বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

শিশু শিক্ষার্থীকে দিয়ে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

আপডেট: December 1, 2019, 1:23 am

শিশু শিক্ষার্থীকে দিয়ে মূল্যায়নের সময় দিনাজপুরের বিরামপুরে জেএসসির (জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ১০০টি খাতা জব্দ করা হয়েছে। ২৫ নভেম্বর বিরামপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে জিয়াউর রহমান নামে এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে খাতাগুলো জব্দ করেন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর আলম। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সম্প্রতি দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী খাতাগুলো মূল্যায়নের জন্য ওই বাড়ি থেকে জেএসসিতে অংশ নেয়া শিক্ষার্থী অনিককে দেয়া হয়েছিল। তাদেরই প্রতিবেশী শিক্ষক সাহানুর রহমান খাতাগুলো অনিককে দিয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
জিয়াউর রহমানের স্ত্রী দিলরুবা বেগম বলেন, ‘শিক্ষক সাহানুর রহমান ২৫০টি খাতা দিয়ে গিয়েছিলেন। এরমধ্যে মূল্যায়ন করা ১৫০টি খাতা নিয়ে গেছেন। বাকি ১০০টি খাতা ছিল। খাতাগুলো মূল্যায়ন করেছে আমার ছেলে অনিক। বাকি ১০০টি খাতা মূল্যায়ন হয়ে গেলে সাহানুর রহমানের স্ত্রী শাহানাজ বেগমের নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।’
শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন বিশৃঙ্খলা নতুন কিছু নয়। ঘটনা ঘটিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা হয় না বলেই এ ধরনের ঘটনা থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। সাহানুর রহমানের রহমানের মত এমন দায়িত্বহীন শিক্ষক মোটেও কম নেই। তারা শুধু পদেই শিক্ষক কিন্তু তাদের মধ্যে পেশাদারিত্বের লেশ মাত্র নেই। এই শিক্ষকরা আরো অনেক ধরনের অনিয়ম দুর্নীতির সাথে নিজেদের জড়িয়ে রাখেন। সন্দেহ নেই তারা দুঃসাহসী। দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষকরা শিক্ষা উন্নয়নের নিয়োজিত অসৎ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করতে পারে বলেই তারা সাহসী হয়ে ওঠে।
দিনাজপুরের বিরামপুরের মত ঘটনা মোটেও বিরল নয়Ñ পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের কাজ হলেও তা পরিবারের অন্য সদস্যরাও করে থাকেÑ এমন খবরও সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। শিক্ষকরা এরকম অনৈতিক কাজে হরহামেশাই জড়িয়ে পড়েন- যা পুরো শিক্ষক সমাজের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। একজন শিক্ষক কতখানি পদস্খলন হলে তার ছাত্রের হাতে নকল তুলে দিতে পারেন কিংবা নকলে সহায়তা করতে পারেন? এমন অপরাধও সংঘটিত হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ এ ধরনের শিক্ষকদের জন্য সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হচ্ছে না। কেননা এই শিক্ষকরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেও খুব একটা প্রতিকার পাওয়া যায় না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ সমুন্নত রাখতে এ ধরনের শিক্ষরাই বড় প্রতিবন্ধকতা এবং এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করাও বড় চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার।
দিনাজপুরের বিরামপুরে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। তবে ওই খাতা জব্দের মধ্য দিয়ে এটা পরিস্কার হয়েছে যে, খাতাগুলি পড়শীর হেফাজতে থাকার নয়। সংশ্লিষ্ট মূল্যায়নকারী শিক্ষকের হেফাজতে থাকার কথা। এ ক্ষেত্রে অপরাধচিত্র বেশ দৃশ্যমান। আমরাও চাই তদন্ত হোক এবং দোষির শাস্তি নিশ্চিত হোক। কোনোভাবেই যাতে অপরাধী পার পেয়ে না যায়। নতুবা শিক্ষা ক্ষেত্রের জঞ্জাল কোনোভাবেই দূর করা সম্ভব হবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ