শ্রমিকদের জন্য শতভাগ মজুরির সুপারিশ || শ্রমিকদের স্বার্থই রক্ষা হবে এটাই প্রত্যাশা

আপডেট: জুলাই ৯, ২০১৭, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

রাষ্ট্রায়ত্ত কল-কারখানার শ্রমিকদের মজুরি শতভাগ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন। এতে শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরির সুপারিশ করা হয়েছে ৮ হাজার ৩শ টাকা এবং সর্বোচ্চ মুজরির সুপারিশ করা হয়েছে ১১ হাজার ৬শ টাকা। মজুরির পাশাপাশি খাতভিত্তিক ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশও করা হয়েছে। সুপারিশে ঢাকা মহানগরীতে বাড়িভাড়া মূল বেতনের ৬০ ভাগ এবং অন্যান্য স্থানে ৫৫ ভাগ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া, সরকারি চাকরিজীবীদের মতো শ্রমিকদেরও মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে নববর্ষ ভাতার সুপারিশ করা হয়। ৪ জুলাই কমিশনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।
এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশে প্রকাশিত হয়েছে।
এই প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হলে সেটা মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের মধ্য দিয়ে কার্যকর হবে।’ জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশনে সরকার ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি থাকায় চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বড় ধরনের কোনও পরিবর্তন আসবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্যমতে জাতীয় বেতন স্কেলের মতো শ্রমিকদের মজুরিও ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। শ্রমিকদের পক্ষ থেকেও একই দাবি রয়েছে। তবে, সরকারের আর্থিক সামর্থ বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত হবে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত কল-কারখানায় বর্তমানে প্রায় ৭০ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। ২০১০ সালে সর্বশেষ মজুরি কাঠামো ঘোষণা করা হয় তাদের জন্য। এরপর ৭ বছরে দ্রব্যমূল্যসহ জীবনধারণের সব ব্যয় বাড়লেও তাদের মজুরি বাড়েনি। পরে ২০১৬ সালের আগস্ট সাবেক শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খানকে সভাপতি করে ১৮ সদস্যের জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন গঠন করা হয়। ওই কমিশন ১৯টি বৈঠকের মাধ্যমে গত ২৮ মার্চ প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে তা মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা দেয়।
এথন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা। সেটা কত শিগগিরই হবে সেটাই দেখাপর বিষয়। তবে বিষয়টিকে আর প্রলম্বিত না করে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনাটাই প্রত্যাশিত। প্রধানমন্ত্রীকে শ্রমিকবান্ধব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়। শ্রমিকদেরও প্রত্যাশা তা-ই যে, প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয় শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনা করে দ্রুততার সাথে ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন। যাতে করে শ্রমিকরা তাদের পরিবার নিয়ে স্বচ্ছল জীবনযাপন করতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ