শেষ হলো জলবায়ু সম্মেলন ও চুক্তি চুক্তি বাস্তবায়নের আর গড়িমসি নয়

আপডেট: নভেম্বর ২৩, ২০২২, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

মানবজাতির জন্য এ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন এবং এর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা করা। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে মানবজাতি, পরিবেশ.ও প্রতিবেশ সুরক্ষার জন্য ১৯৯৫ সাল থেকে প্রায় প্রতি বছর বিশ্বের কোনো না কোনো দেশে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন, যা বিশ্বব্যাপী কপ নামে পরিচিত। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছরও জাতিসংঘের আয়োজনে জলবায়ু সম্মেলন বা কপ২৭ মিসরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল।
এ বছর জলবায়ু সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত আলোচলার পাশাপাশি যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট, নিরাপদ খাদ্য আর জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতির অর্থ জোগান নিয়েও আলোচনা হয়। এবারো ক্ষতিপূরণ আর জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আধুনিক প্রযুক্তি পাওয়ার দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশসহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো।
এবারের সম্মেলনে স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারজিয়ন কপ২৭ সম্মেলনে লস অ্যান্ড ড্যামেজের আওতাধীন ক্ষতিপূরণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার প্রদানের অঙ্গীকার করেন, পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিশেল মার্টিন সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার প্রদানের অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করেন। এছাড়া অস্ট্রিয়ার জলবায়ু মন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে ৫০ মিলিয়ন ডলার প্রদানের অঙ্গীকার করেন। চতুর্থ দিনে জার্মানি এবং বেলজিয়ামসহ বিশ্বের আরো কিছুসংখ্যক ধনী দেশ এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতির সম্মুখীন উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সাহায্য করার জন্য তহবিল প্রদান করবে। এর মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে জার্মানি, স্কটল্যান্ড, বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া ভি-টোয়েন্টি গ্রুপ ৫৮টি উন্নয়নশীল দেশকে কিছু অর্থসহায়তা প্রদানের অঙ্গীকার করেন। জার্মানি ও বেলজিয়াম জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি ফিরিয়ে আনতে ১৭০ মিলিয়ন ইউরো এবং ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গরিব দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে ঐতিহাসিক ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে কপ২৭ সম্মেলনে। ১৯ নভেম্বর গভীর রাতে মিশরের শার্ম-আল-শেখে প্রেসিডেন্ট সামি শৌকরি চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দেন।
শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষর হওয়া এই ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ চুক্তিতে ধনী দেশগুলো কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেবে আর ক্ষতিগ্রস্তরাই বা কীভাবে ক্ষতিপূরণ পাবে তার বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি।
জলবায়ু পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখায় শতকের পর শতক ক্ষতিপূরণ টানতে হতে পারে এই ভয় থেকেই ধনী দেশগুলো গত ৩০ বছর ধরে ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনায় বাধা দিয়ে আসছিল। নানান মতবিরোধ থাকায় এটি ঠিক হতেও বেশ সময় লাগতে পারে বলে অনেকের অনুমান। তবে আর যাই হোক, কোনো মতবিরোধের চোরাবালিতে চুক্তির মহৎ উদ্দেশ্য যাতে ব্যাহত না হয়। গরিব দেশগুলো ক্ষতিপূরণ পাওয়ার হকদার। বিশ্বকে মানবজাতির বাসযোগ্য করে রাখতে জলবায়ুর মত সংবেদনশীল ইস্যুকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। অন্তত এ বিষয়টি ইতোমধ্যেই বেশ পরিস্কার হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ