বরং শিশুর প্রতি যে অবহেলা ও নির্যতনের সংস্কৃতি বিদ্যমান সেখান থেকে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতনের প্রবণতা অনেকটাই কমে এসেছে কিন্তু এটা সর্বোতভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এখনো অনেক অভিভাবক ও শিক্ষক আছেন যারা শিশুর প্রতি নির্যাতনকে সঠিক মনে করেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো শিশুদের ওপর নির্যাতনেন ঘটনা ঘটছে। শিশুশ্রমের বিষয়টি কোনো ক্রমেই বাগে আনা যায় নি। শিশুদের ব্যবহার করে অবৈধ ও নিষিদ্ধ কাজ করার প্রবণতাও আছে। পরিবারের মধ্যেও শিশুর অধিকার সুরক্ষা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এর জন্য দরিদ্রাবস্থার সাথে পরিবারের দায়িত্ব-উদাসীনতাও দায়ী।
শিশুদের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশের স্বপ্নটা বহুদিনের। কিন্তু শিশুদের জন্য বড়দেন ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের প্রতি বড়দের সহজ ও বন্ধুসুলভ আচরণ-বৈশিষ্ট্য ঠিক করা না গেলে শিশুর মানসিক সুস্থতার প্রতি অবিচার থেকেই যাবে। শিশু পরিবারের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ তা রাষ্ট্রের জন্যও। এই ভাবনার ঐক্যটা খুবই জরুরি। যা শিশুকে আনন্দ ও তার প্রশ্নের উত্তর খোঁজা এবং উত্তর পাওয়ার মত পরিবেশ সৃষ্টি করার দায়িত্বটা পরিবার ও রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। এটা অস্কীকার করার উপায় নেইÑ যখন আমরা বলছি শিশুরাই দেশের ভবিষ্যত।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ