শুধু চা খেয়ে ৪৫ বছর!

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৭, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



একটা দুটো দিন নয়, দীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ বছর তার একমাত্র পানীয় খাদ্য চা। শুনতে অবাক লাগলেও এমনই দাবি ৭৫ বছরের বৃদ্ধা অণিমা চক্রবর্তীর। আর তার এই ‘অবাক চা খাওয়ার’ জন্যই চিকিৎসক থেকে প্রতিবেশী, সবার কাছেই বিস্ময় হয়ে উঠেছেন ভারতের হুগলির গোঘাটের বাসিন্দা অণিমা চক্রবর্তী।
গোঘাটের শ্যামবাজার পঞ্চায়েতের বেলডিয়া গ্রামে পরিবারের সঙ্গে থাকেন অণিমা চক্রবর্তী। কিন্তু এত খাবার থাকতে শুধু চা কেন?
এর উত্তরে বৃদ্ধা জানান, আজ থেকে প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছর আগে তার গ্যাস্টিকের সমস্যা হয়, সেই সময় যা খাবার খেতেন তাই বমি হয়ে যেত, কিন্তু সংসারে তখন চরম অর্থাভাব, সেই কারণে সেই ভাবে আর চিকিৎসা করা হয়নি। তরল জাতীয় খাবার খেলে শরীর ঠিক থাকত। যদিও কিছুদিন বিস্কুট ভিজিয়ে খেয়েছেন অনিমা। কিন্তু তাতে অম্বলের সমস্যা হওয়াতে তাও বন্ধ করে দেন তিনি। সেই থেকেই মূলত চা-ই প্রধান পানীয় হয়ে যায়। দিনে দশ থেকে বারো কাপ চা পানের ফাঁকেই অনিমা সেরে নেন সংসারের বাসন মাজা, কাপড়কাঁচা থেকে অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজগুলি।
যদিও তার ছেলে অশোক চক্রবর্তীর দাবি, আজ থেকে বেশ কয়েক বছর আগে মাকে নিয়ে বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করালেও কোনও সমাধান হয়নি। সেই থেকেই চা খেয়েই বেঁচে আছেন তিনি। সমস্যা যে একেবারে নেই, তা নয়। মাঝে মধ্যে কিছুক্ষণের জন্য অচৈতন্য হয়ে পড়লেও কিছুক্ষণের মধ্যে নিজে থেকেই জ্ঞান ফিরে আসে অণিমার। প্রতিবেশীরাও অণিমাকে দেখে বেশ অবাক হয়ে যান।
অণিমার চা খেয়ে বেঁচে থাকার কথা শুনে বেশ অবাক বিশেষজ্ঞরাও। চিকিৎসক প্রদীপকুমার দাসের দাবি, এই ঘটনা তাদেরও বেশ ভাবাচ্ছে। কারণ, চায়ের মতো তরল জিনিস খেয়ে বেশ কিছুদিন বাঁচা গেলেও দীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ বছর কীভাবে ওই বৃদ্ধা বেঁচে আছেন তা পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন।
চিকিৎসা বিজ্ঞান কী বলছে তা নিয়ে অণিমা অবশ্য চিন্তিত নন। তার এখন একমাত্র ইচ্ছা, জীবনের বাকি দিনগুলি এ ভাবেই সংসারের অনান্য সদস্যদের সঙ্গে আনন্দে কাটিয়ে দেওয়া।