শিশুরা তীব্র রুগ্নতার শিকার হতে পারে এখনই পদক্ষেপ নেয়ার সময়

আপডেট: জুলাই ৩০, ২০২০, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

দেশ এখন নানাবিধ সঙ্কটের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছে। বৈশ্বিক কোভিড-১৯এর প্রাদুর্ভাবে অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও এর নিষ্ঠুর থাবা পড়েছে। ইতোমধ্যেই দুই লক্ষাধিক মানুষ করোনায় সংক্রমিত হয়েছে এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। করোনা উদ্ভুত নানা সঙ্কটের মুখে দেশ। অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সাথে সাথে মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। মানুষ কাজ হারিয়েছে, জীবিকা সঙ্কটের মুখে পড়েছে। করোনা আপদের সাথে ‘গোদের ওপর খাড়ার ঘা’Ñ এর মত বন্যায় দেশের ১৫৪ উপজেলার ৪৮ লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারের হিসেব মতে অতিবর্ষণের কারণে সৃষ্ট বন্যায় দেশের বিভিন্ন জেলায় এখন পর্যন্ত ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যার্ত এলাকায় মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই।
এই পরিস্থিতিতেও দেশের ১৭ কোটি মানুষের ভরসার স্থল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা সংকটে দেশে যেন খাদ্য ঘাটতি না হয় সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৮ জুলাই গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভার সূচনা বক্তব্যে একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এটা ঠিক করোনা ভাইরাস আমাদের অনেকটা পিছিয়ে দিচ্ছে। তারপরও আমাদের কৃষির যে অগ্রগতি এটা ধরে রাখতে হবে। আমাদের মানুষের আর যাই হোক তাদের খাদ্যের অভাবটা যেন না হয়। সেটা আমাদের দেখতে হবে।
সন্দেহ নেই প্রধানমন্ত্রী জাতির জন্য সাহসী প্রতিচ্ছবি। অতিবর্ষণে ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নানাবিধ এই সঙ্কটের মুখে দেশের দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে খাদ্যের সমস্যা যাতে না হয় সেই বিষয়টিও এই মুহূর্তে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
জাতিসংঘ শিশু তহবিলÑইউনিসেফ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে করোনা মহামারির আর্থ-সামাজিক প্রভাবের কারণে ২০২০ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় পাঁচ বছরের কম বয়সী বাড়তি ৩৯ লাখ শিশু তীব্র রুগ্নতার শিকার হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এ তথ্য জানিয়ে অপুষ্টি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় জোরালো পদক্ষেপের আহ্বান জানায় সংস্থাটি।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি বলেছেন, অপুষ্টি মা ও শিশুদের মধ্যে কোভিড-১৯ এর প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, যে সংকট পরবর্তী বহু প্রজন্ম পর্যন্ত জারি থাকতে পারে। অপরিহার্য পুষ্টি পরিষেবাগুলো যাতে সম্পূর্ণ সচল থাকে এবং বাবা-মায়েরা যাতে তাদের শিশুদের পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে নিরাপদ বোধ করে তা নিশ্চিত করতে বৃহত্তর প্রচেষ্টার প্রয়োজন।
বাংলাদেশে অপরিহার্য পুষ্টি সেবাসমূহের ধারাবাহিকতা উন্নয়নের জন্য ভিটামিন ‘এ’ সাপ্লিমেন্ট বাড়াতে, তীব্র রুগ্নতায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দিতে, ছোট শিশুদের উন্নত খাবার পদ্ধতি সম্পর্কে প্রচারণা চালাতে এবং অন্তঃসত্তা নারীদের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সাপ্লিমেন্ট সরবরাহ করতে ইউনিসেফ সরকার ও অন্যান্য অংশীদারদের সহযোগিতা দেয়।
বাংলাদেশে পুষ্টিমান উন্নয়নের কার্যক্রম অব্যাহত আছে বটেÑ কিন্তু বর্তমান উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিশেষ কর্মসূচির-উদ্যোগ বাস্তবায়নের সময় এসেছে। শিশুরা যাতে তীব্র রুগ্নতার শিকার না হয় সেই চ্যালেঞ্জও বাংলাদেশের সামনে। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার এখনই সময়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ