শীতে বেড়েছে শিশুদের রোগ || রামেক হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা প্রদান

আপডেট: জানুয়ারি ১১, ২০১৭, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



কনকনে শীতে রাজশাহী অঞ্চলে বেড়েছে শিশুদের রোগ-বালাই। পাশাপাশি ঠা-াজনিত নানা অসুখে আক্রান্ত হচ্ছেন বৃদ্ধরাও। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে বেড়েছে রোগির চাপ। ফলে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।
রামেক হাসপাতালের শিশু রোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ছানাউল হক মিয়া জানান, হাসপাতালের ১০, ২৪, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে শিশু রোগিদের ভর্তি করা হয়। এই চার ওয়ার্ডে ১২০টির মতো শয্যা আছে। তবে এখন শিশু রোগি ভর্তি আছে চারশোরও বেশি। যদিও অন্য সময় বড়জোর দুইশোর মতো শিশু রোগি ভর্তি থাকে। বাড়তি রোগিদের ওয়ার্ডের মেঝেতে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সগুলোতেও শিশু রোগির চাপ বেড়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় সেখানে রোগ সারানোর চেষ্টা চলছে। সম্ভব না হলে রোগিদের রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে। বাইরের অন্য কয়েকটি জেলা থেকেও রামেক হাসপাতালে রোগি আসছে। বহু সংখ্যক শিশু রোগি ভর্তি আছে নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রামেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি ওয়ার্ড শিশু রোগিতে ঠাসা। সাধ্যমতো চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও সেবিকারা। ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, শয্যা না পাওয়ায় বেশ কিছু শিশু রোগিকে মেঝেতে শুইয়ে রাখা হয়েছে। আর রোগির স্বজনদের চাপে সেখানে হাঁটাচলার মতো জায়গাও তেমন একটা নেই।
কুষ্টিয়া সদরের কুমারগাড়া থেকে দুই মাস বয়সি শিশু আলিফ হোসেনের চিকিৎসা করাতে হাসপাতালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে এসেছেন বাবা মনির খান শিমু। তিনি জানান, ১০ দিন হলো নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে আলিফ। চিকিৎসা করেও রোগ সারছে না। এখন দেখা দিয়েছে খিঁচুনি।
গোদাগাড়ী উপজেলার মা-ইল গ্রাম থেকে দুই বছরের মাহমুদা খাতুনকে নিয়ে এসেছেন তার মা রাবেয়া বেগম। তিনি জানান, ১০ দিনের জ্বর নিয়ে ১৬ দিন আগে তিনি মাহমুদাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। চিকিৎসা করেও এখন পর্যন্ত জ্বর সারানো যাচ্ছে না। এরই মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে মাহমুদা।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শীতে ঠা-া লেগে শিশুরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কিউলাইটিস রোগ। নিউমোনিয়ার প্রকোপ শিশুদের মাঝে সারা বছর কমবেশি দেখা গেলেও ব্রঙ্কিউলাইটিসের প্রকোপ তেমন থাকেনা। কিন্তু শীতে রেসপিরেটরি সিনসেটিয়াল ভাইরাস (আরএসবি) ও ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের কারণে সংক্রমণজনিত এই রোগটির প্রকোপ হঠাৎ করে বেড়ে গেছে।
শিশু রোগ বিভাগের প্রধান ডা. ছানাউল হক মিয়া আরো জানান, গত কয়েক দিন থেকে হাসপাতালে গড়ে ৪০ জন করে শিশু রোগি ভর্তি হচ্ছে। এ সংখ্যা আগের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি। স্যাঁতসেতে পরিবেশ ও ঠা-া আবহাওয়ার কারণে শিশুরা এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এসব রোগ থেকে শিশুদের বাঁচাতে তাদের কোনোভাবেই যেন ঠা-া না লাগে, সে দিকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
প্রসঙ্গত, রাজশাহী অঞ্চলে এখন মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার ভোর থেকে শুরু হয়েছে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। এতে শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে গেছে। গতকাল সকালে রাজশাহীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গত রোববার মৌসুমের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ