শুরু হয়েছে দুর্গোৎসব অশুভের বিনাশ হোক

আপডেট: অক্টোবর ১২, ২০২১, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা হয়েছে। সোমবার (১১ অক্টোবর) ধর্মীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাদেবীর মন্ডপে অধিষ্ঠান হয়েছে। দেবী দুর্গা এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যলোকে এসেছেন। ১৫ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এই দুর্গোৎসবের শেষ হবে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের বাড়িতে বাড়িতে উৎসবমুখর পরিবেশ। এটি ধর্মীয় উৎসব হলেও এর আর্থ-সামজিক প্রভাব পরোক্ষ- প্রত্যক্ষভাবে সর্বত্র ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবশ্রেণির মানুষের মধ্যে। হিন্দু- মুসলিম সব উৎসবের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য হয়ে থাকে। উৎসবে বাজারে অর্থনৈতিক লেনদেন বৃদ্ধি পায় এর উপকারভোগি হিন্দু-মুসলিম সকলেই। স্বাভাবিকভাবেই এ দেশে ধর্ম যার যার হলেও উৎসব হয় সকলের। এ ছাড়াও সামাজিকতায় শান্তি-সৌহার্দের চর্চাও হয়ে থাকে। যা মানুষে মানুষের ঐক্যকে দৃঢ় করে।
এবারেও উৎসবের লাগাম টেনে ধরা হয়েছে। পরিবেশ- পরিস্থিতিই এই বাধ্যবাধকতা তৈরি করেছে। করোনা সংক্রমণ কমে এলেও স্বাস্থ্য সুরক্ষা মানার ব্যাপারটি এখনো শতভাগ মেনে চলারও বাধ্যবাধকতা আছে। সে ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনেই ম-পে মন্ডপে পূজা-অর্চনা হবে, দর্শনার্থীরাও নিয়ন্ত্রিত হবে। সারা দেশের ন্যায় রাজশাহীতেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনির সদস্যরা তৎপর আছেন। কোনো অবস্থাতেই যাতে উৎসবের পরিবেশ ক্ষুণ্ণ না হয়, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়- তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। শীর্ষ রাজনীতিক, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইতোমধ্যেই হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সাথে মত বিনিময় করেছেন এবং উৎসব সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
কোভিড-১৯ এর কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ায় শারদীয় দুর্গাপূজার সকল অনুষ্ঠানাদিতে পূজারি, ভক্তকূল এবং আগত দর্শনার্থীদের মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্য বিধি (প্রবেশ পথে হাত ধোয়া, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, থার্মাল স্ক্যানার ইত্যাদি) ও সামাজিক দূরত্ব মেনে একসঙ্গে অধিক সংখ্যক দর্শনার্থী/ভক্তের মন্ডপে প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে।
প্রতিমা বিসর্জনকালে কোনো ধরনের শোভাযাত্রা, মেলা কিংবা অন্য কোনো অনুষ্ঠান, হাউজি কিংবা জুয়ার আসরের আয়োজন করা যাবে না।
সরকারি নির্দেশনাসমূহ প্রতিপালনসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে রাজশাহী মহানগরী এলাকায় ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সকল প্রকার অস্ত্র বহন, আতশবাজি, পটকা ফুটানো, বিস্ফোরক দ্রব্য বহন, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয়, ব্যবহার এবং পূজা বিসর্জনের সময় উচ্চস্বরে মাইক বাজানো ও গান বাজনা ইত্যাদি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পূজা মন্ডপে পুরুষ ও নারীদের প্রথক প্রবেশ ও নির্গমন স্থলে স্বেচ্ছাসেবক রাখার উপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
পূজা আয়োজনকারীদের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থাটা অতি সুসংহত হওয়া বাঞ্ছনীয়। নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টির প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করলে শেষ পর্যন্ত অনাকাক্সিক্ষত অনেক সমস্যা গোড়াতেই সমাধান করা সম্ভব হবে। উৎসব ভাল সবকিছুর বার্তা বয়ে আনুক, অশুভের বিনাশ হোক- এই প্রত্যাশ্যা রইল।
হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্বজনকে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ