শ্রীলঙ্কায় তাসকিনের হ্যাটট্রিক

আপডেট: মার্চ ২৮, ২০১৭, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



শেষ দিকে এসে জাদু দেখালেন তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের শেষ ওভারে হ্যাটট্রিক পূরণ করেছেন বাংলাদেশি পেসার। ৫০তম ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বলে শ্রীলঙ্কার তিন ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন তাসকিন।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পঞ্চম বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেছেন পেস তারকা তাসকিন আহমেদ। মঙ্গলবার লঙ্কান পেসার নুয়ান প্রদীপকে বোল্ড করে হ্যাটট্রিক করেন তাসকিন। এর আগে বাংলাদেশের আরও চার বোলার ওয়ানডে ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করেছেন। সবার আগে হ্যাটট্রিক করা বোলার শাহাদাত হোসেন। এরপর আব্দুর রাজ্জাক, রুবেল হোসেন ও তাইজুল ইসলাম হ্যাটট্রিক করেছেন।
বাংলাদেশের পঞ্চম বোলার হলেও ক্রিকেটে বিশ্বের ৪১তম বোলার হিসেবে তাসকিন হ্যাটট্রিকের এই কীর্তি গড়েছেন। ক্রিকেট বিশ্বের হ্যাটট্রিক করা সর্বশেষ বোলার ছিলেন জেমস ফকনার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ান এই পেসার গত বছর এই কীর্তি গড়েন।
অন্য পেসাররা যেখানে শুরু থেকেই খরচ করেছেন রান, তাসকিন সেখানে ছিলেন বেশ চাপমুক্ত। শুরুতে উইকেট না পেলেও বৈচিত্র্যময় বোলিং দিয়ে রানের চাকা কিছুটা হলেও চেপে রাখতে পেরেছেন তিনি। মাশরাফি ম্যাচের ১১তম ওভারে তার হাতে বল তুলে দেন। এরপর প্রথম স্পেলে ৫ ওভার বোলিং করে ১৯ রান খরচায় উইকেট শূন্য ছিলেন তাসকিন। দ্বিতীয় স্পেলে আরও দুটি ওভার করে তুলে নেন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠা কুশল মেন্ডিসের উইকেট। আর শেষ স্পেলের শেষ দুই ওভারেই কারুকাজ প্রদর্শন করেন বাংলাদেশের নতুন এই তারকা পেসার।
শেষ ওভারের তৃতীয় বলে গুনারতেœকে সৌম্যর ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরান তাসকিন। চতুর্থ বলে আবারও ক্যাচ উঠে। এবার কৃতিত্ব মুস্তাফিজের। তাসকিনের ফুলটস বলটি মিড উইকেটে খেলতে গিয়ে সুরঙ্গা লাকমাল ক্যাচ তুলে দিলে তাসকিনের হাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগে।
চতুর্থ বলটিতে ক্রিজে নামেন লঙ্কান শেষ ব্যাটসম্যান প্রদীপ। তার আগে অবশ্য মাশরাফি এগিয়ে গেলেন তাসকিনের দিকে। হয়তো পরামর্শ দিলেন হ্যাটট্রিক বলটি কীভাবে করবেন, অধিনায়কের সেই পরামর্শ মাথায় নিয়েই হ্যাটট্রিক বলটি ইয়র্কার দিয়েছিলেন। তাতেই ছত্রখান হয়ে গেল শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে নামা প্রদীপের উইকেট। আর পঞ্চম বোলার হিসেবে বাংলাদেশের হয়ে হ্যাটট্রিক করলেন তাসকিন।
এর আগে ২০০৬ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শাহাদাত হোসেন বাংলাদেশের হয়ে প্রথম হ্যাটট্রিক করেছিলেন ওয়ানডেতে। তার চার বছর পর ২০১০ সালে ঢাকাতে এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক হ্যাটট্রিক পান। পরেরটি ছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১৩ সালে ঘরের মাঠে। কোরে অ্যান্ডারসন, ম্যাককালাম ও নিশামকে উড়িয়ে দিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন রুবেলে হোসেন। এরপর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০১৪ সালে তাইজুল ইসলাম বাংলাদেশের হয়ে চতুর্থ হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেছেন।
এদিকে বাংলাদেশের পক্ষে ওয়ানডেতে পঞ্চম বোলারের হ্যাটট্রিক। দেশ বিবেচনায় নিলে বাংলাদেশের চেয়ে বেশি হ্যাটট্রিক করার বোলার আছেন কেবল পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ায়। এই দুই দলেরই ছয়জন করে বোলার হ্যাটট্রিক করেছেন।
ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি বা টেস্ট-ক্যারিয়ারে হ্যাটট্রিকের স্বপ্ন যেকোনো বোলারেরই থাকে। ওয়ানডে ক্রিকেটে তাসকিনের আগে এই স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছেন মাত্র ৩৫ জন বোলার। মোট হ্যাটট্রিক ছিল ৪০টি। শ্রীলঙ্কার ফাস্ট বোলার লাসিথ মালিঙ্গা একাই করেছেন তিনটি হ্যাটট্রিক। দুটি করে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েছেন পাকিস্তানের দুজন-ওয়াসিম আকরাম ও সাকলায়েন মুশতাক। এ ছাড়া দুটি হ্যাটট্রিক আছে শ্রীলঙ্কার চামিন্ডা ভাসেরও।
গতকাল হ্যাটট্রিকে তাসকিন বাংলাদেশকেই অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ওয়ানডেতে হ্যাটট্রিক করা বোলারের সংখ্যায় বাংলাদেশ এখন দুইয়ে। বোঝা যাচ্ছে, কাজটা বাংলাদেশের বোলাররা বেশ ভালো পারেন।
পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার ছয়জন করে বোলার হ্যাটট্রিক করেছেন। অবশ্য পাকিস্তানের মোট হ্যাটট্রিক আটটি। শ্রীলঙ্কার চারজন বোলার মোট সাতটি হ্যাটট্রিক করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে হ্যাটট্রিক করেছেন তিনজন বোলার। দুজন করে বোলার হ্যাটট্রিক করেছেন নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে ও ভারতের। টেস্টে ভারতের হ্যাটট্রিকের দীর্ঘ অপেক্ষা ঘুচিয়েছিলেন হরভজন সিং। ওয়ানডেতেও ১৯৯১ সালের পর ভারতের আর কেউ হ্যাটট্রিক করতে পারেন নি।-বাংলা ট্রিবিউন ও প্রথম আলো অনলাইন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ