সংক্ষিপ্ততম বাজেট অধিবেশন শেষ হল

আপডেট: জুলাই ৯, ২০২০, ১০:১৬ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


নয় কার্যদিবসের এই অধিবেশনে চলতি অর্ছ বছরের বাজেটের ওপর আলোচনা হয়েছে মাত্র দুই দিন। এছাড়া সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা হয়েছে একদিন।
অধিবেশনের দুটি কার্যদিবস চলেছে শোকপ্রস্তবের ওপর আলোচনা করে। বাজেটের ওপর আলোচনার দিন ও ঘণ্টার হিসেবে এবারের বাজেট অধিবেশন ছিল স্বাধীন বাংলাদেশে ইতিহাসে সব থেকে ছোট।
তবে গত ১৮ এপ্রিল বসা দেড় ঘণ্টার অধিবেশন ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের সংক্ষিপ্ততম অধিবেশন।
করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এবারের বাজেট অধিবেশন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা নিয়ে নানা শঙ্কা ও উৎকণ্ঠা ছিল।
সরকারের মন্ত্রিসভার একজন সদস্যসহ সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন এমন দুইজন সংসদ সদসস্যের করোনাভাইরাস আক্রান্তের খবর পাওয়া যায় অধিবেশনের মাঝপথে।
এ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হলেও অন্য আর কারও সেভাবে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
দুই সদস্যের সংক্রমণের খবরে অধিবেশনের শেষ দিকে তালিকাভুক্ত সকল সংসদ সদস্যদের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করিয়ে বৈঠকে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।
তার আগে অধিবেশন সংশ্লিষ্ট সংসদ সচিবালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীরও কোভিড-১৯ পরীক্ষা করানো হয়। তাতে ৯৪ জনের করোনাভাইরাস পজিটিভ আসে।
স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিদিন সকালে অধিবেশন শুরু করে একবেলাতেই বৈঠক শেষ করা হয়।
মহামারীকালে এ বছর বাজেট উপস্থাপনেও ছিল ভিন্নধর্মী আয়োজন। প্রতিবছর অর্থমন্ত্রীকে তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে সংসদে বক্তব্য দিয়ে বাজেট উপস্থাপন করতে দেখা গেলেও এবার মাত্র ৫৭ মিনিটে বাজেট উপস্থাপন শেষ হয়।
এর মধ্যে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য ছিলো মাত্র ৬-৭ মিনিট। বাকি ৫০ মিনিট ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাজেটের বিস্তারিত বিষয় তুলে ধরা হয়। বাজেট ডকুমেন্ট বিতরণেও এবারের আয়োজন ছিল সাদামাটা।
প্রতি বছর পাটের ব্যাগে বেশ কয়েকটি পুস্তক সরবরাহ করা হলেও এবার কাগজের খামে দুই/তিনটি বই সরবরাহ করা হয়। অর্থমন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সেগুলো পিডিএফ আকারেও দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আদেশ পড়ে শোনানোর মধ্যে দিয়ে অধিবেশনের সমাপ্তি টানেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।
এবার অধিবেশনে সামাজিক দূরত্ব মেনে বসানো হয় সংসদ সদস্যদের। সেজন্য অধিবেশনে আইপ্রণেতাদের উপস্থিতি ৮০-৯০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়। সংসদে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশ ছিল বন্ধ।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ