শ্রমিক নেতৃত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আক্ষেপ || প্রকৃত নেতৃত্ব সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হবে

আপডেট: মে ৩, ২০১৭, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের শিল্পকারখানাগুলোকে অস্থিতিশীল করতে কিছু শ্রমিক নেতার যোগসাজসের অভিযোগ করেছেন। ওই শ্রমিক নেতারা বিদেশের স্বার্থে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন।
সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মে দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শ্রমিক পরিচয়ের ‘শ্রমিক নেতাদের’ আচরণে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “কিছু কিছু শ্রমিক নেতা জুটে যান.. তারা যে কোথাকার শ্রমিক, তা আমি জানি না। তারা নেতা সাজেন।
“একটা শ্রেণি আছে, তাদের কাজই হচ্ছে.. দেশে খবর নাই, বিদেশে মেসেজ পাঠাতে থাকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। তাদের লাভটা কী? তারা কি ভাড়া খাটেন?”
প্রধানমন্ত্রী যে সংশয় প্রকাশ করেছেন তা খতিয়ে দেখা যেতে পারে। তাঁর বক্তব্যকে অন্তঃসারশুন্য ভাবার কোন্ োকারণ নেই। বাংলাদেশকে নিয়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের ব্যাপাটি তো আর নতুন নয়।  বাংলাদেশকে এসব চরাই-উৎরাই করেই এগিয়ে যেতে হচ্ছে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, শ্রমিকদের স্বার্থকে পুঁজি করে এক শ্রেণির শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে শ্রমিক অসন্তোষসহ আন্তর্ঘাত সৃষ্টির অভিযোগ করা হয়। যদিও এসব অভিযোগ কখনো খতিয়েও দেখা হয়নি। তবে এটা বুঝতে কোনো অসুবিধা হয় না যে, দেশের শ্রমিক শ্রেণিকে শ্রমআইন সম্পর্কে সচেতন করে তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর ব্যাপারটি শ্রমিক সংগঠনগুলোর কর্মসূচির মধ্যে তেমভাবে নেই। সংখ্যাগরিষ্ট শ্রমিক শ্রেণিকে অজ্ঞ-অক্ষম রেখে শ্রমিক স্বার্থ যে উদ্ধার করা যাবে না সেটা স্বার্থান্বেষী শ্রমিক নেতৃবৃন্দও জানেন। ওই নেতারা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করে লাভবান হয়েছেন, বিত্ত- বৈভবের মালিক হয়েছেন কিন্তু শ্রমিক শ্রেণি তাদের ধ্রুততার কাছে সব সময় প্রতারিত হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যাবে, শ্রমিক নেতাদের অধিকাংশই শ্রমআইন সম্পর্কে ধারণা রাখেন না। শুধু তাই নয়- নেতৃত্বের একটি বড় অংশই শ্রমিক নয়। ফলে শ্রমিকরা কাঙিক্ষত ফলাফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
শ্রমিক মানুষের নিবিড় সম্পর্কের কথা আমরা বলছি বটে কিন্তু সেই সম্পর্ক তৈরি করা যাবে না যতদিন প্রতারক নেতৃত্ব টিকে থাকবে। কেননা এই নেতৃত্বের ফলে মালিক পক্ষ যে কোনো শ্রমিকবিরোধী সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এর অবসান হওয়া খুবই জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের ভরসা দিয়ে বলেছেন, বর্তমান সরকারের রাজনীতি শ্রমিকদের জন্যই। তিনি শ্রমিকদের সাথেই আছেন বলে দাবি করেন। তিনি শ্রমিকদের সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সাথে শ্রমিকদের ‘ভালো-মন্দ’ দেখতে মালিকদেরও তাগিদ দেন।
প্রকৃত অর্থে শ্রমিকদের মধ্যে সততা ও নিষ্ঠার অভাব আছে বলে মনে হয় না। গুটি কয়েক শ্রমিক নেতাদের উস্কানিতে পরিস্থিতি বিশৃঙ্খল করে তোলা হয়। ওই অশুভ শক্তিকে প্রতিরোধ করতে হলে শ্রমিকদের স্বার্থগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে ন্যায্য মজুরির সাথে শ্রমিকদের কর্মস্থলের নিরাপত্তা এবং নির্ধারিত কর্মঘণ্টা অনুযায়ী কাজের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা। এর জন্য মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের সক্ষম নেতৃত্বের সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে। সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয় বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভাববেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ