শিশু পুষ্টির জন্য জলবায়ু পরিবর্তন বড় হুমকি শিশুর স্বার্থ সুরক্ষাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ

আপডেট: অক্টোবর ১৮, ২০১৯, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ নানাদিক থেকেই উন্নতি করছে। উন্নতির এই ধারা দেশের অর্থনীতিকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে সহায়ক হচ্ছে। কিন্তু শিশুদের ব্যাপারে উন্নতির চেহারাটা মোটেও সন্তোষজনক নয়। দেশের শিশুদের সুস্থ-সবল ও উন্নত ভবিষ্যতের বিষয়টি এখনো খুব দুর্বল অবস্থার মধ্যে আছে। নতুন নতুন সমস্যারও উদ্ভব হচ্ছে যা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠারও কারণ। অথচ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-এসডিজি অর্জনে শিশুদের উন্নতি অন্যতম একটি শর্ত।
জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ-এর নতুন এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ৪৫ শতাংশেরও বেশি পুষ্টিহীন বা অতিরিক্ত ওজন ও গুরুতর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির মুখে রয়েছে। আর বাংলাদেশে শিশু পুষ্টির জন্য জলবায়ু পরিবর্তন একটি বড় হুমকি। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। যদিও বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে অনেকটা ভাল াবস্থায় আছে। সেখানের ৫৪ শতাংশ শিশু অপুষ্টির শিকার। কিন্তু ইউনিসেফ প্রতিবেদনে সতর্ক করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশ উদ্বেগের বাইরে নয়। জলবায়ু পরিবর্তনকে বাংলাদেশের শিশু পুষ্টির জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এক কোটি ৯০ লাখেরও বেশি শিশু জলবায়ু পরিবর্তনে বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে রয়েছে। বন্যার ভয়াবহতা ও নদী তীর ভাঙনের ফলে পরিবারগুলো শহরের বস্তিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। সেখানে লোকজনের উপচেপড়া ভিড় বিরাজ করে। এসব বস্তিতে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য এবং পুষ্টি পরিষেবার অভাব রয়েছে। ফলে শিশুরা পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবারের অভাবে ভুগছে। চরম জলবায়ু সংক্রান্ত ঘটনা যেমন খরা ও বন্যার ফলে কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যা ও খরায় ফলন কমে গিয়ে খাবারের দাম বেড়ে যায়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দরিদ্র পরিবারগুলো।
বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য সামর্থ অর্জন করলেও দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। যে সময়টাতে দুর্যোগকবলিত দরিদ্র মানুষ সত্যিকার অর্থেই খুবই ঝুঁকিপূর্ণ জীবন-যাপন করে। নিরাপদ পানি ও খাদ্য, চিকিৎসার মত মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত থাকে। এই সময়গুলোতে নগদ অর্থ ও কর্মসংস্থানের অভাব প্রকট হয়ে ওঠে। এমনকি কোনো কোনো পরিবার পূর্বের অর্থনৈতিক অবস্থাতেও ফিরে যেতে পারে না। এসব পরিবারের শিশুরা সবচেয়ে বেশি অপুষ্টির শিকারে পরিণত হয়। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও অনেক ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতিকে সঠিকভাবে বিবেচনা করা হয় না। যার প্রভাব গিয়ে পড়ে দরিদ্র মানুষের ওপর। এটা এমন এক পরিস্থিতি যা দারিদ্র বিমোচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।
এসডিজি বাস্তবায়নের লক্ষে এই পরিস্থিতিকে সঠিকভাবে বিবেচনা করতে হবে। উন্নত পরিকল্পনা ও দায়বোধের বিষয়টিকে রাষ্ট্রীয় নীতির পর্যায়ভুক্ত করতে হবে। এটি একটি রাজনৈতিক সদিচ্ছা যা ওইসব দরিদ্র মানুষের প্রতি প্রকৃতঅর্থেই দায়বোধ তৈরি করবে। বাংলাদেশ সে দৃষ্টান্ত বাস্তবায়নে জলবায়ু খাতে বরাদ্দ রেখেছে। এই তহবিলের আরো সমৃদ্ধি ও উন্নত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। দুর্যোগকালীন পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে কোনো পরিবার যাতে অভুক্ত না থাকে, গৃহহীন হয়ে না পড়ে, কর্মহীন হয়ে না পড়ে তার নিশ্চয়তা অবশ্যই থাকতে হবে। তবেই আমাদের শিশুদের উন্নত ভবিষ্যতের জন্য ধাপসমূহ অতিক্রম করা সহজ হবে। শিশুর স্বার্থ সুরক্ষাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ