সংকট কাটছে : ৮ দিনে জেদ্দায় যাবে ৪৬ হাজার হজযাত্রী

আপডেট: আগস্ট ২০, ২০১৭, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ভিসা জটিলতা ও হজযাত্রী সংকটসহ হজযাত্রার নানা সমস্যা কাটিয়ে উঠছে সরকার। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অফিস, সৌদি দূতাবাস, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশনের (হাব) সমন্বিত প্রচেষ্টায় সঙ্কট নিরসনের চেষ্টা চলছে।
ফলে শেষ মুহূর্তে হজযাত্রায় যে বিশৃঙ্খলা ও অনিশ্চয়তা দেখা গিয়েছিল তা দূর হতে চলেছে। শেষ সময়ের মধ্যে বাকি সব হজযাত্রী নিরাপদে হজে যেতে পারবেন বলেও আশা করছে সরকার।
আশকোনার হজ কার্যালয়ের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম রাইজিংবিডিকে জানান, এখন আর ভিসা জটিলতা নেই। আজকে পর্যন্ত ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৮৫ জন হজযাত্রীর ভিসা সম্পন্ন হয়েছে। ফলে যেসব হজযাত্রীর ভিসা বাকি রয়েছে তা রোববারের মধ্যে শেষ করতে পারব।
ভিসা জটিলতা কাটলেও হজযাত্রীর সংকট পুরোপুরি কাটেনি। হজযাত্রী সংকটের কারণে বারবার হজফ্লাইট বাতিল হওয়ায় এখনো হজে যেতে পারেননি প্রায় ৪৬ হাজার হজযাত্রী।
হজ অফিস জানায়, আগামী ২৮ আগস্ট শেষ হচ্ছে হজফ্লাইট। শুক্রবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সৌদি আরবে গেছেন মোট ৮০ হাজার ৪৯৪ জন হজযাত্রী। বাকি রয়েছে আরো ৪৬ হাজার ৭০২ জন। সন্ধ্যার মধ্যে আরো যাত্রী যাওয়ার কথা রয়েছে। বাকি আট দিনের মধ্যে প্রায় ৪৬ হাজার হজযাত্রীকে জেদ্দায় পাঠাতে হবে। তবে এ সময়ের মধ্যে সব হজযাত্রী পরিবহন নিয়ে শঙ্কা করছে হজ এজেন্সিগুলো। তারা এজন্য ভিসা জটিলতা ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে দায়ী করছে।
এজেন্সিগুলোর অভিযোগ, এত আগে হজফ্লাইট শুরু না করে পরে করলে এত হজযাত্রীর সংকট হতো না। তাছাড়া ই-ভিসা জটিলতার কারণে হজযাত্রী ঠিক সময়ে পাঠানো সম্ভব হয়নি। এখন তাদের যাত্রীদের জেদ্দা পাঠাতে হবে। এতে নিজেদের সুনাম ক্ষুণœ হয়ে ভবিষ্যতে ব্যবসায় ক্ষতি হতে পারে বলেও আশাঙ্কা করছে এজেন্সিগুলো।
এত বিপুল পরিমাণ হজযাত্রী নিয়ে এজেন্সিগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করলেও ২৮ আগস্টের মধ্যেই সব হজযাত্রী জেদ্দায় পাঠানো সম্ভব বলে জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ রাইজিংবিডিকে জানান, হজযাত্রী সংকট ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠছে। আজকে বিমান ও সৌদি এয়ারলাইন্সের ছয়টি করে ফ্লাইট গেছে। তবে হজযাত্রী সংকটের কারণে শনিবার কোনো হজফ্লাইট বাতিল হয়নি। একটির সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এজেন্সিগুলো হজযাত্রী না পাঠানোয় এতদিন ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরো জানান, আগামীকাল থেকে বিমান বাংলাদেশ আটটি করে হজফ্লাইট যাত্রী পরিবহন করবে। সৌদি এয়ারলাইন্সেরও থাকবে আটটি করে। ফলে ২৮ আগস্টের মধ্যেই সব হজযাত্রী ইনশআল্লাহ সৌদি আরব পাঠাতে পারব।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আরো পরে হজফ্লাইট শুরু করলে হজযাত্রীর সংকট থাকত না- এজেন্সিগুলোর এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শাকিল মেরাজ বলেন, কতদিন আগে হজফ্লাইট করতে হবে তার নিয়ম-কানুন রয়েছে। সর্বমোট কতজন হজযাত্রী থাকলে কতদিন আগে ফ্লাইট পরিচালনা করতে হয় তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। সেই নিয়ম মেনেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স হজফ্লাইট শুরু করে।

জানা গেছে, হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ধর্ম মন্ত্রণালয়, হজ অফিসসহ সংশ্লিষ্টদের প্রচেষ্টায় সৌদি দূতাবাস থেকে সময় বাড়িয়ে ভিসা জটিলতা নিরসনের পাশাপাশি হজযাত্রী সংকট দূর করা হচ্ছে। ফলে আগের চেয়ে বিমান ও সৌদি এয়ারলাইন্সের নিয়মিত হজফ্লাইট বেড়েছে। শনিবার বিমান ও সৌদিয়ার ছয়টি করে নিয়মিত ফ্লাইট হজযাত্রী পরিবহন করেছে। অথচ ২৪ আগস্ট থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই হজযাত্রী সংকটের কারণে একটা না একটা হজফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। এ সময়ে উভয় সংস্থার প্রায় ২৯টি হজফ্লাইট বাতিল করতে হয়। হজ এজেন্সিগুলোকে বারবার তাগাদা দিয়ে হজ অফিস সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
হজ এজেন্সিগুলোর সংগঠন হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশনের (হাব) মহাসচিব শাহাদত হোসাইন তসলিম জানান, হজযাত্রা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই, অনিশ্চয়তাও নেই। ভিসা জটিলতা ও হজযাত্রী সংকট কাঠিয়ে উঠেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইনশাল্লাহ সব হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যেতে পারবেন।’
এজন্য তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয়, হজ অফিস, সৌদি দূতাবাস, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও হজ এজেন্সিগুলোর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
কোটা বাড়লেও রিপ্লেসমেন্ট নিয়ে লুকোচুরি : হজযাত্রী প্রতিস্থাপন তথা হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টে এবার ১৫ শতাংশ কোটা বাড়িয়েছে সরকার। কোটা বাড়ানো হলেও এ নিয়ে চলছে লুকোচুরি। শনিবার শেষ সময় হলেও হজ অফিস ও হাব কেউ রিপ্লেসমেন্টের নির্দিষ্ট সংখ্যা বলতে পারেনি।
জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রিপ্লেসমেন্ট তালিকা জমা দেয়ার শেষ সময় বেঁধে দেয় আশকোনার হজ অফিস। কিন্তু হজ অফিসের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করেও বিকেল পর্যন্ত কতজনের তালিকা জমা পড়েছে তা জানা যায়নি।
এ প্রসঙ্গে হজ পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আজ তালিকা জমা দেওয়ার শেষ সময়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বলতে পারছি না কতজন হবে।
একইভাবে এজেন্সিগুলোর পক্ষ থেকে কতজনের তালিকা জমা পড়েছে জানাতে পারেনি হাবও।
হাবের মহাসচিব শাহাদত হোসাইন তসলিম রাইজিংবিডিকে জানান, এখন পর্যন্ত আমি কিছুই জানি না। হজ অফিস জানতে পারে। তিনি হজ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
চলতি বছর এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের পবিত্র হজ পালন করতে যাওয়ার কথা। তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি