শ্রীলঙ্কায় সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে আজ

আপডেট: এপ্রিল ১, ২০১৭, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


দ্বিতীয় ওয়ানডেটি বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় সিরিজের শেষ ম্যাচটি আক্ষরিক অর্থেই রূপ নিয়েছে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে। দুই দলের জয় ক্ষুধার তীব্রতা দেখে কলম্বোর ম্যাচটাকে অনায়াসে ‘ফাইনাল’ বলেও আখ্যায়িত করা যাচ্ছে! শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ দুদলই যে কলম্বোর ম্যাচটাকে ‘বাঁচা-মরার’ লড়াই হিসেবেই নিচ্ছে। তবে পেছনের উদ্দেশ্যে বিরাট ফারাক। বাংলাদেশের লক্ষ্য কলম্বোর ম্যাচটা জিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়া। স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাদের লক্ষ্য সিরিজ বাঁচানো। প্রথম ওয়ানডের ৯০ রানের জয়ে বাংলাদেশ সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে। যা শনিবার কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে নামার আগে মাশরাফিদের  রাখছে নির্ভার। চাপ যতো, সবটুকুই শ্রীলঙ্কানদের কাঁধে। সিরিজ বাঁচাতে জয় ছাড়া অন্য কোনো পথ যে খোলা নেই তাদের।
উল্টো পিঠে ম্যাচটা হারলেও বাংলাদেশের সিরিজ খোয়ানোর ভয় নেই। আছে সিরিজ জয়ের আশা। কলম্বোর ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে গেলেও পূর্ণ হবে মাশরাফিদের সেই স্বপ্ন। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের আগে এই তথ্যও বাংলাদেশ শিবিরে বয়ে দিচ্ছে বাড়তি আত্মবিশ্বাসের হাওয়া। তবে বৃষ্টির কাঁধে চেপে নয়, বাংলাদেশ লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বপ্নটা পুরণ করতে চায় সিরিজের শেষ ম্যাচটা জিতেই। সেভাবেই মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন মাশরাফি বাহিনী। কিন্তু জয় আশায় বাংলাদেশ শিবিরে একটাই শঙ্কার কারণ, সিংহলিজ স্পোর্টসক্লাব মাঠের পিচ। কেমন হবে সিরিজ নির্ধারণী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের পিচ?
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে সর্বশেষ ওয়ানডে ম্যাচটি হয়েছে ২০১১ সালে! মানে গত ৬ বছরে এই মাঠ কোনো ওয়ানডে লড়াই দেখেনি। তবে লিস্ট এ ম্যাচ হয়েছে নিয়মিতই। কিন্তু সেই লিস্ট এ ম্যাচগুলোর লো-স্কোর আতকে উঠার মতোই। সেই ম্যাচগুলোর প্রথম ইনিংসের গড় রান কিনা মাত্র ১৪৬! সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবের উইকেট যে রানপ্রসবা হবে না সেটা সহজেই অনুমেয়। পরিসংখ্যানও সেটাই বলে। এই মাঠে এ পর্যন্ত ৬৪টি ওয়ানডে হয়েছে। তাতে ৩০০ ছাড়ানো স্কোর মাত্র দুটি! ৫ উইকেটে সর্বোচ্চ ৩৪৩ রানের ইনিংসটি পাকিস্তানের, যেটি তারা করেছিল হংকংয়ের দুর্বল বোলিংয়ের বিপক্ষে, ২০০৪ এশিয়া কাপে। ৩৮টি ম্যাচ খেলে শ্রীলঙ্কানরা একবারই মাত্র ৩০০ পেরোতে পেরেছে। ২০০৪ সালেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৮ উইকেটে ৩০৮ রান করেছিল শ্রীলঙ্কা। এই মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের সর্বোচ্চ স্কোর ৪ উইকেটে ২৯৬, যেটা সব মিলে সিংহলিজের তৃতীয় সর্বোচ্চ ইনিংস। এখানে খেলা ১০ ম্যাচে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২২৬, ২০০২ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ৫.২ ওভার বাকি থাকতেই লঙ্কানরা ম্যাচটা জিতে নিয়েছিল ৫ উইকেটে।
উপরের এই তথ্য সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবের পিচকে স্পষ্টই বোলিং বান্ধব উইকেটের সার্টিফিকেট দিচ্ছে। তবে তা পেস নাকি স্পিন বান্ধব সেটা স্পষ্ট নয়। স্পষ্ট হবে কী করে, ম্যাচের দুইদিন আগেও যে সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবের পিচ পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়নি। বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে পিচের অপ্রস্তুত অবস্থা দেখে নিজের বিস্ময়টাও গোপন রাখতে পারেননি! তবে এতোক্ষণে নিশ্চয় পিচ প্রস্তুতি করে ফেলেছে লঙ্কানরা।  পিচ যে লঙ্কানদের চাহিদা মতোই হবে, সেটা না বললেও চলছে। তবে শুধু পিচের আচরণ নয়, সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠের পরিসংখ্যানও বাংলাদেশের বিপক্ষে।
এই মাঠে এর আগে ১০টি ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৯টিতেই হার। জিতেছে মাত্র একটিতে। সেই জয়টাও দুর্বল হংকংয়ের বিপক্ষে, ২০০৪ সালের এশিয়া কাপে। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা ৩৮ ম্যাচ খেলে ২২টিতেই জয় হাসি হেসেছে। হার ঠিক তার অর্থেক ১১ ম্যাচে। বাকি ৫টি ম্যাচে কোনো ফল হয়নি। পরিসংখ্যানে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা যোজন এগিয়ে। তবে ম্যাচ জিততে সবচেয়ে বেশি যেটা প্রয়োজন সেই আত্মবিশ্বাসে অনেক অনেক এগিয়ে বাংলাদেশ। এখন প্রয়োজন শুধু সেই আত্মবিশ্বাসটা কাজে লাগে মাঠে সামর্থের সেরাটা ঢেলে দেওয়া। মাশরাফিরা পারবেন সামর্থের সবটুকু ঢেলে দিয়ে আরেকটি জয় ছিনিয়ে এনে লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আনন্দ নৃত্য করতে? কোচ হাথুরুসিংহে সিরিজ জয়ের ব্যাপারে প্রচ- আশাবাদী। বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কান কোচকে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী করে তুলেছে দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের দায়িত্ব নিয়ে খেলার বিষয়টা, ‘সত্যিই সিনিয়ররা দারুণ সারা দিচ্ছে (দায়িত্ব নিয়ে বড় ইনিংস খেলা)। এতে খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস্য ও পরিপক্কতা চলে এসেছে। তারা সত্যিই এখন নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।’
শুধু মাশরাফিরাই নন, বাংলাদেশের মানুষও সিরিজ জয়ের বাঁধভাঙা উদযাপনের অপেক্ষায় উন্মুখ। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষকে সিরিজ জয়ের উদযাপনের আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার সুরসুরি কিন্তু দিয়ে রেখেছেন মাশরাফিরাই।-পরিবর্তনডটকম

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ