শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত শেখ হাসিনার চ্যালেঞ্জেই বাংলাদেশের ভাগ্য পাল্টে যায়: মেয়র লিটন

আপডেট: মে ১৭, ২০২১, ১০:২০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হন। সে সময় তার দুই কন্যা প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় তারা রেহাই পায়। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালের আজকের এই দিনে দেশরত্ন শেখ হাসিনা ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন। সে সময় কুলাঙ্গার জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও ছাত্র লীগের অনেক নেতাকর্মীদের গুম করা হয়েছিলো। এমন পরিস্থিতে এসে শেখ হাসিনা যে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন, সেই চ্যালেঞ্জেই বাংলাদেশের ভাগ্য পাল্টে যায়।
রাজশাহীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র ৪০ তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এসব কথা বলেন।
নগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সোমবার (১৭ মে) সকাল ১১ টায় কুমারপাড়া দলীয় কার্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখেন, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহীন আকতার রেনী, সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল।
সভায় এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন আরো বলেন, পঁচাত্তরের ঐ ঘৃনিত ঘটনা যদি না হতো, বঙ্গবন্ধু যদি আরও বেশি বছর বেঁচে থাকতেন তবে বাংলাদেশ অনেক আগেই উন্নত দেশে পরিনত হতো। আজ তারই কন্যা শেখ হাসিনা স্বাধীনতার শক্তিকে একত্রিত করতে ও দেশের মানুষের চাহিদা মেটাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, আব্দুর রাজ্জাক বাকশাল তৈরির মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে বিভক্ত করে দীর্ঘদিন যাবৎ ক্ষমতায় যাওয়া থেকে আটকে রেখেছিলো। এরশাদ সরকারের সময়ও সেনা শাসনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে বাধা দেয়া হয়েছিলো। ১৯৮৭ সালে শেখ হাসিনাকে গুলি করে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিলো। কিন্তু আল্লাহ্র রহমতে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। অতঃপর সকল বাধা অতিক্রম করে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতায় আসে। প্রধানমন্ত্রী হন জননেত্রী শেখ হাসিনা। সেই সময় তিনি দেখিয়ে ছিলেন দেশ চালানোর অভিনব দক্ষতা। দ্বিতীয় দফায় দীর্ঘ ১২ বছর যাবৎ তিনি সফলতার সাথে দেশ পরিচালনা করছেন। বাংলাদেশের দারিদ্রতার হার ৪০ শতাংশ থেকে এখন ১২ শতাংশে নেমে এসেছে। সকল পরিসংখ্যানে দেশের অনেক উন্নতি হয়েছে। দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা দোয়া করি, আল্লাহ্ যেন তাঁকে সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু দান করেন।
সভায় মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। সে সময় তার দুই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রবাসে বসবাস করায় তারা প্রাণে বেঁচে যায়। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালের আজকের এই দিনে দেশরত্ন শেখ হাসিনা বাংলাদেশে এসেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি যখন দেশে ফিরে আসেন তখনও ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছিল। আবার ৮১ সালের আজকের এই দিনে যখন দেশরত্ন শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসেন তখনও ঝড়-বৃষ্টি দেখা গিয়েছিলো। কাকতালিয় ভাবে আন্দোলন সংগ্রাম সহ সবকিছুতেই বাবা ও মেয়ের মিল ছিলো। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলা গড়ার চেষ্টা করেছিলেন আজ তারই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সেই সোনার বাংলার তৈরির জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আমরা দোয়া করি, আল্লাহ্ যেন তাকে সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু দান করেন।
এ সভা ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী, অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, রেজাউল ইসলাম বাবুল, ডা. তবিবুর রহমান শেখ, নাঈমুল হুদা রানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক হোসেন, আসাদুজ্জামান আজাদ, আহ্সানুল হক পিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আসলাম সরকার, মীর ইসতিয়াক আহম্মেদ লিমন, কৃষি সম্পাদক মীর তৌফিক আলী ভাদু, প্রচার সম্পাদক দিলীপ কুমার ঘোষ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জিয়া হাসান আজাদ হিমেল, ধর্ম সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মকিদুজ্জামান জুরাত, শ্রম সম্পাদক আব্দুস সোহেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক কামারউল্লাহ সরকার কামাল, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সম্পাদক ডা. ফ ম আ জাহিদ, উপ-প্রচার সম্পাদক সিদ্দিক আলম, সদস্য জহির উদ্দিন তেতু, আশরাফ উদ্দিন খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুল মান্নান, সৈয়দ মন্তাজ আহমেদ, মজিবুর রহমান, আব্দুস সালাম, খায়রুল বাশার শাহীন, মোখলেশুর রহমান কচি, মাসুদ আহম্মেদ, কে.এম জুয়েল জামান প্রমুখ।
জেলা আওয়ামী লীগ:
রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেরাজ উদ্দিন মোল্লা’র বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয় ।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি আব্দুল ওয়াদুদ দারা। দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রেজওয়ানুল হক পিনু মোল্লা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, সহ-সভাপতি মন্ডলী অনিল কুমার সরকার, আমানুল হাসান দুদু, অ্যাড. ইব্রাহিম হোসেন, অধ্যক্ষ এসএম একরামুল হক, জাকিরুল ইসলাম সান্টু, বীর মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মন্ডলীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অ্যাড. লায়েব উদ্দিন লাবলু, অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান মানজাল, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আসাদুজ্জামান, অ্যাড. আব্দুস সামাদ, আলফোর রহমান, দপ্তর সম্পাদক প্রদ্যুৎ কুমার সরকার, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড.এজাজুল হক মানু, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক কুমার প্রতীক দাস রানা, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মেহবুব হাসান রাসেল, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রেজওয়ানুল হক পিনু মোল্লা, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক প্রমুখ। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ কমিটির সদস্য ডা. আনিকা ফারিহা জামান অর্ণা, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নাসরিন আক্তার মিতাসহ অন্যান্যরা।
মান্দা : নওগাঁর মান্দায় আলোচনা সভা, দলীয় পতাকা উত্তোলন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪০ তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন করা হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন মন্ডলের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নাহিদ মোর্শেদ বাবু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ জহুরুল ইসলাম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম মোল্লা, সাবেক দপ্তর সম্পাদক অনুপ কুমার মহন্ত, সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক মির্জা মাহবুব বাচ্চু, সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক বিমলেন্দু দাস খোকন, সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক জেসমিন আরা, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজা মোর্শেদ, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ভাইস চেয়ারম্যান গৌতম কুমার মহন্ত, উপজেলা যুবমহিলা লীগের সভাপতি ও ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবা সিদ্দিকা রুমা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক নওসাদ আলী, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক কাজল দেওয়ানসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জে দিবসটি উপলক্ষে সোমবার বিকেলে জেলা শহরের দলীয় কার্যালয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগ শাখার আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পৌর শাখার সভাপতি অধ্যাপক শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোখলেসুর রহমান, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, যুগ্ম-সম্পাদক কৃষিবিদ রোকনুজ্জামান, ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল খালেদ পলাশ, জেলা ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক ডা. সাইফ জামান আনন্দ প্রমুখ। বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসেছিলেন বলেই বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করা হয়েছে। বাংলাদেশ হয়েছে পাপ ও কলংকমুক্ত। তাই ৭৫ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ও সাহসী মানবিক রাষ্ট্র নায়কের নাম শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে দেশ আজ দূর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে।