বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

শীতে কানের ইনফেকশন এড়াতে করণীয়

আপডেট: December 10, 2019, 1:26 am

সোনার দেশ ডেস্ক


শুধুমাত্র শিশুদের কানেই ইনফেকশন হয় না, বড়দেরও এ সমস্যা হতে পারে। আপনার কানে ব্যথা বা ভারী বা ভরা অনুভূতি হলে অথবা কান থেকে তরল বের হলে অথবা শুনতে সমস্যা হলে এটা ধারণা করা যায় যে সেখানে ইনফেকশন হয়েছে।
বছরের যেকোনো সময়ে কানে ইনফেকশন হতে পারে, কিন্তু শীতকালে এর ঝুঁকি অন্য মৌসুমের চেয়ে বেশি। শীতের মাসগুলোতে কোল্ড ও ফ্লু কানের ইনফেকশনের মতো সেকেন্ডারি ইনফেকশনে ভোগাতে পারে।
সাধারণত মধ্যকানে প্রতিবন্ধকতা হলে ও বায়ু চলাচল করতে না পারলে ইনফেকশন হয়ে থাকে, কারণ সেখানে ব্যাকটেরিয়ার জন্য আদর্শ বাসস্থান তৈরি হয়। কেক মেডিসিন অব ইউএসসি’র নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ জন এস. ওঘালাই বলেন, ‘নাক ও মধ্যকানকে সংযোগকারী ইউস্ট্যাশিয়ান টিউবে ব্লক হলে ও তরল জমে থাকলে কানে অ্যাকিউট ইনফেকশন হতে পারে। শিশুদের কানে ইনফেকশন হওয়ার প্রবণতা বেশি, কারণ তাদের ইউস্ট্যাশিয়ান টিউব অধিক খাটো ও সমতলীয় বলে এ নালীগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার হতে পারে না।’
যেহেতু শীতকালে কানের ইনফেকশনের ঝুঁকি বেশি, তাই এসময় সুস্থ থাকতে কানের বাড়তি যত্ন নিতে হয়। এখানে শীতে কানের ইনফেকশনে প্রতিরোধে কিছু পরামর্শ দেয়া হলো।
ঠান্ডার ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকুন: কানের ইনফেকশনের অন্যতম কারণ হচ্ছে ঠান্ডা লাগা। শীতকালে ঠান্ডার ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যতবেশি অসুস্থ হবেন, কানে ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি তত বেড়ে যাবে। তাই আপনার মুখমণ্ডল স্পর্শ করা ও খাবার খাওয়ার পূর্বে হাত ধুয়ে নিতে ভুলবেন না। বাইর থেকে এসে ঘরের কিছু স্পর্শ করার আগেই হাত ধুয়ে নেয়া ভালো। ঠান্ডা বা সর্দিতে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকুন।
নাসাল ইরিগেশন করুন: শীতকাল এলেই যাদেরকে কানের ইনফেকশনে ভুগতে হয় তাদের জন্য ডা. ওঘালাইয়ের পরামর্শ হচ্ছে নিয়মিত নাক পরিষ্কার করা, এতে ইনফেকশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পথ পরিষ্কার থাকে। তিনি জানান, ‘কানের ইনফেকশন প্রতিরোধের একটি সেরা উপায় হচ্ছে প্রতিদিন স্যালাইন দিয়ে নাসাল ইরিগেশন করা। নাক পরিষ্কারের এ প্রক্রিয়ায় ন্যাসোফ্যারিঙ্কস বা নাকের পেছন (যেখানে ইউস্ট্যাশিয়ান টিউবের মুখ রয়েছে) থেকে ইরিট্যান্ট ও অ্যালার্জেন দূর হয়।’
ফ্লুর টিকা নিন: কানকে ইনফেকশন থেকে বাঁচাতে কেবলমাত্র ঠান্ডা প্রতিরোধী ব্যবস্থা অবলম্বন করাই যথেষ্ট নয়, আপনার যেন ইনফ্লুয়েঞ্জা না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। ফ্লুতে আক্রান্ত হলে এ রোগের জীবাণু কানে প্রবেশ করে ইনফেকশন সৃষ্টি করতে পারে। এ রোগের ঝুঁকি কমাতে শীতের শুরুতে ফ্লুর টিকা নিতে পারেন। ফ্লুর ঝুঁকি কমানোর অর্থ হলো কানে জীবাণু প্রবেশের সম্ভাবনা কমিয়ে ফেলা।
অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে রাখুন: শীতকালে কারো কারো অ্যালার্জির প্রবণতা বেড়ে যায়, যা কানের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। কিন্তু অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে রেখে কানের নালীতে ফোলা অথবা কানের ইনফেকশন এড়াতে পারেন। শীতকালে বাইরের চেয়ে ঘরের অ্যালার্জেন দ্বারা অ্যালার্জিতে ভোগার সম্ভাবনা বেশি, একারণে নিয়মিত ঘর ও ঘরের জিনিসপত্র বা বিছানাপত্র পরিষ্কার করতে হবে। ঘরের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে অন্যতম অ্যালার্জেন ছত্রাকের বিস্তার ঘটে, তাই ঘর যেন ছত্রাকের জন্য আদর্শ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। ডা. ওঘালাই ফ্লোনেস বা ন্যাসোনেক্সের মতো অ্যান্টি-অ্যালার্জি নাসাল স্প্রে ব্যবহার করতে পরামর্শ দিচ্ছেন।
কান পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখুন: সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে আপনার কান সুস্থ থাকবে। গোসলের পর কানকে শুষ্ক করতে টিস্যু ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু কখনই কটন বাড ব্যবহার করতে যাবেন না। ডা. ওঘালাই কটন বাড ব্যবহারে অনুৎসাহিত করছেন। তিনি জানান, ‘কটন বাডের ব্যবহারে অর্ধেক খইল কানের বাইরে আসলেও বাকি অর্ধেক খইল কানের গভীরে ঢুকে যায়, যা বের করা আসলেই কঠিন। প্রকৃতপক্ষে, প্রকৃতিগতভাবে গোসলের সময় কানের খইল বের হয়ে আসে, তাই খইল জমে কান ব্লক হওয়ার দুশ্চিন্তা করবেন না।’ কানে কিছু ঢুকেছে মনে হলে নিজে নিজে খোঁচাখুঁচি না করে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের কাছে ছুটে যান।
ধূমপানকে না বলুন: ধূমপান ইরিট্যান্ট বা উক্ত্যক্তকারী হিসেবে কাজ করে। ধূমপানে কানের নালীতে প্রদাহ হতে পারে। সেকেন্ডহ্যান্ড স্মোক বা যারা ধূমপান করেন তাদের আশপাশে থাকলেও একই প্রতিক্রিয়া হতে পারে। ডা. ওঘালাই কানকে সুরক্ষিত রাখতে উক্ত্যক্তকারী পদার্থ, দূষণ ও ধূমপান এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দিচ্ছেন।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
প্রায়ক্ষেত্রে কানের ইনফেকশন অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়াই সেরে ওঠে, কিন্তু কানে প্রচুর ব্যথা হলে অথবা ইনফেকশন লেগে থাকলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা ভাবুন। কানের ক্রনিক ইনফেকশনে ভুগছেন এমন কিছু লোকের ইয়ারড্রামে ছিদ্র পাওয়া যেতে পারে অথবা শৈশব থেকেই কানের রোগ থাকতে পারে। আপনার কানের প্রকৃত সমস্যা শনাক্ত করতে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
ডা. ওঘালাই বলেন, ‘মধ্যকানের শূন্যস্থানে তরল জমতে থাকলে আমরা ইউস্ট্যাশিয়ান টিউব ডাইলেশনের কথা বিবেচনা করি। এ পদ্ধতিতে বাতাসের সরবরাহ বাড়াতে ও সঞ্চিত তরল বের করে আনতে একটি বেলুনের মাধ্যমে ইউস্ট্যাশিয়ান টিউবকে প্রশস্ত করা হয়। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ইয়ার টিউব প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন পড়বে না, এর ফলে এ চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত দীর্ঘস্থায়ী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি কমে যায়।’