ষোড়শ সংশোধনী বাতিল জনগণের ক্ষমতা হরণ : হানিফ

আপডেট: আগস্ট ১৩, ২০১৭, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, কেন্দ্রিয় সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন,সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও পররাষ্ট প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ নেতৃবৃন্দ-সোনার দেশ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতা হরণ করা হলো। রায় নিয়ে গতকাল শনিবার রাজশাহীতে এ কথা বলেন হানিফ। একইসঙ্গে এ রায়ে দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গতকাল দুপুরে রাজশাহীতে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী প্রশিক্ষণ ও শোক দিবস উপলক্ষে বিশেষ দোয়া ও দাওয়াতি মাহফিলে বক্তব্য দেন মাহবুব উল আলম হানিফ। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কায়ছার রহমান চৌধুরী মিলনায়তনে ওই অনুষ্ঠান করে বিভাগীয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন হানিফ।
হানিফ বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর একটা অনুচ্ছেদে ছিলো, কোনো বিচারপতি যদি শারীরিকভাবে অসামর্থ্য বা তার বিরুদ্ধে কোনো অনৈতিক অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সংসদে এলে সেখানে আলোচনার মাধ্যমে ওই বিচারপতিকে অপসারণের ক্ষমতা সংসদ রাখতে পারে। এই সংসদ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। এ সংশোধনী বাতিলে জনগণের ক্ষমতাকে হরণ করা হলো।
তিনি বলেন, দেশের জনগণ আজ উদ্বিগ্ন। এই ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে দেশের মধ্যে একটা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। আমি আদালতের রায় নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। কিন্তু আদালতের বিচার্য বিষয়ের বাইরে পর্যবেক্ষণের কথা বলে জাতির মধ্যে যে বিতর্কের সৃষ্টি করা হয়েছে, সেই কথাটা আমি বলতে চাই। দেশের বিচার বিভাগ স্বাধীন বলেই আদালত এমন রায় দিতে পারছেন বলে যোগ করেন হানিফ।
হানিফ আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। এখানে জাতির পিতার বাইরে অন্য কারও কথা বলার কোনো সুযোগ নেই। এই একক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যারা কথা বলতে চান, তারা মূলত স্বাধীনতার ইতিহাসকে বিকৃত করার চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছেন।
সমাবেশে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও নগর সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ আখতার জাহান, রাজশাহী মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার সরদার তমিজ উদ্দিন আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহানগর সভাপতি খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে অসংখ্য মসজিদ মাদ্রাসা করেছেন। যা অন্য সরকারের আমলে হয়নি। শুধু তাই নয়, আপনাদের সম্মানিতও করেছেন। কেউ কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বিপথে যাবেন না। ইসলাম সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেয় না।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ যখন কল্যাণ, শান্তি ও উন্নয়নের পথে যায়, তখন স্বাধীনতাবিরোধীরা চক্রান্ত চালায়। জামায়াত-বিএনপি অপশক্তি শান্তি চায় না। বেগম খালেদা চিকিৎসার নামে লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র চলাচ্ছে।
লিটন বলেন, ১৫ আগস্ট ইতিহাসের বেদনাবিধুর ও বিভীষিকাময় দিন। সেই দিন বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাদের সপরিবারে হত্যা করা হয়। সকল হত্যাকারিদের দেশে ফিরিয়ে এনে হত্যার বিচার করা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অলোচক পররাষ্ট প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ১৫ আগস্ট সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সপরিবারে হত্যা করা হয়। ইসলাম কখনো মানুষ হত্যাকে সমর্থন করে না। তারা কাপুরুষের মত হত্যা করেছে। ইসলামে কখনো পেছন থেকে ছুড়িকাঘাত করে হত্যার কথা বলা হয়নি। ইসলাম হচ্ছে শান্তির ধর্ম।
জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল প্রমুখ। সমাবেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমে নিয়োজিত রাজশাহী বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ