শ্রীলঙ্কার পত্রিকা ‘দ্য আইল্যান্ড’ || গভীর বেদনা যাতে ভব্যতা না হারায়

আপডেট: মার্চ ২৩, ২০১৭, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

ক্রিকেট অনিশ্চতার খেলা। এটা হয় তো বেমলুম ভুলে গেছে শ্রীলঙ্কার পত্রিকা ‘দ্য আইল্যান্ড’। তারা  শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ডের কার্টুন ছাপ লিখেছে ‘শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের মৃত্যু হয়েছে’। শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। লঙ্কানদের তাদেরই মাটিতে হারিয়ে এমন ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচ জেতায় নিজেদের ক্রিকেটের মৃত্যু ঘোষণা করেছে লঙ্কান পত্রিকা ‘দ্য আইল্যান্ড।’ শুধু তাই নয়, সেই টেস্ট ম্যাচের একটি এপিটাফও প্রকাশ করেছে তারা। রিপ শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট- নামের ওই প্রতিবেদনে সেই এপিটাফে লেখা রয়েছে- ‘গভীর দুঃখের সঙ্গে জানানো যাচ্ছে যে, ওভালে ২০১৭ সালের ১৯ মার্চ শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের মৃত্যু হয়েছে। বন্ধু ও সুহৃদরা এই মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। রিপ (জওচ)।’ কফিনে করে মৃতদেহ বয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যঙ্গচিত্র ছেপেছে পত্রিকাটি। শুধু তাই নয়, সেখানে লঙ্কান ক্রিকেটের মৃতদেহ পুড়িয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর কথাও লেখা রয়েছে।
এতে করে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডকে যতখানি ছোট করা হয়েছে। তার চেয়ে ‘দ্য আইল্যান্ড’ পত্রিকায়  বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বেশ অপমান করা হয়েছে। তারা বুঝাতে চেয়েছে, বাংলাদেশ একটি সবে ক্রিকেট খেলা শিখে শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্ট খেলতে এসেছে। আর শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দিয়েছে। কিন্তু তাদের মনে রাখা উচিত বাংলাদেশ একদিনে এই পর্যায়ে যায়নি। তারা শততম টেস্ট খেলেছে। আর সেই টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে নিজেদের মাটি হারিয়েছে আমাদের দামাল ছেলেরা। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রশংসা করে শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়াবর্ধনে নিজেদের টুইটারে গুনকীর্তন গেয়েছেন।
ক্রিকেটের দশ দেশের শততম টেস্টের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে,  ১৯১২ সালে সর্বপ্রথম শততম টেস্ট খেলে অস্ট্রেলিয়া, প্রতিপক্ষ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কালক্রমে সেই ধারায় বাংলাদেশ চলতি মাসের ১৫ মার্চ তাদের শততম টেস্ট ম্যাচটি খেলতে নামে। বাংলাদেশের শততম ম্যাচ খেলার মধ্য দিয়ে টেস্ট খেলুড়ে সবগুলো দেশই ১০০টি টেস্ট খেলার মাইলফলকে পৌঁছেছে। ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলেছে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। এরপর ভারত, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। তাদের তুলনায় বাংলাদেশ অতি সামান্য পরিমাণ টেস্ট খেলার সুযোগ পায়। লঙ্কানদের বিপক্ষে শততম টেস্ট জেতার মধ্য দিয়ে হয়তো ভবিষ্যতে আরও বেশি টেস্ট খেলার দরজাটা খোলা হলো! টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে নিজেদের শততম টেস্টে মাত্র চারটি দল জয় লাভ করেছে। অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের পর চতুর্থ দেশ বাংলাদেশ। বাকি দলগুলোর মধ্যে কেবলমাত্র নিউজিল্যান্ড তাদের শততম ম্যাচটি ড্র করতে সমর্থ হয়। বাকি ৫ টেস্ট খেলুড়ে দেশ হার দিয়ে শেষ করে তাদের মাইলফলকের ম্যাচটি। এক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কাও আছে। ২০০০ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ যখন প্রথম টেস্ট খেলে, তখন লঙ্কানরা তাদের শততম ম্যাচ খেলে ফেলেছে। ওই বছর জুনে কলম্বোতে পাকিস্তানের বিপক্ষে শততম ম্যাচে ৫ উইকেটে হেরেছিল লঙ্কানরা। আগে ব্যাটিং করা শ্রীলঙ্কা ২৭৩ রান সংগ্রহ করে। জবাবে খেলতে নেমে পাকিস্তান মুত্তিয়া মুরালিধরনের ঘূর্ণিতে ২৬৬ রানে অলআউট হয়। ৭ রানে এগিয়ে থেকে লঙ্কানরা তাদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে। কিন্তু ওয়াসিম আকরামের বোলিং তোপে ১২৩ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা। ১৩১ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে পাকিস্তান ৫ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে। শ্রীলঙ্কার চেয়ে আমাদের বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামো এখন ভালো। আমাদের বাংলাদেশে আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। আর তাদের দেশে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ বন্ধ রয়েছে। শুধু কী তাই, শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়রাও ম্যাচ খেলার পরও ভালো বেতন পায় না। সেক্ষেত্রে আমাদের বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা অনেক এগিয়ে। বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানসহ তামিম, মুশফিকের মতো বিশ্ব কাঁপানো খেলোয়াড় আছে। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকভাবে খেলোয়াড়দের খোঁজ খবর রাখেন। আর তাদের দেশের প্রধানরা এই বিষয়ে তেমন ভ্রুক্ষেপ নেই। এটা বিভিন্ন সংবাদপত্রের পাওয়া যায়। তাই নিজেদেরকে ছোট করার আগে ভাবতে হবে। অন্যদের আঘাত করছি নাতো! খেলার মধ্য দিয়ে যে সৌহার্দ-সম্পর্ক, বন্ধুত্ব-শিষ্টাচার, সভ্যতা-ভব্যতার দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত হয় তা যেন বিকৃতি না হয়, সে ব্যাপারে সকলের সতর্ক থাকাই ভাল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ