শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ইতিহাস বদলাতে চান হাথুরু

আপডেট: মার্চ ২, ২০১৭, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



নিজ ভুমে পা রেখেই ২০০৯ সালের সেই ঘটনাটা নিশ্চয়ই মনে পড়েছে বাংলাদেশের লঙ্কান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট দলের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তুচ্ছ কারণেই চাকরি গিয়েছিল তাঁর। কেবল চাকরিই হারাননি, দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধও হয়েছিলেন। ৮ বছর পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হিসেবে দেশে ফিরে হাথুরু বলেছেন অতীতের সেই দিনগুলো তিনি পেছনেই ফেলে এসেছেন।
দেশের হয়ে খুব দীর্ঘ নয় তাঁর ক্যারিয়ার। ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে টেস্ট অভিষেকের পর মাত্র ২৬টি টেস্টই খেলার সুযোগ পেয়েছেন। ১৯৯২ সালে ওয়ানডেতে অভিষিক্ত হাথুরু খেলেছেন ৩৫টি ওয়ানডে। কিন্তু কোচ হিসেবে নিজেকে অন্য রকমই প্রমাণ করেছেন। শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলকে কোচিং করিয়েছেন। সে সময় অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, দিনেশ চান্ডিমালের মতো ক্রিকেটারদের ক্যারিয়ার গড়তে রেখেছিলেন দারুণ ভূমিকা। রাসেল আরনল্ড কিংবা থিলান সামারাবিরারা (বাংলাদেশের বর্তমান ব্যাটিং পরামর্শক) শ্রীলঙ্কান দল থেকে বাদ পড়ার পর হাথুরু-শরণে নিজেদের ক্যারিয়ারে পেয়েছিলেন আলোর দিশা। ২০০৯ সালে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয় ট্রেভর বেলিসের সহকারী হিসেবে, জাতীয় দলে। বেলিস তখন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ।
এখানেও দারুণ কাটছিল সময়। নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের উন্নতির জন্য ২০০৯ সালে দরকার হয়ে পড়ে লেভেল থ্রি কোচিং কোর্সের। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে এই কোর্সটি করার কথা ছিল। কিন্তু সে সময় জিম্বাবুয়েতে একটি ত্রিদেশীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছিল শ্রীলঙ্কা।
তাঁর লেভেল থ্রি কোর্স আর শ্রীলঙ্কা দলের জিম্বাবুয়ে সফর একই সঙ্গে পড়ে যাওয়ায় তিনি ছুটি চান। দলের ম্যানেজার অনুরা টেনেকুন ও হেড কোচ বেলিসের অনুমতি নিয়েই কলম্বো হয়ে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলেন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া গিয়েই জানতে পারেন তাঁর ওপর বেজায় চটেছেন সে সময়কার বোর্ড সভাপতি ডি সি ডি সিলভা। সভাপতির অভিযোগ ছিল, অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে হাথুরু কেন তাঁর অনুমতি নিয়ে গেলেন না। তাঁকে বহিষ্কার করা হয় দুই বছরের জন্য।
দুঃখে-অভিমানে হাথুরু ঠিক এই সময়ই অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন নিয়ে স্থায়ী হয়ে যান। সেখানে খুঁজে নেন ক্রিকেট কোচিংয়ের চাকরি। সেখান থেকেই একের পর এক ধাপ অতিক্রম করে রাজ্য দলের কোচও হয়েছিলেন। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন। গোটা ২০১৪ সালে ব্যর্থতার চক্রে ঘুরপাক খাওয়া বাংলাদেশকে ২০১৫ সালে উপহার দেন স্মরণীয় সব সাফল্য। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার পর বাংলাদেশ দেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজে ধবলধোলাই করে পাকিস্তানকে। ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাও ওয়ানডে সিরিজ হারে বাংলাদেশের কাছে। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখন সমীহ জাগানিয়া এক নাম।
নিজের দেশের বিপক্ষে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নামার আগে বাংলাদেশের কোচ বলেছেন ২০০৯ সালের ওই ঘটনাকে তিনি পেছনে ফেলে এলেও কিছুটা হতাশা এখনো রয়ে গেছে, ‘আমি অতীতকে অতীতেই ফেলে এসেছি। তবে যে হতাশাটা আমার মধ্যে আছে, সেটি হলো শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে ভূমিকা রাখতে না পারা। এটাই আমাকে পোড়ায়। তবে এরপর আমি যা করেছি, যা অর্জন করেছি, তাতে আমি সন্তুষ্ট।’বাংলাদেশের কোচ হিসেবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এবার ইতিহাসটা বদলে দিতে চান হাথুরু। ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেললেও রেকর্ড একেবারেই ভালো নয় বাংলাদেশের। ১৬ টেস্টে মাত্র ২টিতে ড্র করতে পেরেছে। বেশ কয়েকটি টেস্টে হারতে হয়েছে বড় ব্যবধানেই। হাথুরু বাংলাদেশের মধ্যে খুঁজে পান নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের সময়গুলো, ‘আমি যখন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট দলে খেলতাম। তখন সময়টা ছিল শেখার। আমরা ধীরে ধীরে বড় দল হয়ে উঠছিলাম। বাংলাদেশও ঠিক একই জায়গায় আছে। নব্বইয়ের দশকে এসে শ্রীলঙ্কা সাফল্য পেয়েছিল। বাংলাদেশও সাফল্য পাওয়া শুরু করেছে এখন। এবার শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটপ্রেমীদের সামনে বাংলাদেশ উন্নতির প্রমাণটা রাখতে চায়।’ সূত্র: দ্য আইল্যান্ড,প্রথম আলো অনলাইন।