‘শূন্য’ আরও প্রাচীন

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৭, ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


এতদিন যা ধারণা করা হচ্ছিল, তারও শ পাঁচেক বছর আগে থেকে ভারতবর্ষে সংখ্যা হিসেবে ‘শূন্য’ প্রতীকের ব্যবহার ছিল বলে প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকরা।
অক্সফোর্ডের বোদলেয়ান লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত প্রাচীন এক পাণ্ডুলিপির কর্বন ডেটিংয়ের পর তারা বলছেন, পাকিস্তানের বাকশালি গ্রামে পাওয়া ওই পাণ্ডুলিপি খ্রিস্টীয় তৃতীয় কিংবা চতুর্থ শতকের বলে তারা ধারণা পেয়েছেন।
বিবিসি লিখেছে, ওই পাণ্ডুলিপিটি অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে কোনো এক সময় লেখা হয়েছিল বলে এতদিন ধারণা করা হত। কিন্তু বার্চ গাছের বাকল দিয়ে ৭০ পাতার ওই পাণ্ডুলিপি তৈরিতে তিনটি আলাদা সময়ের উপাদান ব্যবহৃত হওয়ায় সঠিক বয়স নির্ধারণ করতে সমস্যা হচ্ছিল গবেষকদের।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, কার্বন ডেটিংয়ে পাওয়া তথ্যের অর্থ দাঁড়াচ্ছে, অক্সফোর্ডে থাকা ওই পাণ্ডুলিপির শূন্য ভারতের গোয়ালিয়র মন্দিরে পাওয়া শূন্যের চেয়েও পুরনো।
বোদলেয়ান লাইব্রেরির রিচার্ড অভেনডেন বলছেন, এই নতুন তথ্য গণিতের ইতিহাসে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আজকের যে চক্রাকার প্রতীকটি মানুষ ‘শূন্য’ বোঝাতে ব্যবহার করছে, তার উদ্ভব হয়েছে প্রাচীন ভারতীয় পাণ্ডুলিপিতে ব্যবহার করা ‘ডট’ বা বিন্দু প্রতীক থেকে।
মায়া ও ব্যাবিলন সভ্যতায় শূন্যের ব্যবহার থাকার প্রমাণ মিললেও আজকের গণিতে ব্যবহৃত শূন্য প্রতীকটি বাকশালি পাণ্ডুলিপির ওই বিন্দু থেকেই যে এসেছে, সে বিষয়ে গবেষকরা নিশ্চিত।
তাছাড়া ভারতবর্ষেই প্রথম শূন্যকে স্বতন্ত্র একটি সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করে গাণিতিক অধ্যয়ন শুরু হয় বলে জানান রিচার্ড অভেনডেন।
আর অক্সফোর্ডের অধ্যাপক মার্কোস দু সতয় সংখ্যা হিসেবে ‘শূন্য’ প্রতীকের সূচনাকে গণিতের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বড় ব্রেকথ্রু’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
বর্তমান পাকিস্তানের বাকশালি গ্রামের এক কৃষক ১৮৮১ সালে ওই পাণ্ডুলিপির সন্ধান পান। পরে ভারততত্ত্ববিদ রুডলফ হোয়ের্নল পাণ্ডুলিপিটি সংগ্রহ করেন এবং ১৯০২ সালে তা বোদলেয়ান লাইব্রেরিকে দেন।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ