সংরক্ষিত আসনে কে হচ্ছেন সংসদ সদস্য? উৎকণ্ঠায় রাজশাহীর নেত্রীরা

আপডেট: জানুয়ারি ২৯, ২০২৪, ১১:০০ অপরাহ্ণ


মাহী ইলাহি:দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে ২২ দিন আগে। ক্ষমতাসীন দলের নারী নেত্রীরা সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। এর মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে নারী নেত্রীদের।

রাজশাহী থেকে সংরক্ষিত আসনে দৌড়ে নবীন-প্রবীণ মিলিয়ে মাঠে নেমেছেন বেশ কয়েকজন নারী নেত্রী। চালাচ্ছেন জোর লবিং। নিরবচ্ছিন্ন এ প্রচেষ্টায় কমতি না রাখতে এরই মধ্যে ঢাকায় অবস্থান করছেন বেশিরভাগ। তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করে নিজেদের পক্ষে নানা তৎপরতা শুরু করেছেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে প্রভাশালী নেতা-নেত্রীদের বাসাবাড়িতে গিয়েও উপস্থিত হচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থী। এছাড়া দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহের অপেক্ষায় আছেন তারা সবাই।
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, সরাসরি ভোটে জয়ী দলগুলোর আসন সংখ্যার অনুপাতে নারী আসন বণ্টন করা হয়। সংসদের সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনের ভোটার হন। তবে এবার দুটি সংরক্ষিত আসন বাদে ৪৮টি আসনই আওয়ামী লীগের হাতে আছে।

রাজশাহী থেকে সংরক্ষিত আসনে নারী সংসদ সদস্য কে হচ্ছেন তা নিয়ে সব যায়গায় চলছে আলোচনা। ওয়ার্ড-থানা-উপজেলা জেলা ও মহানগরে এই আলোচনা চলছে। দেন-দরবারের জন্য ইতোমধ্যে ঢাকায় অবস্থান করছেন কেউ কেউ।

রাজশাহী থেকে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়নের জন্য এবার বেশ কয়েকজন নারী নেত্রী দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তারা হলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহীন আক্তার রেনী সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আদিবা আনজুম মিতা, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মর্জিনা পারভীন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নাসরিন আক্তার মিতা, সহসভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রোকসানা মেহবুবা চপলা, সাবেক মহানগর মহিলা লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইফফাত আরা কামাল, আওয়ামী যুব মহিলা লীগের রাজশাহী জেলা সভাপতি নার্গিস সুরাইয়া সুলতানা শেলী আছেন আলোচনায়।
দ্বাদশ সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে নতুনদের জায়গা দেওয়ার ওপরই জোর দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। ৫০ আসনে সদস্য বাছাইয়ের ব্যাপারে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের দুই দফা বৈঠক হয়েছে; ফলে মনোয়নপ্রত্যাশীদের কাছেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, দ্বাদশ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনগুলোতে নতুনদের সুযোগ দিতে চায় আওয়ামী লীগ। সে কারণে বাদ পড়বেন বেশিরভাগ বর্তমান এমপি। তবে দলের সভানেত্রীর বিশেষ বিবেচনা আর ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে ‘চার-পাঁচজন’ পুনরায় সংসদে বসতে পারেন।

এবারের ভোটে যে রেকর্ড ৬২ জন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তারা আওয়ামী লীগের হয়েই থাকবে। তবে সরকারের সমালোচনা করতে পারবে বলে জানিয়েছে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২২৩টি, জাতীয় পার্টি ১১টি, জাসদ একটি, ওয়ার্কার্স পার্টি একটি, কল্যাণ পার্টি একটি এবং স্বতন্ত্ররা ৬২টি আসন পেয়েছে।

রাজশাহীর সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের অধিকাংশই মনে করেন, দলের সভানেত্রীর সুবিবেচনায়ই তাদের একমাত্র ভরসা। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় নানা সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করে আসছেন। সংসদ সদস্যের পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপৃর্ণ। এজন্য জ্ঞান, মেধা, দক্ষতা সর্বোপরি সুশিক্ষিত হতে হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনা স্মাট বাংলাদেশের রূপকার। যার দ্বারা দেশসেবা হবে, তাকেই তিনি মনোনয়ন দেবেন।

জেলা ও মহানগরের একাধিক নেতা জানান, এমপি প্রার্থীদের মধ্যে কয়েকজন রয়েছেন পারিবারিকভাবেই দলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। আবার কয়েকজন রয়েছেন বেশ নবীন। প্রার্থীদের কেউ কেউ দলের দুর্দিনে-সুদিনে দলের পতাকা ধরে রেখেছিলেন। আবার কেউ কেউ দলের সুবিধাজনক অবস্থা দেখে নতুন রাজনীতিতে নেমেছেন।

এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী ভোটারদের উৎসাহিত করতে মাঠে যারা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের মধ্য থেকে কাউকে সংসদ সদস্য করা হলে রাজনীতিতে ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। পাশাপাশি জেলা ও মহানগরের রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের বিকাশ ঘটবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অনিল কুমার সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী থেকে যাকে চাইবেন আমরা তাকেই স্বাগত জানাবো। সরকারের উন্নয়নে সামিল হয়ে সংরক্ষিত আসনে ভূমিকা রাখতে হবে। দলনেত্রী ভালোা করেই জানেন এখানে কাকে সংরক্ষিত আসন দেওয়া হবে। তাই তিনি এই বৃহৎ এলাকার জন্য যোগ্য নারীকেই এমপি বানাবেন তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।