শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে সংঘর্ষ, উদ্বিগ্ন সাংসদ বাদশা

আপডেট: মে ২৭, ২০১৭, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে সংঘর্ষে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা। গতকাল শুক্রবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সাংসদ বাদশা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করলাম মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের পর ভোট গণনার সময় প্রকাশ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়। সমস্ত ব্যালট পেপার ও বাক্স ছিনতাই করে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এমনকি নির্বাচন কমিশনারদেরও মারধর করা হয়।’
বাদশা বলেন, প্রাকাশ্য অস্ত্র ব্যবহার ও বিস্ফোরকদ্রব্যসহ আক্রমণ কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই ঘটে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিস্ক্রিয়তা সকলকে হতবাক করে দেয়। রাজশাহী মহানগরের সংসদ সদস্য হিসেবে আমি উদ্বিগ্ন।’
তিনি বলেন, ‘রাজশাহী মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। কারা এ ধরনের ঘটনার নায়ক, এটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জানা অতি সহজ বিষয়। অথচ কেউ গ্রেফতার হয়নি! আমি অনতিবিলম্বে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’
প্রসঙ্গত, গত বুধবার জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। রাতে ভোট গণনা শুরু হলে নিজের পরাজয়ের ব্যাপারে অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যান বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাচনে একই পদের প্রার্থী মাহাতাব হোসেন চৌধুরী।
এ সময় তার সমর্থকরা ভোট গণনার স্থানে হামলা চালিয়ে ব্যালট পেপার ছিনতাই করে। বাধা দিতে গেলে তিন নির্বাচন কমিশনার ও অপর প্রার্থীর সমর্থকসহ ১০ জন আহত হন। ওই ঘটনার ছবি তুলতে গেলে এক টিভি সাংবাদিকের ক্যামেরা ও মোবাইল ভাঙচুর করে তাকে লাঞ্ছিত করা হয়।
ওই সময় গোলাগুলি ও ককটেলের বিস্ফোরণে শিরোইল বাস টার্মিনাল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ভাঙচুর করা হয় বাস, ট্রাক, চেয়ার-টেবিল ও টিকিট কাউন্টার। এ ঘটনায় নগরীর থানায় দুটি মামলা করা হয়। একটি মামলার বাদী প্রধান নির্বাচন কমিশনার অঙ্কুর সেন এবং অন্যটির বাদি পুলিশ।
অঙ্কুর সেনের মামলায় তার ওপর হামলা এবং পুলিশের মামলায় সরকারি কাজে বাঁধাদানের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুটি মামলায় অজ্ঞাত ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে গতকাল শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ