শুভ জন্মদিন শান্তির দূত দেশরত্ন শেখ হাসিনা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

মো. আবদুল কুদ্দুস


আজ ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ৭০তম জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের এই দিনে বাংলাদেশের স্থপতি বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমানের পরিবারকে আলোকিত করে পৃথিবীতে আসেন। তিনি বর্তমানে পৃথিবীর লাখো কোটি দিশেহারা মানুষের পথের দিশারী। সততা, নিষ্ঠা, সরলতা, শিক্ষা-দীক্ষা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, জনসেবা ও রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে ইতোমধ্যে তিনি উন্নয়নশীল বিশ্বের উন্নয়নের বিষ্ময়, উন্নয়নের রোল মডেল, শান্তি প্রতিষ্ঠার অগ্রদূত, দেশরত্ন, গণতন্ত্রের মানস কন্যা, জননেত্রী ইত্যাদি খেতাব পেয়েছেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় বাংলাদেশে তাঁর কতিপয় দর্শন যেমন সরকারী কর্মকর্তাদের জন্য স্লোগান, ‘শেখ হাসিনার দর্শন, সেবক হয়ে কর্মসম্পাদন’, ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ-ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’, ‘শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ-শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’, ‘উন্নয়নের গণতন্ত্র-শেখ হাসিনার মূলমন্ত্র’ ইত্যাদি ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জনমনে সুপ্রতিষ্ঠিত ও প্রেষণামূলক বিষয়।
নেতা হিসেবে দেশরত্ন শেখ হাসিনার কিছু বিশ্বাস ও দর্শন আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি ও মেনে চলি। যেমন তিনি বলেন-‘ধর্ম যার যার-উৎসব সবার’। বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। দুর্নীতিবাজ, খুনি, রাজাকার আলবদর আলসাম্স আর মজুদদার বেঈমানদের এদেশের পবিত্র মাটিতে ঠাঁই নেই। তিনি একের পাপের কারণে অন্যকে শাস্তি দেন না। তিনি মনে করেন পাপীকেই তার পাপের জন্য শাস্তি ভোগ করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে যে, তিনি তাঁর সরকারের কতিপয় সাংসদ/মন্ত্রীদের আত্মীয় স্বজনের ভুল কাজের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সাংসদ/মন্ত্রীকে কোন ভর্ৎসনা না করে প্রকৃত অপরাধীকেই বিধান অনুয়ায়ী শাস্তি দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি যখন কোনো রাজনৈতিকি মঞ্চে বক্তৃতা করেন তখন সর্বপ্রথম উপস্থিত জনগণকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। কেননা তিনি জানেন ও বোঝেন যে, জনগণই একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক। এরপর তিনি জাতির পিতাকে, এরপর ক্রমান্বয়ে ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, জাতীয় চার নেতা, তারপর ত্রিশ লক্ষ শহিদ মুক্তিযোদ্ধা ও দুই লক্ষ মা বোনের আত্মত্যাগের কথা তিনি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। এদেশের কৃষক-শ্রমিক, কুলি-মজুর, ছাত্র-জনতা, শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারিদের প্রতি শেখ হাসিনার রয়েছে গভীর সম্মান। সর্বশেষে তিনি সম্বোধন করেন মঞ্চে উপস্থিত অন্যান্য সম্মানিত নেতৃবৃন্দদেরকে এক্ষেত্রে ওই সমস্ত নেতার পদ পদবি যাই হোক না কেন। এটিই তো একজন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ নেতার শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ। তাঁর এমন ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশ তথা পৃথিবীর অন্য কোন দেশের খুব কম নেতৃবৃন্দেরই মধ্যে দেখা যায়।
জাতির পিতার কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা সব সময়ই একটি কথা বলে থাকেন, আমি জাতির পিতার কন্যা। আমার কোন লোভ লালসা নেই। কারণ আমি আমার বাবাকে হারিয়েছি, মাকে হারিয়েছি, ভাই-বোনসহ পরিবারের সবাইকে (একমাত্র ছোট বোন শেখ রেহেনাকে বাদে) হারিয়েছি। পরিবারের একজন প্রিয় মানুষের মৃত্যুর শোক কারো পক্ষেই সহ্য করা সহজ নয়। কিন্তু আমি আমার সব প্রিয়জনকে হারানোর শোক বুকে করে বইছি বছরের পর বছর। তাই আমি আর মৃত্যুকে ভয় করি না। আমি শুধু একমাত্র সৃষ্টিকর্তার নিকট মাথা নোয়ায়। পার্থিব কোন শক্তির কুর্নিশ করি না। আমার জীবনের শেষ ইচ্ছা হলো এই দেশের সমস্ত দুঃখি মানুষকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তি এনে দিয়ে তাদের মুখে সুখের হাসি ফুটিয়ে নিজেকে বাঙালি জাতির মাঝে বিলিয়ে দিতে চাই।
শেখ হাসিনার দর্শন ‘মানব ধ্বংস নয়-সর্বক্ষেত্রে চাই মানব কল্যাণ’। এই দর্শনে তিনি আজকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক জাতিগত নির্মূলের শিকার লাখো রোহিঙ্গা শরণার্থীর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরী নয় এমন পররাষ্ট্রনীতিতে তিনি বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে সম্মানের আসনে তুলে ধরে চলেছেন। তিনি বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে থেকে অশিক্ষা, দারিদ্র, পুষ্টিহীনতা, দুষণ, ভেদাভেদ দূর করে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। দেশরত্ন শেখ হাসিনা বরাবরই বলে থাকেন-‘আমি আমার কর্মকর্তাদের বলেছি, আমরা ভিক্ষুকের জাতি নই। আপনারা বিদেশে গিয়ে কারো কাছে হাত পেতে আর্থিক সহায়তা চেয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহিদের রক্ত দিয়ে নির্মিত বাংলাদেশকে ছোট করবেন না।’ বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে-এগিয়ে যাবে। এদেশের ষোল কোটি মানুষের বত্রিশ কোটি হাত আর অলস বসে নেই। দিনভর পরিশ্রম করে তারা জাতির পিতার সোনার বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তর করতে সদা জাগ্রত রয়েছে।
শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকলেও পারিবারিক বন্ধন থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হন নি। তিনি ছোটবেলা থেকেই মা-বাবার কাছে থেকে পারিবারিক সম্পর্ক উন্নয়নের কাজে সচেষ্ট থেকেছেন। শেখ হাসিনার পারিবারিক বন্ধন সম্পর্কে তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারাগারের রোজনামচা গ্রন্থে লিখেছেন ‘রেণু, হাচিনার পরীক্ষা শেষ। ও এখন দাদির সেবা করার জন্য খুলনা যেতে চাই। ওকে যেতে দাও । আমি তো জেলে বন্দিই থাকি, মায়ের সেবা করতে পারলাম না। হাচিনা সেটা করুক (পৃ.৯৪)।’ এছাড়া বঙ্গবন্ধু তাঁর সন্তানদের মিতব্যয়িতার কথা লিখেছেন করাগারের রোজনামচা গ্রন্থে। ১৯৬৭ সালে যখন বঙ্গবন্ধু এই কথাগুলো লিখেন তার পূর্বে তিনি দুইবার মন্ত্রী হয়েছেন। অথচ হাচিনারা খুব সরল জীবন যাপন করতেন। ঈদের আগে একবার রেণু বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করতে আসলে তিনি বলেন, বাচ্চাদের কাপড় কিনে দিও। তাছাড়া ওদের মন ছোট হয়ে যাবে (পৃ.২০১)। বঙ্গবন্ধুর এই লিখা তাঁর সন্তানদের সরল জীবন যাপনের ইঙ্গিত বহন করে।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোসহীন, সিদ্ধান্তে দৃঢ়চেতা নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে আজ নিজস্ব অর্থায়নে বাংলাদেশেই পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম পদ্মাসেতু নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওয়াতায় নারী পুরুষ সকলেই আজ স্বাবলম্বী হয়ে নিজের পায়ে ভর করে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হচ্ছে। উন্নয়নের মহাসড়কে এক দুর্বার গতিতে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। এখন সময় বাংলাদেশের। আপনি দীর্ঘজীবী হোন প্রিয় নেত্রী। শুভ শুভ শুভ জন্মদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।
লেখক: শিক্ষক, বিজনেস স্টাডিজ বিভাগ ও সহকারী প্রক্টর, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী

shyamoluits@gmail.com