শিশু অধিকার বিষয়ক সভায় ‘বিশেষ প্রেক্ষাপট’ বাতিলের আহবান

আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০১৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৬’ এর ‘বিশেষ প্রেক্ষাপট’ বিধানটি শিশুদের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করবে। সারাদেশে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে তাতেও ভাটা পড়বে এই বিধানের কারণে। ফলে বাল্যবিবাহ আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে যাবে। গতকাল সোমবার নগরীতে শিশু অধিকার বিষয়ক এক মতবিনিয়ম সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
গত ২৪ নভেম্বর মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৬’ চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। ওই আইনে বলা হয়, ‘বিশেষ প্রেক্ষাপট’ বিবেচনায় ছেলে-মেয়েদের অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে দেয়া যাবে। তবে শিশু অধিকার কমিশন ও অপশোনাল প্রটোকল থ্রি (ঐচ্ছিক চুক্তি-৩) বিষয়ক রাজশাহীর এ মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেছেন, ওই আইনটির অস্পষ্টতায় দরিদ্র পরিবারে বাল্যবিয়ের হার বেড়ে যাবে। টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। তাই তারা ‘বিশেষ প্রেক্ষাপট’ বাতিলে বিষয়টি পুনঃবিবেচনার আহ্বান জানান।
গতকাল সকালে নগরীর নানকিং কমিউনিটি সেন্টারে এই মতবিনিয়ম সভার আয়োজন করা হয়। চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ এর আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করে এসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট (এসিডি)। সভায় সভাপতিত্ব করেন, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আতাউল গণি। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন, এসিডির নির্বাহী পরিচালক সালীমা সারোয়ার। সভায় এর উদ্দেশ্যে তুলে ধরেন, আসকের শিশু অধিকার ইউনিটের উপ-পরিচালক মকসুদ মালেক।
বাংলাদেশে শিশু অধিকার কমিশন খসড়া আইন-২০১৬ এর প্রেক্ষাপট ও অগ্রগতি তুলে ধরে বক্তব্য দেন আসকের শিশু অধিকার ইউনিটের সমন্বয়ক রাশেদা আক্তার। এছাড়া সভায় মুক্তআলোচনায় অংশ নেন, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) রাজশাহী অঞ্চলের সমন্বয়ক সুব্রত পাল, এনসিটিএফ’র রাজশাহীর সভাপতি জিয়ানা বিনতে জাহিদ মৌরিন, সহ-সভাপতি মুনতাসির মুবিন নাশিত, চাইল্ড পার্লামেন্ট মেম্বার আবদুল আজিজ, আইনজীবী এসএম ফয়সাল আহসান, বিশ্বজিৎ বিশ্বাস, সাদিকুল ইসলাম প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, শিশুরা পড়বে এমন লেখার ক্ষেত্রে শব্দচয়নে আরও সতর্ক হতে হবে। শিশুরাই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে দেয়া যাবে না। তাই এই সভায় উঠে আসা নানা প্রস্তাবনা তিনি কমিশনে জমা দেবেন।