শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ৬ শিক্ষার্থীর শাস্তি শিক্ষক ও অভিভাবকের যৌথ উদ্যোগ চাই

আপডেট: আগস্ট ১৩, ২০২২, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধূমপান, মারামারি, অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ছয় শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছেন রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল কর্তৃপক্ষ। ১১ আগস্ট কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক ড. নূরজাহান বেগম স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়। মারামারি ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহারের অপরাধে চতুর্থ শ্রেণির তিন ছাত্র, ধূমপানের অপরাধে সপ্তম ও নবম শ্রেণির দুই ছাত্র এবং মারামারির অপরাধে পঞ্চম শ্রেণির আরও এক ছাত্রকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।
এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল তো বটেই নগরীর অন্যসব স্কুলের অভিভাবকরা বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন কিংবা তাঁদের প্রতিক্রিয়াই বা কী এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির এ ব্যাপারে সতর্ক-উদ্যোগ নিতে পারেন। এই ঘটনা এটাও তাগিদ দেয় যে, শিক্ষক-অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যেকার সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়ে আরো বেশি মনোযোগ দিতে হবে।
রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের নোটিশে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধূমপান, মারামারি, অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে ছয় ছাত্রকে চলতি বছরের ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত বহিষ্কার করা হলো। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের অন্য ছাত্রদেরকেও সতর্ক করা হয়েছে।
তবে ছাত্রদের সতর্ক হওয়ার সাথে অভিভাবকদের সতর্ক হওয়াটাও অতীব গুরুত্বপূর্ণ। কিশোর শিক্ষার্থীদের এমন অবনতি শুধু রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলেই নয়- নগরীর অন্যান্য স্কুলেও একই ধরনের ঘটনা ঘটছেনা এমনটি বলা যায় না। কিন্তু এ ব্যাপারে অনুশাসনের প্রক্রিয়াটা মোটেও কাজ করে বলে মনে হয় না। কোনো প্রক্রিয়া যদি বলবত না থাকে এ ক্ষেত্রে স্কুলের প্রধানদেরও উদ্ভাবনী উদ্যোগ থাকা বাঞ্ছনীয়। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শানীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মত ঘটনা বা আচরণের ওপর আইনের নিষেধাজ্ঞা আছে। এ বিষয়টি অনেক শিক্ষক ধাতস্ত করতে পারেন নি। এই শিক্ষকদের অনেকইে মনে করে থাকেন শৃঙ্খলা রক্ষায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি থাকা উচিৎ। রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের নোটিশে সেটা প্রতিভাত হয়েছে। শাস্তির বিধান না থাকায় এক ধরনের অসহায়ত্ব প্রকাশ পেয়েছে।
শিক্ষার্থীদের এসব সমস্যা অভিভাবক, স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর বিষয়। যৌথ উদ্যোগেই এর সমাধান-সন্ধান করা যায়। এটা উভয়পক্ষেরই দায়িত্ব আর দায়িত্ব অন্য কিছু দিয়ে এড়ানো বাঞ্ছনীয় নয়। তদুপরি রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল কর্তৃপক্ষ ৬ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নিয়েছেন সেটা যথার্থই মনে হয়েছে। তবে অভিভাবকদের দায়িত্ব কোনো অংশেই কম নয়, বরং বেশি। অভিভাবকদের অন্তত স্কুলের শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা, স্কুলের শিক্ষণ ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা রাখা এবং সে মোতাবেক শিক্ষার্থীদের আচরণ ও বিচরণ পর্যবেক্ষণ করা তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ক্লাস শুরু ও ছুটির সময় সম্পর্কে অভিভাবকগণ দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে পারেন। স্কুল চলাকালীন নগরীর পদ্মাপাড়, বিভিন্ন পার্ক ও রেস্টিুরেন্টে স্কুল ড্রেস পরেই শিক্ষাথীদের চুটিয়ে আড্ডা দিতে দেখা যায়। এসব বিষয় দেখার দায়িত্ব অনেক বেশি অভিভাবকদের।
অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে সমস্যা উত্তরণের পথে হাঁটতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ