শ্রমিক অধিকার কাউকে কুক্ষিগত করতে দেয়া হবে না : লিটন ।। রবিকে আহবায়ক করে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন

আপডেট: জুন ৫, ২০১৭, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভায় বক্তব্য দেন সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন- সোনার দেশ

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং নগর সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, রাজশাহীর পরিবহন জগতে আজ বিপ্লব ঘটলো। যারা শ্রমিকদের অধিকার কুক্ষিগত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাউকে শ্রমিক অধিকার কুক্ষিগত করতে দেয়া হবে না। শ্রমিকদের হত্যার ভয় দেখিয়ে যারা কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। গুটি কয়েক নেতাদের কাছে জিম্মি হয়ে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শ্রমিকদের অধিকার ফিরিয়ে দিতেই রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হলো। আশা করছি, অল্প দিনের মধ্যেই নির্বাচনের মাধ্যমে মোটর শ্রমিকরা তাদের যোগ্য নেতৃত্ব পাবেন।
গতকাল রোববার দুপুরে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নে আহ্বায়ক কমিটি গঠন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ২১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করেন।
কমিটি ঘোষণাকালে লিটন বলেন, এর আগে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের একজন নেতা সংগঠনটিকে জিম্মি করে রেখেিেছলেন। তিনি শ্রমিকদের গোরস্থানে নিয়ে গিয়ে নিজের পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। অন্যথায় শ্রমিকদের হত্যার হুমকি দেন। একইভাবে ওই নেতার লোকজন শ্রমিকদের টাকা জোর করে আত্মসাত করেন। এটাকা দিয়ে তিনি কয়েকটি ট্রাকের মালিক হয়েছেন।
লিটন বলেন, শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য ওই নেতা হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা দেন। আর হাসপাতালের তহবিল গঠনের জন্য মেলা ও র‌্যাফেল ড্রর আয়োজন করেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি হাসপাতাল নির্মাণে আন্তরিক ছিলেন না। এসব টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। এমনকী প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে শ্রমিকদের হোটেল বিক্রি করা টাকাও তার পকেটে। শ্রমিকদের ফান্ডের টাকাও তিনি তছরুপ করেছেন। নির্বাচনে ব্যালেট ছিনিয়ে নিয়ে জোর করে জিততে চেয়েছেন।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি লিটন বলেন, আওয়ামী লীগ সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক সংগঠন। এখানে অরাজকতা ও সন্ত্রাসের স্থান নেই। আর একারণেই ওই নেতাকে মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। ওই নেতা আজ (গতকাল রোববার) সর্বশেষ পরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। তার এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না। সবকিছু শৃঙ্খলার মধ্যে চলবে। আর সর্বোপরি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্যই আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হলো। এরপরেও যদি কেউ অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চান, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক কামাল হোসেন রবি ছাড়া অন্য সদস্যরা হলেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মমিনুল ইসলাম মমিন, সদস্য রজব আলী, আলমগীর হোসেন, কামরুজ্জামান টুটুল, রাজ্জাক খান টুটুল, উজ্জ্বল, তমল চন্দ্র বসাক, রফিকুল ইসলাম পল্টু, আতিকুল ইসলাম টুলু, আবুল কালাম আজাদ, আব্দুর রহমান, আদিল, আলিমুদ্দিন আলী, কাজিরুল ইসলাম সেলিম, আব্দুর রহমান ভূট্টু, আনন্দ ঘোষ, মামুন হোসেন, মিন্টু হোসেন, হাসান আলী দিলীপ ও নজরুল ইসলামসহ ২১ জন।
মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভায় এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাহফুজুল আলম লোটন, সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, যুগ্মসম্পাদক রেজাউল ইসলাম বাবুল, উপপ্রচার সম্পাদক মীর ইশতিয়াক আহমেদ লিমন, মহানগর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলী, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবদুল মোমিন, সাধারণ সম্পাদক জেডু সরকার প্রমুখ।
অপরদিকে গতকাল সকালে আহবায়ক কমিটি ঘোষণার বিষয়টি জানতে পেরে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরীর সমর্থকরা নগরীর শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থান নিয়ে সব রুটের বাস চলাচল বন্ধের চেষ্টা চালান। এ সময় কিছু সময় বাস চলাচল বন্ধ থাকে। বন্ধ হয়ে যায় বাস কাউন্টারও। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। এরপর বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ মে শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাতে ভোট গণনার শুরু হলে ৭০ থেকে ৮০ জন শ্রমিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করে চেয়ার, টেবিল ও ব্যালট বাক্স ভাঙচুর করে এবং ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরাও আহত হন।