শিশু আইন মেনে চলার তাগিদ ।। শিশুদের ভবিষ্যত নির্মাণের জন্যই প্রয়োজন

আপডেট: ডিসেম্বর ৫, ২০১৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

আইন আছে, আইন না মানার প্রবণতাও আছে। আইান শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে যারা নিয়োজিত আছেন তারাও জ্ঞানে- অজ্ঞানে এই আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে থাকেন। ফলে শিশুরা নিপীড়নের শিকার হয় এবং তাদের অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণœ হয়। শিশুরা বড়দের কাছ থেকে সেই আচরণই প্রত্যাশা করে যা তাদের শরীর ও মনোজগতের বিকাশ ঘটাতে সহায়তা করে। কিন্তু বাস্তবিক ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না। যে কারণে আদালতকে শিশু আইন ২০১৩ এর বিধান কার্যকর করার জন্য তাগিদ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুয়ায়ী কোন শিশু গ্রেফতার হলে শিশু আদালতকে শিশু আইন-২০১৩ এর বিধান সাপেক্ষে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতির আদেশক্রমে বুধবার সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক সার্কুলার সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়, শিশু আইন-২০১৩ বলবৎ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কর্তৃক ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এর ৫৪ ও ৫৫ ধারায় শিশুদের গ্রেফতার করার বিষয় সুপ্রিমকোর্টের ‘স্পোশল কমিটি ফর চাইল্ড রাইট্স’-এর গোচরিভুত হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়, শিশু আইন-২০১৩ এর ৪৪(১) ধারার বিধান মতে ৯ বছর বয়সের নি¤েœ কোন শিশুকে গ্রেফতার বা আটক রাখা যাবে না এবং ৪৪(২) ধারার বিধান মতে শিশুকে গ্রেফতারের পর গ্রেফতারকারী পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতারের কারণ, স্থান, অভিযোগের বিষয়বস্তু ইত্যাদি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে শিশু বিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তাকে অবহিত করবেন। প্রাথমিকভাবে ওই শিশুর বয়স নির্ধারণ করে নথিতে লিপিবদ্ধ করবেন। যদি কোন সুনির্দিষ্ট অপরাধে কোন শিশুকে আটক করা হয় তখন থানার শিশু বিষয়ক ডেস্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উক্ত শিশুর পিতামাতা ও প্রবেশন অফিসারকে অবহিত করবেন এবং শিশুর বয়স নির্ধারণের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
আইনের বিধান যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে না বলেই সুপ্রিম কোর্টের ওই নির্দেশ জারি হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে অর্থাৎ ১৯৭৪ সালেই বঙ্গবন্ধু সরকার শিশু আইন প্রণয়ন করেছিলেন। তিনি শিশুদের ভবিষ্যত চিন্তা মাথায় রেখেই শিশুর অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ শিশু আইন প্রণয়নের ১৬ বছর পর জাতিসংঘ শিশু সনদ প্রণয়ন করে। বঙ্গবন্ধু চিন্তায় কতটা অগ্রসর ছিলেন শিশু আইন প্রণয়ন তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
দেশের শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টির সুরক্ষার মান পর্যবেক্ষণ করেই বলে দেয়া যায় একটি দেশের সভ্যতার মান। শিশুর উন্নত জীবন মানেই একটি দেশের উন্নত, উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যত। তাই উন্নত দেশগুলোতে শিশুর স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেখা হয়। জাতিসংঘ সনদের মৌল নীতি তাই যা পৃথিবীর দেশসমূহকে মেনে চলার তাগিদ দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ অনেক আগেই শিশুদের অধিকারকে আইনি সুরক্ষা দিলেও তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে মোটেও সুবিচার করা যায় নি। বাংলাদেশের সিংহভাগ শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এটির একটি অন্যতম কারণ হলো- আমাদের সংস্কৃতিতেই শিশুর প্রতি সহিংসতার চর্চা আছে।। শিশুকে নির্যাতনের জন্য নানা অজুহাত তৈরি করা হয়েছে। আইনের অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে।
কিন্তু সময় বদলাচ্ছেÑ ইতিবাচকভাবে বদলানোর জন্যই আমাদের শিশুদের ভবিষ্যত নির্মাণ করতেই হবে। দেশকে উন্নত দেশের মর্যাদায় নিতে হলে উন্নত মানবসম্পদ সৃষ্টিই প্রধান শর্ত। উচ্চ আদালত যে নির্দেশনা দিয়েছে আমরা আশা করি তা বাস্তবায়িত হবেÑ যার মধ্য দিয়ে আমরা শিশুদের জন্য উন্নত ভবিষ্যতের লক্ষ্য ধরে এগুতে পারি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ