শুভ জন্মদিন

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৭১তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৭ সালের এই দিন তিনি গোপালগঞ্জের মধুমতি নদী তীরের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। দলীয়কর্মী-সমর্থকদের কাছে তিনি বোন, জননেত্রী, দেশরত্ন, শান্তির দূত হিসেবে সম্যক জনপ্রিয়। বঙ্গবন্ধুর পর তিনিই দিক-হারানো জাতিকে যোগ্যতর নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিচ্ছেন। এই নেতৃত্ব দেশ ছাপিয়ে বিশ্ব পরিমণ্ডলে নিজ ব্যক্তিত্ব গুণে জায়গা করে নিয়েছে। বর্তমান বাংলাদেশ এক গৌরবময় অভিযাত্রায় অনন্য দৃষ্টান্তÑ সে তো হাসিনারই নেতৃত্বগুণে।
তিনি সেই সরকার প্রধান যিঁনি তৃণমূল মানুষের শরীরের ঘামের গন্ধ মাখেন, আকুল হন পরম ¯্নহে-ভালবাসায়, তাদের দুঃখে কাদেন, সহযোগিতায় সঙ্কুল পথ পাড়ি দিয়ে পীড়িত মানুষের সঙ্গী হন। কঠোরে কোমলে তিনি যে অনন্য!
শান্তির দূত শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার, পার্বত্য চট্টগ্রমের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদন, একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি, ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের কাণ্ডারিসহ জাতীয় জীবনের বহুক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। এর ফলে দেশে মানবাধিকার রক্ষা ও আইনের শাসনের পথ প্রশস্ত হয়েছে।
২০১৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের এই অধিবেশনে শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে তাঁর অসাধারন অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে ‘প্লানেট ৫০- ৫০ চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ’ অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন। এ অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে তিনি প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন হিসাবে জাতিসংঘ উইমেন স্বীকৃতি অর্জন করেন।
২০১৫ সালে জাতিসংঘের ৭০তম অধিবেশনেও তিনি দুটি পুরস্ক‹ারে ভূষিত হন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকা এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে যুগান্তকারী উদ্যোগের জন্য ‘ আইসিটি টেকসই’ উন্নয়ন পুরষ্কার লাভ করেন শেখ হাসিনা।
এর আগে রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং সাফল্যের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে তিনি ‘সাউথ সাউথ’ ও ‘সেরেস’ পদকসহ অন্যান্য পুরস্কারে ভূষিত হন। বাংলাদেশে নারী ও শিশুর উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য ইউনেস্কো থেকে ‘ শান্তির বৃক্ষ (ট্রি অব পিস) অভিধায়ও সিক্ত হন।
১৯৮১ সালের ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তাঁকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। আর ওই বছরেরই ১৭ মে দীর্ঘ ৬ বছর প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি তিনটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনের পরে তিনি পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন।
১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে এবং সে বছরের ২৩ জুন দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি সপ্তম জাতীয় সংসদে বিরোধীদলের নেতা নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও ওই হামলায় ২৪ জন নিহত এবং পাঁচশ’ নেতা-কর্মী আহত হন।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে বিশাল বিজয় অর্জন করে। এই বিজয়ের মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
পরবর্তিতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তৃতীয়বারের মত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
শেখ হাসিনা তৃতীয় বিশ্বের একজন বিচক্ষণ বিশ্বনেতা হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন নতুন ভূমিকায়। সাম্প্রদায়িকতা উদার প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক বিজ্ঞানমনস্ক জীবনদৃষ্টি তাঁকে করে তুলেছে এক আধুনিক, অগ্রসর রাষ্ট্রনায়কে। একবিংশ শতাব্দীর অভিযাত্রায় তিনি দিন বদল ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার কান্ডারি। এই অভিযাত্রায় তিনি বাঙালির জাতীয় ঐক্যের প্রতীক এবং ভরসাস্থল।
শত ব্যস্ততার মাঝেও শেখ হাসিনা সাহিত্য চর্চা ও সৃজনশীল লেখায় নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। ওরা টোকাই কেন, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, ‘আমার স্বপ্ন আমার সংগ্রাম’ ‘আমার পিতা শেথ মুজিব’ তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বগুনেই বাংলাদেশের ঈর্ষান্বিত অগ্রযাত্রা। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে একটি মর্যাদাপূর্ণ দেশ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। এক সময়ের তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদে অস্বস্তিতে বিড়ম্বিত বাংলাদেশ আজ অর্থনৈতিক অগ্রগতির অভিযাত্রায় মধ্যম আয়ের দেশে প্রবেশের সীমান্তে দাঁড়িয়ে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে দ্রুত উন্নতি এবং সামজিক নিরাপত্তায় বিশ্বে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব শান্তি স্থাপনেও বাংলাদেশ নজর কেড়েছে বিশ্বের। সম্প্রীতি লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশে জায়গা করে দিয়ে শেখ হাসিনা একজন সংবেদনশীল মানবিক নেতা হিসেবে সারা বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছেন। এসব সাফল্য এসেছে মানবদরদি নেতা শেখ হাসিনার বলিষ্ট নেতৃত্বগুনেই।
‘‘চূড়ান্ত বিজয় জণগণ ও ন্যায়ের পক্ষে এবং জনগণের অধিকার হরণের জন্য জাতিগত ও বৈষম্য সৃষ্টি, সেনাবাহিনী ব্যবহারসহ সকল জুলুম ও বেআইনি শোষক ও শাসকরা নিক্ষিপ্ত হয় ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে। জয়ী হয় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষ।’’ জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ ছিল একটি ন্যায় পরায়ন ও শান্তিকামী উন্নত আন্তর্জাতিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বপক্ষে একটি স্মরণীয় দলিল। তাঁর এই বক্তব্যে শান্তি ও সংহতির কথাই সেদিন ঘোষিত হয়েছিল। একই আদর্শে উজ্জীবিত বঙ্গবন্ধু তনয়া কন্যা শান্তির পক্ষে বিশ্ব সম্প্রদায়কে একযোগে কাজ করার আহবান জানাচ্ছেন। দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ, মমত্ব জাগরিত না হলে এমন করে কেউ কাজ করতে পারে না। দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য জীবনের ঝুঁকি মেনে নিয়েই শান্তির পক্ষে কাজ করে যেতে হচ্ছে শেখ হাসিনাকে। এখানেই তিনি অনন্য। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন নতুন মাত্রা যোগ করে চলেছেন তিনি।
জননেত্রী শেখ হাসিনা যথার্থই উপলব্ধি করেছিলেন যে, যুদ্ধাপরাধীরা বাংলাদেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রধান অন্তরায় হয়ে আছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করেই সেই অন্তরায় সরাতে হবে। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সে কথাও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে তুলে ধরেছেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার এখন এক বাস্তবতা। অসম্ভবকে সম্ভব করার স্পর্ধা তিনিই দেখাতে পেরেছেন- যা বাংলাদেশের মানুষের আকাক্সিক্ষত ছিল। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হয়েছে। এর ফলে আইনের শাসনের পথ প্রশস্ত হয়েছে। বাংলাদেশ সর্বক্ষেত্রে মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছে সে তো শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বদৌলতে।
শেখ হাসিনার জন্মদিন, তাঁর দীর্ঘজীবনের আরাধ্য বাসনা বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।