শুরু হলো আরএমইউ-এর পথচলা || মেডিকেল শিক্ষার গুণে মানে সফল হোক

আপডেট: আগস্ট ৪, ২০১৭, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ

রাজশাহীবাসীর বহু প্রত্যাশিত রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (আরএমইউ)- এর পথচলা শুরু হয়েছে। গত ৫ জুলাই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে বিভাগীয় কন্টিনিউইং এডুকেশন সেন্টারের (ডিসিইসি) দ্বিতীয় তলায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয় চালু করা হয়েছে। এখন থেকে এ অস্থায়ী কার্যালয় থেকেই চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাফতরিক কার্যক্রম। এর আগে গত ৮ জুন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট (এনআই) ঢাকায় একটি লিঁয়াজো অফিসও চালু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যমগুলো জানাচ্ছে,  দেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, সেবার মান ও সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ এবং উন্নয়নের জন্য সরকার রাজশাহী ও চট্টগ্রামে দু’টি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। এ লক্ষ্যে গত বছরের ১২ মে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গেজেট প্রকাশিত হয়। এরপর চলতি বছরের ১০এপ্রিল নিয়োগ দেয়া হয় উপাচার্য। ৩০এপ্রিল রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন ডা. মাসুম হাবিব।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম যুগান্তকারী পদক্ষেপ হলো রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন। দ্রুত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তবায়ন, শিক্ষা কার্যক্রমের উন্নয়ন ও যুগোপযোগী নতুন নতুন কোর্স সংযোজন করে এর বিকাশ সাধনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। তাই আগামী সেশন থেকেই রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ, নার্সিং কলেজ, ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) সহ সব চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (৪০টি) কে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে। ২৩ জুলাইএসব প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষগণের সাথে এক মতবিনিময় সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ তথ্য জানান।
উপাচার্য সভাকে জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের অধীনে ২২টি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্স করানো হয়। এখন থেকে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি অনুষদের অধীনে ৯০টির মত পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্স করানো হবে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এক হাজার শয্যার একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল সংযুক্ত থাকবে। সেই সাথে দক্ষ নার্স তৈরির লক্ষে একটি নার্সিং ইনস্টিটিউটও স্থাপন করা হবে।
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহীর মানুষকে গৌরবান্বিত করেছে। রাজশাহীলে বলা হয় শিক্ষা নগরীÑ এই বিশ্ববিদ্যলয় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে রাজশাহী আরো উচ্চ মাত্রা অর্জন করলো।  এই প্রতিষ্ঠান যে শুধু উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্র প্রস্তুত করবে তাই নয়- এটি রাজশাহীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনবে। এই প্রতিষ্ঠান  মেডিকেল শিক্ষায় এক নতুন দিগন্তের সৃষ্টি করবে এবং যে শিক্ষা দেশ ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক মর্যাদায় অভিষিক্ত হবে। রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পথচলা সফল হোক।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ