শীতের তীব্রতা কম এবছর

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৭, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



রাজশাহীতে এ বছর শীতের তীব্রতা অন্যান্য বছরের তুলনায় কম। গত এক যুগের মধ্যে এবছর জানুয়ারি মাসে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা থাকলেও শীতের তীব্রতা কম ছিল। গত এক যুগের ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসের গড় সর্বনি¤œ তাপমাত্রাও বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর গড় সর্বনি¤œ তাপমাত্রাও বেশি ছিল। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থাও ২০১৬ সালকে সবচেয়ে উষ্ণতম বছর হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতের তীব্রতা অনেক উপাদানের ওপর নির্ভর করে। শুধু তাপমাত্রা ওপরেই শীতের তীব্রতা নির্ভর করে না। যেমন এবছর সর্বনি¤œ তাপমাত্রা থাকলেও অন্যান্য বছরের তুলনায় সবমিলিয়ে শীতের তীব্রতা ছিল কম। এছাড়া সর্বনি¤œ গড় তাপমাত্রাও ছিল বেশি। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, গাছপালা কেটে ফেলা, মাটি ও পরিবেশ দূষণের কারণে ভূপৃষ্টের বরফ গলে যাচ্ছে। এর ফলে সমুদ্রপৃষ্টের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রার পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া আকাশে দীর্ঘসময় কুয়াশা ও দুপুরে  প্রতিদিন রোদ থাকার কারণে শীতের তীব্রতা বেশি ছিল। এবছর যা শীত অনুভূত হয়েছে তার মূল কারণ ছিল শৈত্য প্রবাহ।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর ডিসেম্বর মাসে সর্বনি¤œ গড় তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা অন্যান্য বছরের তুলনায় সবচেয়ে বেশি। অন্যান্য বছর সাধারণত ডিসেম্বর মাসে সর্বনি¤œ গড় তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিকটেই থাকে। এবছর জানুয়ারি মাসে সর্বনি¤œ গড় তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ২০০৫, ২০০৯, ২০১২, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে জানুয়ারি মাসে সর্বনি¤œ গড় তাপমাত্রা এবছরের চেয়ে বেশি ছিল।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ আশরাফুল ইসলাম বলেন, এবছর ডিসেম্বর মাসে যে গড় সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিল তা অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় অনেক বেশি। সাধারণত ডিসেম্বর মাসে এত বেশি তাপমাত্রা থাকে না। তবে জানুয়ারি মাসে তাপমাত্রা কিছুটা কম থাকলেও অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর শীতের তীব্রতা অনেক কম। শৈত্য প্রবাহ না থাকলে এবছর আরো কম শীত অনুভূত হতো।
শীত কম অনুভূত হওয়ার কারণ হিসেবে আশরাফুল ইসলাম বলেন, অনেক কারণেই শীতের তীব্রতা কমে। এবছর যেমন দীর্ঘসময় আকাশে মেঘ ছিল। আর আকাশে মেঘ থাকলে তাপমাত্রা কমে না। তখন শীত কম অনুভূত হয়। প্রায় প্রতিদিন দিনে আকাশে রোদ উঠেছে। এছাড়া কৃষি জমি দূষণ, পুকুর ভরাট, বাড়িঘর বৃদ্ধি ও বনজঙ্গল কাটা পড়ার কারণে সারাদেশেই এবছর শীতের তীব্রতা কম অনুভূত হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. রকীব আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের পিছনে রয়েছে উচ্চ চাপ বলয় ও নি¤œ চাপ বলয় সৃষ্টি। এই বলয় একটা প্যাটার্ন অনুসরণ করে চলে। বায়ুপ্রবাহ এই প্যাটার্ন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বায়ুপ্রবাহের এই প্যাটার্নে হেরফের দেখা দেয়ায় বাংলাদেশে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর শীতের তীব্রতা কম।