সংলাপে বসতে মার্কিন চিঠি কে কোথায় কীভাবে কেমন করে?

আপডেট: নভেম্বর ১৫, ২০২৩, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

১০ নভেম্বর ভারতের দিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বৈঠকের পর বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে এক ধরনের ধোয়াশা তৈরি হয়েছিল। কেননা ভারত পরিষ্কার করেই যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দেয় তারা বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে মোটেও ভাবিত নয়। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে তারা কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। এটা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এই বৈঠকের পর থেকেই বাংলাদেশে আলোচনা চাওর হয় যে, এ ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান পরিস্কার করার পর বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কেমন হবে?

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু বিষয়টি সোমবার স্পষ্ট করেছেন। তাতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নির্বাচন প্রশ্নে আগের অবস্থানেই আছে। এবং তাদের নীতি প্রয়োগের বিষয়টিও সামনে এনেছে। ডোনাল্ড লু দেশের তিন বড় দল- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিকে চিঠি দিয়ে ‘পূর্বশর্ত’ ছাড়াই সংলাপে বসার আহবান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। এর জন্য সব পক্ষকে সহিংসতা পরিহার করে সংযমের আহ্বান জানানো হয়। ওই চিঠিতে তিনি প্রচ্ছন্ন হুশিয়ারিও দিয়েছেন যে, যারা গণতান্ত্রিক নির্বাচন ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করবে, তাদের সবার বিরুদ্ধে সমানভাবে ভিসা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করবে যুক্তরাষ্ট্র।

সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু-এর এই চিঠির তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর সংলাপের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচনাও কম হচ্ছে না। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই তৎপরতা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের সর্বোচ্চ লঙ্ঘন বলেও অনেকে মনে করছেন।
আওয়ামী লীগ এর আগেও শর্তহীন আলোচনার কথা বলেছিল কিন্তু ২৮ অক্টোবর থেকে হরতাল-অবরোধের নামে জ্বালাও-পোড়াও হত্যার মত সহিংসতার পর সেটা আর সম্ভব কী না তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেননা ইতোমধ্যেই পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন ঘটে গেছে।

সংলাপ যদি হয়ও তা হলে এ সংলাপের উদ্যোগ কে নিবে। আর সংলাপ কার সাথে, কীভাবে সম্ভব তার রূপরেখা ওই চিঠিতে উল্লেখ নেই। আবার সংলাপ করতে হলে, বিএনপির নেতৃবৃন্দের প্রয়োজন হবে কিন্তু তারা তো কারাগারে। তাদেরই বা কীভাবে কারাগার থেকে এনে সংলাপ করা সম্ভব হবে- এটাও একটা জটিল অবস্থা। বিএনপি কি তাদের এক দফারআেন্দোলন ছেড়ে সংলাপে আসবে কি? সরকার পদত্যাগ না করলে তখন সংলাপের কী হবে? যুক্তরাষ্ট্র ভিসানীতির হুমকি দিচ্ছে অথচ ২৮ অক্টোবর থেকে যে সহিংসতা বিরাজ করছে- এই সহিংসতা কারা করছে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চয় জানে- কই ভিসানীতি প্রয়োগের বিষয়টি এ ক্ষেত্রে লক্ষনীয় নয়।

তবে একটি বিষয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মানছেন যে, বিএনপি-জামায়াতের অবরোধ কর্মসূচি পালনে যে ধরনের সহিংসতা হচ্ছে তাতে দলটি আরো জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। দলটি বিচ্ছিন্নভাবে সহিংসতা চালালেও আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা নেই বললেই চলে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র কি বিএনপির জন্য অবতার হিসেবে সামনে এসেছে? মূলত বিএনপিকে রাজনৈতিক ট্র্যাকে আনার জন্যই সংলাপের ইস্যুটি সামনে আনা হয়েছে নতুন করে। এই ইস্যু তখনই আনা হলো যখন নির্বাচন কমিশন নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু’র চিঠি রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর কী প্রভাব পড়ে তা দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ