শের-এ-বাংলা এ.কে ফজলুল হকের ৫৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আপডেট: এপ্রিল ২৭, ২০১৭, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


শের-এ-বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক-সংগৃহীত

শের-এ-বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হকের ৫৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন।
এ দেশের কৃষক শ্রমিক তথা মেহনতি মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে তার অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে আজও স্মরণ করে।
শেরে বাংলা আমৃত্যু ছিলেন শোষিত ও বঞ্চিত জনগণের অতি আপনজন। একমাত্র প্রেসিডেন্টের পদটি ছাড়া সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদ ছিল না, যা তিনি কোনো এক সময় অলঙ্কৃত করেননি।
এ অঞ্চলের মানুষের শিক্ষা, রাজনীতি, সমাজ সংস্কার ইত্যাদি ক্ষেত্রে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন শেরে বাংলা। তিনি মানুষ হিসেবে উদার-অসাম্প্রদায়িক চেতনার ছিলেন। কিন্তু তৎকালীন সময়ে পিছিয়ে পড়া মুসলিমদের জাগরণে অসামান্য অবদান রেখেছেন। দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে মহাজনি ঋণের নিষ্পেশন থেকে মুক্তির উদ্যোগ তিনিই প্রথম নিয়েছিলেন।
বাংলার ধূলোমাটি ছিল যাঁর গৌরব, বাংলার মানুষের জন্যে অসীম ভালবাসা ছিল যাঁর প্রাণের সৌরভ, বাংলার মানুষের সেবার জন্যে আজীবন সংগ্রাম ছিল যাঁর জীবনের লক্ষ্য, নীতির প্রশ্নে যিনি ছিলেন আপোষহীন, তিনি হচ্ছেন আমাদের শের-এ-বাংলা একে ফজলুল হক। বাঙালি জাতির গর্বের উৎস এবং কেন্দ্র আমাদের শের-এ-বাংলা। যুগযুগ ধরে ত্যাগ তিতিক্ষার দ্বারা বাঙালিদের জীবনের সর্বক্ষেত্রে সর্বস্তরে জ্ঞান ও কর্ম সাধনার যে আদর্শ তিনি স্থাপন করে গেছেন, তা চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।
বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাঙালি কূটনীতিক হিসেবে বেশ পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের নিকট ‘শের-এ-বাংলা’ এবং ‘হক সাহেব’ নামে পরিচিত। তিনি রাজনৈতিক অনেক পদে অধিষ্ঠান করেছেন- তার মধ্যে কলকাতার মেয়র (১৯৩৫), অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী (১৯৩৭ – ১৯৪৩), পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী (১৯৫৪), পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী (১৯৫৫), পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর (১৯৫৬ – ১৯৫৮) অন্যতম। যুক্তফ্রন্ট গঠনে প্রধান নেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম।
তাঁর উদ্যোগে বঙ্গীয় চাকরি নিয়োগবিধি, প্রজাস্বত্ব আইন, মহাজফন আইন, দোকান কর্মচারী আইন পাশ হয়। ফলে এ অঞ্চলের অবহেলিত কৃষক-শ্রমিক উপকৃত হন।
তিনি বহুগুণের অধিকারী ছিলেন, বাংলার মানুষের কাছে তিনি শের-ই বাংলা হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন। জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর বরিশালের রাজাপুর থানার সাতুরিয়া গ্রামে।