শ্বাসরোধ করে অটোরিকশার চালককে হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন

আপডেট: মে ১৭, ২০২২, ১০:০৬ অপরাহ্ণ

খোরশেদ আলম মিলন হত্যায় আটককৃত আসামিরা

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:


নাটোরের লালপুরে অটোরিকশার চালক খোরশেদ আলম মিলন (৩২) হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। আড়াই শ টাকা ভাড়ায় গিয়ে তাকে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার সাথে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

আরেক জনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ছিনতাইকৃত অটোরিকশা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৭ মে ২০২২) নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার (এসপি) লিটন কুমার সাহা বিপিএম, পিপিএম-বার এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, লালপুরের কদিমচিলা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মো. নাজমুল হোসেনের ছেলে মো. সজিব হোসেন (১৯), মো. আরজ আলীর ছেলে মো. রবিউল ইসলাম (২৩), নাটোর সদরের কাফুরিয়া (গাওপাড়া ঢালান) গ্রামের মো. আসাদুল মিস্ত্রির ছেলে মো. মেহেদী হাসান (২২) ও দস্তানাবাদ গ্রামের মৃত সৈয়দ আহম্মেদের ছেলে মো. সাগর আলী (৪০)।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, বড়াইগ্রাম উপজেলার মহিষভাঙা এলাকার ফকরুল ইসলামের ছেলে খোরশেদ আলম মিলন (৩২) গত শনিবার (১৪ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে অটোরিকশা নিয়ে ভাড়ায় চালানোর জন্য বের হন। বাড়িতে আর ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন।

পরে সন্ধান না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন। একপর্যায়ে চাঁনপুর থেকে কদিমচিলান বাজার যাওয়ার রাস্তার ওপর তাঁর ব্যবহৃত জুতা দেখতে পেয়ে আশপাশে খোঁজ করতে থাকেন তার স্বজনেরা। গত রোববার সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা কদিমচিলান ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের একটি আখের খেতে তাঁর মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করলে পরিবারের লোকজন মিলনের মরদেহ শনাক্ত করে।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. ফখরুল ইসলাম (৬৩) বাদী হয়ে গত রোববার লালপুর থানায় লিখিতভাবে এজাহার দাখিল করেন।
নাটোরের এসপি লিটন কুমার সাহা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নির্দেশনা মোতাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বড়াইগ্রাম সার্কেল) মো. শরীফ আল রাজীবের নেতৃত্বে লালপুর থানার ওসি মোহা. মোনোয়ারুজ্জামান, ওয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক হোসেন তালাশ, ডিবি ও ডিএসবির পৃথক টিম গঠন করে অভিযান চালানো হয়।

দ্রুত সময়ে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটনার সাথে জড়িত আসামী মো. সজিব হোসেনকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, মেহেদী হাসান, রবিউল ইসলাম ও অপর একজন মিলে ইজি বাইকটি ছিনতাই করার উদ্দেশ্যে মূলত হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছেন। নিহত মিলন আসামী সজিব ও রবিউলের পূর্ব পরিচিত।

ঘটনার আগের দিন (১৩ মে) রাতে তারা বনপাড়া হতে ২৫০ টাকা ভাড়ায় ঘাটচিলান গ্রামে যায়। ইজি বাইকটি নতুন হওয়ায় তারা সেটি ছিনতাই করার পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনা মোতাবেক গত ১৪ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আসামী রবিউল ফোনে নিহত মিলনকে ডেকে নিয়ে আসামী সজিব, মেহেদী হাসান, রবিউল ইসলাম ও অপর একজন যাত্রীবেশে বনপাড়া থেকে রওনা হয়। একপর্যায়ে লালপুরের ঘাটচিলান গ্রামের মো. আব্দুস সামাদের (সাবেক মেম্বার) আখ ক্ষেতে মিলনকে নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ইজিবাইকটি নিয়ে যায়।

আসামী সজিবকে গত ১৬ মে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে সে দোষ স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যমতে গত ১৬ মে রাতে আসামী রবিউল ইসলাম ও মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিউল এবং মেহেদীর দেওয়া তথ্যমতে মো. সাগর আলীকে গ্রেপ্তার ও তার বাড়ি থেকে ছিনতাইকৃত ইজি বাইকটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ