ষোড়শ সংশোধনী: রায় নিয়ে বিরূপ মন্তব্য না করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট: জুলাই ৪, ২০১৭, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেয়া সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বাতিল করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষের করা আপিল খারিজ করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। সোমবার রায় ঘোষণার পর এই রায়ের বিরুদ্ধে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এ রায়ের বিরুদ্ধে কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া না জানাতে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বিচার বিভাগ স্বাধীন। তাই এই রায়ের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের বিরূপ মন্তব্য করা যাবে না।’ সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনাকালে বৈঠকে একজন প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের এই নির্দেশ দেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক মন্ত্রী বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে। পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইনমন্ত্রীকে তার সচিবালয়স্থ কক্ষে ডেকে নিয়ে এ নির্দেশনা দেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায় প্রধানমন্ত্রী এ সময় আইনমন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা আলোচনা করেন।
মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান-এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়েছে কিনা। হলে তিনি কী পরামর্শ দিয়েছেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নর জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়া পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করব।’
এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘বিচারপতিদের অপসারণে সামরিক সরকারের করা সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে আদালত কেন সাংঘর্ষিক মনে করছেন না, তা আমার বোধগম্য নয়।’ তিনি বলেন, ‘আপিল বিভাগ একটি সংক্ষিপ্ত আদেশ দিয়ে আমাদের আপিল খারিজ করে দিয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে আমাদের করণীয় নির্ধারণ করব।’
পৃথিবীর অন্যান্য দেশে বিচারপতি অপসারণের পদ্ধতি কী? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সব গণতান্ত্রিক দেশেই বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা যার কাছে আছে, আমরা সেটিই প্রবর্তন করেছিলাম। আমাদের এখানে সেটিই হবে। তবে তা রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না। ভিন্ন কিছু একটা হবে।’
এদিকে, সোমবার শহিদ মিনারে প্রয়াত করুণাময় গোস্বামীর মরদেহে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপিল বিভাগের দেয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর আওয়ামী লীগ এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাবে।’
সংবিধান অনুযায়ী সংসদে প্রেসিডেন্টকে ইমপিচ (অভিশংসন) করা গেলে বিচারপতিকে কেন অপসারণ করা যাবে না, এমন প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক। এই রায়কে সুপ্রিম কোর্টে বহাল রাখার সিদ্ধান্তটি সঠিক বলে মনে করেন না তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী আমরা প্রেসিডেন্টকেও ইমপিচ করতে পারি। যদি প্রেসিডেন্টকে পারি, হোয়াই নট চিফ জাস্টিস অ্যান্ড আদার জাস্টিস? এটা হচ্ছে আমার স্পষ্ট বক্তব্য।’
ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, পলিটিক্স ইজ দ্য নোবেলিস্ট প্রফেশন। ইটস আ ডিফিকাল্ট প্রফেশন, ভেরি কমপ্লেক্স প্রফেশন। এটা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।’
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘এই রায়টি জনগণের ক্ষমতায়নের পরিপন্থী ও বাহাত্তরের সংবিধানের স্পিরিটেরও বিরোধী। তবে আমরা মনে করি না যে এই আইনের মাধ্যমে সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হবে।’
অন্য এক প্রতিক্রিয়ায় ওয়ার্কার্স পার্টিও সভাপতি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘সার্বভৌম সংসদের সিদ্ধান্ত আদালত বাতিল করতে পারে না। সংসদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমরা বিষয়টি নিয়ে আবারও সংসদে কথা বলব।
তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন