শুকিয়ে গেছে টেমস নদীর উৎসমুখ, যুক্তরাজ্যে খরার শঙ্কা

আপডেট: আগস্ট ১২, ২০২২, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক :


তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহর ঘেঁষা টেমস নদীর উৎস অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ মাত্রায় শুকিয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, খরার কবলে পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। এ সময়ে খরা মোকাবিলা করার জন্য অপ্রস্তুত যুক্তরাজ্য বলে মনে করছেন তারা।

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিস বলছে, ১৯৩৫ সালের পর সবচেয়ে বেশি শুষ্ক ছিল গত জুলাই মাস। এ সময়ে ২৩ দশমিক ১ মিলিমিটার গড় বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে অর্থাৎ ৩৫ শতাংশ বৃষ্টিপাত হয়েছে দেশটিতে। ব্রিটেনের কিছু অংশে এটি ছিল এযাবৎকালের সবচেয়ে শুষ্ক মাস।

ইংল্যান্ডের দক্ষিণে অবস্থিত টেমস নদী ২১৫ মাইল (৩৫৬ কিলোমিটার) পর্যন্ত প্রশস্ত। প্রাকৃতিক জলপ্রবাহে লন্ডনের বড় উৎস এ নদী। সাধারণত গ্রীষ্মকালে এটি উৎস শুষ্ক থাকে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বছর আগের তুলনায় নদীর পানি অনেক কমে গেছে।

নদী সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা রিভার্স ট্রাস্টের কর্মকর্তা এলিসডেয়ার নাউল বলেছেন, ‘এটি খুব অগভীর হয়ে পড়েছে। টেমসের শুকনো জায়গায় গিয়ে দাঁড়াতে আপনাদের খুব বেশি দূরে যেতে হবে না। সত্যিকার অর্থে এ সময়ে ওই শুষ্ক জায়গা ভেজা থাকার কথা ছিল। শুধু তাআ নয় সময়ই তা ভেজা থাকা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, তীব্র গরম এবং কম বৃষ্টির কারণে যুক্তরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলের দুটি পানি সরবরাহ কোম্পানি হোসপাইপ ও স্প্রিংকলার সিস্টেম ব্যবহারের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। টেমস ওয়াটার নামের আরও একটি কোম্পানি একই রকম ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

নাউল আরও বলেন, অগভীর, উষ্ণ পানিতে কম অক্সিজেন থাকে, যা মাছ এবং অন্যান্য বন্যপ্রাণীর জন্য অতীব প্রয়োজন।
ইউরোপের অধিকাংশ দেশের মতো ব্রিটেনেও গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড গরম অনুভূত হচ্ছে এবার। গত ১৯ জুলাই তাপমাত্রা পরিমাপ স্কেলে পারদ ৪০ দশমিক ৩ ডিগ্রিতে পৌঁছে গিয়েছিল। এটি ২০১৯ সালের সর্বোচ্চ রেকর্ড ৩৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসকেও ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার ব্রিটেনের আবহাওয়া অফিস চার দিনে অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দিয়েছে।

রেডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু ও পানিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হান্না ক্লোক বলেছেন, কম বৃষ্টির কারণে নদী ও জলাধারগুলোতে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। সেখান থেকেই ফসলের আবাদ ও খাওয়ার পানি এবং শিল্পকারখানায় ব্যবহারের পানি সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আগস্টে যদি বৃষ্টি না হয়, অর্থাৎ তখন যদি শুষ্ক শীতের মৌসুম থাকে, তাহলে বসন্তকাল ও পরবর্তী গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড বিপদে পড়ে যাব আমরা। তখন সত্যিই আমাদের আর কোনো পানির উৎস থাকবে না।’

তিনি মনে করেন, হোসপাইপ ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানুষের মনে সচেতনতা তৈরি হবে ঠিকই। তবে এর চেয়ে বেশি জরুরি হলো, জলবায়ুর পরিবর্তন ঠেকাতে অবকাঠামো ও নীতিমালা তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়ানো।

এদিকে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অতিরিক্ত মৃত্যু, আগের সব রেকর্ডের তুলনায় অনেক বেশি। ২৯ জুলাই শেষ হওয়া দুই সপ্তাহের হিসাবে স্বাভাবিকের চেয়ে ১৬ শতাংশ বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সেই সময়ের মধ্যে তিন হাজার ৫৮ অতিরিক্ত মৃতের সংখ্যা নিবন্ধন করা হয়েছে সেখানে। স¤প্রতি ইউরোপের অন্যান্য অংশেও অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

জলবায়ু উষ্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ এটির সঙ্গে বাড়িঘর উপযোগী করে খাপ খাইয়ে না নিলে তাপেও মৃত্যু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। ব্রিটিশ সরকারের জলবায়ু নীতি যাচাই-বাছাই করা একটি স্বাধীন সংস্থা, ক্লাইমেট চেঞ্জ কমিটি ধারণা করছে যে, বার্ষিক গরম আবহাওয়ায় মৃত্যু এখন প্রায় দুই হাজার থেকে ২০৫০-এর দশকে সাত হাজার বৃদ্ধি পেতে পারে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, বিবিসি, জাগোনিউজ