শেখ হাসিনার সফরে নৌকার পালে হাওয়া || তৃণমূল চাঙা, নেতাকর্মীরা উজ্জ্বীবিত

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৭, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ

তানজিমুল হক


আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরে ঊজ্জ্বীবিত রাজশাহী অঞ্চলের নেতাকর্মীরা। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উৎসাহ-উদ্দীপনার সূচনা করেছে। দলীয় নেত্রীর আগমনে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে নেতাকর্মীদের। সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগ হয়েছে আরো শক্তিশালী। প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় কয়েক লাখ মানুষের সমাগমকে নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে মনে করছেন। আগামি জাতীয় সংসদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবার বিষয়টিকে নৌকার পালে হাওয়া বলেই ধারণা করছেন সাধারণ নেতাকর্মীরা।
রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর সাংগঠনিকভাবে আলোড়ন তুলেছে। তৃণমূল হয়ে উঠেছে চাঙা। আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে বন্যাপরবর্তী সহায়তার কথা বলেছেন। রাস্তা সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। এ বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে। আগামি নির্বাচনে একারণে সাধারণ ভোটাররা নৌকার পক্ষে থাকবেন। এছাড়া আমাদের নেত্রী ঐক্যের প্রতীক। আমাদের মাঝে সাংগঠনিকভাবে বিভেদ থাকলে তা দূর হয়েছে। নেতাকর্মীদের মাঝে সম্পর্কের বন্ধন পুনঃস্থাপিত হয়েছে।
নগরীর উপকণ্ঠ হরিয়ানে রাজশাহী চিনিকল মাঠে গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর একটা থেকে শুরু হয় পবা উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভা। বেলা ১১টার পর থেকেই রাজশাহীর বিভাগের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে আসতে থাকেন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। জনসভায় যোগ দেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ। দুপুর দুইটার মধ্যে নারী ও পুরুষের সম্মিলিত উপস্থিতিতে জনসভাস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। এরপরে আর জনসভাস্থলে কোন স্থান ছিলো না। দুপুর দুইটার পর থেকে আগত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জনসভা মাঠের বাইরে রেললাইন, হরিয়ান রেলস্টেশন, আখ ও বিভিন্ন ফসলের খেতের পাশে অবস্থান নেন। গভীর মনোযোগের সাথে শোনেন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য। সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের ভাষ্য, জনসভাস্থলে যদি এক লাখ মানুষ থাকেন, তাহলে এর বাইরে ছিলো আরো পাঁচ গুণ বেশি।
এদিকে দুপুর তিনটার দিকে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমি চারঘাটের সারদা থেকে বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারযোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসভাস্থলের পার্শ্ববর্তী হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন। এরপর তিনটা ৩৫ থেকে চারটা ৫মিনিট পর্যন্ত আধাঘণ্টা বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে নেতাকর্মীরা উদ্বেলিত হয়ে উঠেন। প্রধানমন্ত্রী এসময় বলেন, ‘আমি শেখের বেটি, আমার কাছে কিছু চাইতে হবে না। উন্নয়ন কীভাবে করতে হয়, তা আমার জানা আছে।’ এসময় নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন। তারা তাদের প্রিয় নেত্রীকে স্লোগান দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। উচ্ছ্বসিত জনতার শুভেচ্ছার উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়নের বিষয়ে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, রাজশাহীর উন্নয়নে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলা হবে। রেশমের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে নেয়া হবে কার্যকরী উদ্বেগ। এরপর তিনি রাজশাহীর উন্নয়নে বিশেষ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র থেকে উপস্থিত জনতাকে সজাগ থাকতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসকে প্রতিরোধের আহবান জানান। এর সঙ্গে তিনি আগামি জাতীয় সংসদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেন। এসময় প্রদানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। আর উন্নত দেশ হিসেবে ২০৩১ সালে সারাবিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। আওয়ামী লীগের গত দুই মেয়াদে দেশের প্রতিটি সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী এসময় আগামি নির্বাচনে বিজয়ী হবার জন্য সকল ভেদাভেদ ভুলে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হবার আহবান জানান।
বক্তব্য দেয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর ২৭টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের কৃষি, শিল্প, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, যোগাযোগসহ প্রতিটি সেক্টরের অভুতপূর্ব উন্নয়ন ঘটবে। এ এলাকার দৃশ্যপট পাল্টে যাবে। প্রতিটি এলাকার উন্নয়ন ঘটবে। যে ২৭টি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে, এর মধ্যে রাজশাহীর প্রতিটি উপজেলাতেই এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। এর ফলে উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোন এলাকা বৈষম্যের শিকার হবে না। আর এ বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন আওয়ামী লীগসহ এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ।
জনসভায় আগত গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল করিম ইমন মণ্ডল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। এর ফলে সাধারণ ভোটাররা বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন। এ অঞ্চলের উন্নয়ন সম্পর্কে আগামি দিনের পরিকল্পনা সম্পর্কেও তারা জেনেছেন। এর পাশাপাশি আমাদের এলাকার সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমরা সাধারণ মানুষকে আরো জানানোর জন্য তাদের কাছে যাব। আমরা আশাবাদী, আগামি সংসদ নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের মনে এ বিষয়গুলো ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ইমন মণ্ডলের মতোই একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানান জনসভায় আগত বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নসহ তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
প্রধানমন্ত্রীর সফর, উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক জানিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের রোল মডেল। তার সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সারাবিশ্বে প্রশংসিত। আর এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনসভায় তিনি সাধারণ মানুষকে অবহিত করেছেন। পাশাপাশি রাজশাহী অঞ্চলের আগামি দিনের উন্নয়ন সম্পর্কেও তিনি তার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। উদ্বোধন করেছেন ২৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বন্যাপরবর্তী সময়ে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর নেতাকর্মীদের মধ্যে দৃঢ় বন্ধন তৈরি করেছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় নেতাকর্মীরা উজ্জ্বীবিত হয়েছেন। এ বিষয়গুলো সামনের জাতীয় সংসদ এবং সিটি নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ