শ্রীলঙ্কা প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফর || সম্পর্ক ও সম্ভাবনার নতুন অধ্যায় রচিত হোক

আপডেট: জুলাই ১৬, ২০১৭, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা তিন দিনের ঢাকা সফর শেষ করে গেলেন। এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নসহ বহুবিধ সম্ভাবনার সুযোগ সুষ্টি হলো। উভয় দেশই শ্রীলঙ্কা প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে। বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফর গুরুত্ব পেয়েছে।
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার ঢাকা সফর শেষে শনিবার দুই দেশের প্রধান নির্বাহীর মধ্যে এক যৌথ বিবৃতির ঘোষণা ঘোষণা মতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়সহ সব ক্ষেত্রে সম্পর্ক গভীরতর করার বিষয়ে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৪টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ায় ‘গভীর সন্তুষ্টি’ প্রকাশ করেছেন।
এই সফরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, কৃষি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, উচ্চ শিক্ষা ও আর্থিক বিষয়সহ সার্বিকভাবে দুই দেশের জনগণের মধ্যে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ স্থাপনে এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়।
বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের সুফল পেতে শুল্ক সহযোগিতা, দ্বৈত কর পরিহার এবং দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সংরক্ষণ বিষয়ে চুক্তি শিগগিরই চূড়ান্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই নেতা নির্দেশ দিয়েছেন।
সন্ত্রাসবাদ, সহিংস চরমপন্থা ও যে কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক আবরণে উগ্রবাদীকরণ থেকে সৃষ্ট হুমকির বিষয়টি আমলে নিয়ে দুই দেশ ও এর বাইরে এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে নেতারা একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
এজন্য সহনশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও বহুত্ববাদ নিয়ে ২০১৮ সালে একটি ব্যাপকভিত্তিক সংলাপ অনুষ্ঠানের বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন বলে বিবৃতিতে বলা হয়।
দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন সিরিসেনা ও হাসিনা। এর ফলে ২০১৭ সালের শেষে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) চূড়ান্ত করার পথ সুগম হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।
যৌথ উদ্যোগ ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বাড়ানোর মাধ্যমে উভয় দেশ থেকে বিনিয়োগের সুফল পেতে পারে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের সূত্র মতে বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার বাণিজ্য বছরে আট কোটি ডলারের মত। এফটিএ চূড়ান্ত হলে দুদেশের বাণিজ্য আরও বাড়বে।
শ্রীলঙ্কা প্রেসিডেন্টের এই সফর দু দেশের সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলেছে। এই মুহূর্তে লাভক্ষতির হিসেব কষে সময় ক্ষেপণ করার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি সম্পর্ক সেটা যদি পরস্পর মর্যাদার নিরীখে হয়Ñ তবে সেটাই একটি বড় ধরনের সাফল্য। এই সাফল্যকে সঙ্গে করে পরস্পরে মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা তৈরি করতে পারলে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে। সে ক্ষেত্রে উভয় দেশের মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণ এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির অভিন্ন ধারাকে এগিয়ে নেয়ার মানসিকতাও তৈরি করতে হবে। উভয় দেশের যে রাজনৈতিক পরম্পরা তাতে সেটা অসম্ভব কিছু নয়। আগামীতে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার সম্পর্কের অটুট ধারা অব্যাহত থাকবে এটাই প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ