শেখ রাসেল দিবস আজ শিশুর জন্য ভালবাসার অঙ্গীকার

আপডেট: অক্টোবর ১৮, ২০২১, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠপুত্র শহিদ শেখ রাসেলের জন্মদিন আজ। তিনি বেঁচে থাকলে ৫৭ বছর পার করতেন এবং ৫৮তম জন্মবর্ষে পদার্পণ করতেন। তাঁর কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। রক্তপিপাসু খুনির দল তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মানবতার শত্রু ঘৃণ্য ঘাতকরা ওই দিন বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ওই দিন বিদেশে অবস্থান করায় তাঁরা প্রাণে রক্ষা পান। শেখ রাসেল ওইদিন ঘাতকদের কাছে বেঁচে থাকার করুণ আকুতি জানিয়েছিল, মমতাময়ী মায়ের কাছে যেতে চেয়েছিল কিন্তু ঘাতকদের কাছে ছোট শিশুর ওই আকুতি কোনো কাজেই আসেনি। নির্মমভাবে শিশু রাসেলকে হত্যা করে ঘাতকদল।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বছর থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের জন্মদিন ‘শেখ রাসেল দিবস’ হিসেবে পালিত হবে। সে অনুযায়ী দেশব্যাপি সরকারি উদ্যোগের কর্মসূচি ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
দিবসটি উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি। দুইটি ই-পোস্টার প্রকাশ করেছে।
পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে রাসেল ছিলেন সবার ছোটো, অনেক আদরের। রাসেল নামটি বঙ্গবন্ধু নিজেই রেখেছিলেন তাঁর প্রিয় ব্যক্তিত্ব বিখ্যাত দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের নামে। রাজনৈতিক কারণে বঙ্গবন্ধুকে জীবনের একটি দীর্ঘ সময় কাটাতে হয়েছে কারাগারে। এজন্য শিশু রাসেল পিতার সান্নিধ্য ও আদর-যতœ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
বঙ্গবন্ধু শিশুদের খুবই ভালোবাসতেন। তিনি জানতেন সুখি-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে হলে নতুন প্রজন্মকে সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শৈশব থেকেই তাদের মধ্যে চারিত্রিক গুণাবলির উন্মেষ ঘটাতে হবে। জ্ঞান-গরিমা, শিক্ষা-দীক্ষা, সততা, দেশপ্রেম ও নিষ্ঠাবোধ জাগ্রত করার মাধ্যমে তাদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
শিশুরা শুধুই ভালবাসার মধ্য দিয়ে বড় হতে চায়। রাষ্ট্র সমাজের কাছে প্রতিটি শিশুর জন্য এ অধিকার। পারিবারিক সম্পর্কের অনেক উর্ধে এ ভালবাসা। বড়দের দায়িত্ব শিশুদের ভালবেসে যাওয়া। বর্বরতা, নির্মমতার বিপরীতে এ ভালবাসা চিরন্তন অক্ষয়। শেখ রাসেল দিবসে এই অঙ্গীকারই মানুষের মধ্যে অনুরণিত হোক- সর্বত্র, সর্বাবস্থায় বিষম দুঃসহ মুহূর্তেও শিশুর জন্য শুধুই ভালবাসা ও দায়িত্বশীল আচরণ-স্পৃহা। তবেই অধরা মানবিক সমাজ ধরা দিবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ