সংসদ সদস্য প্রার্থীদের হলফনামা II আয় ও সম্পদে এগিয়ে আ’লীগ প্রার্থীরা

আপডেট: ডিসেম্বর ৬, ২০২৩, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীর ছয়টি আসন থেকে নির্বাচন করছেন ৩৮ জন প্রার্থী। এদের কারও কারও আছে সম্পদের পাহাড়। আবার কারও বাৎসরিক আয় কোটি টাকার উপরে। আয় ও সম্পদে এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরা। আজ থাকছে ৩২ জন প্রার্থীর হলফনামা।

রাজশাহী-১
রাজশাহী-১ আসন থেকে নির্বাচন করছেন বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী বশির আহমেদ। তার পেশা দেখিয়েছিলেন বেসরকারি চাকরি। বাৎসরিক আয় দেখান ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তার কাছে নগদ টাকা আছে ৬ লাখ ৮০ হাজার। এছাড়াও তার স্বর্ণালংকার আছে ৫ লাখ টাকার। ইলেট্রনিক্স সামগ্রী আছে দেড় লাখ টাকার। আসবাবপত্র অর্ধ লাখ টাকার ও অন্যান্য আছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার। শিক্ষাগত যোগ্যাতা এম পাশ।

এই আসন থেকে নির্বাচন করছেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থি নুরুননেসা। শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাশ। কৃষিখাত থেকে বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন এক লাখ টাকা। নগদ টাকা আছে ৫০ হাজার। কৃষি জমি আছে দুই বিঘা।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট থেকে নির্বাচন করছেন আল সাআদ। শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিবিএস ও এমএস। পেশায় চিকিৎসক এই প্রার্থীর বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ২৬ হাজার ৬৬৭ টাকা। নগদ টাকা আছে এক লাখ। ব্যাংকে জমা আছে ১৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা। স্বর্ণ আছে পাঁচ ভরি। আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী আছে দেড় লাখ টাকার।

স্বশিক্ষিত তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী জামাল খান দুদু। পেশায় ব্যবসায়ী এই প্রার্থীর বাৎসরিক আয় ৩ লাখ টাকা। নগদ টাকা আছে ১ লাখ ও ব্যাংকে জমা আছে ২ হাজার ৪৩৮ টাকা। স্ত্রীর নামে স্বর্ণ আছে ২ ভরি। এছাড়াও আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী আছে অর্ধ লাখ টাকার। প্রার্থীর নামে কৃষি জমি আছে ১৩ শতক ও স্ত্রীর নামে আছে ১ কাঠা।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রার্থী শামসুজ্জোহা বাবু। শিক্ষাগত যোগ্যতা ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং। পেশায় শিক্ষক ও ব্যবসায়ী। বাৎসরিক আয় ৬ লাখ ৯ হাজার ৫৮৮ টাকা। প্রার্থীর একটি মোটরসাইকেল ও এক ভরি স্বর্ণ আছে। এছাড়া স্ত্রীর নামে স্বর্ণ আছে ৯ ভরি। ইলেকট্রনিক্স ও আসবাবপত্র আছে সাড়ে ৩ লাখ টাকার।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামসুদ্দিনের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্বশিক্ষিত। কৃষিখাত ও ব্যবসা থেকে বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা। নগদ টাকা আছে ২ লাখ ও ব্যাংকে আছে ১ লাখ টাকা। আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী আছে দেড় লাখ টাকার।

রাজশাহী-২
রাজশাহী-২ থেকে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মহানগর কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল। এই আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তিনি। মহানগর আওয়ামী লীগের এই নেতার বছরে আয় ১২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। নির্বাচন কমিশনের দাখিলকৃত হলফনামায় তিনি আয়ের উৎস দেখিয়েছেন।

হলফনামায় তিনি দেখান, কৃষিখাত থেকে আয় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। বাড়ি ভাড়া পান ৩ লাখ টাকা। ব্যবসা থেকে আয় করেন ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা। বীর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা এবং গৃহসম্পত্তি থেকে আয় করেন ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা।

অস্থাবর সম্পদের বিবরণে তিনি উল্লেখ করেন, নগদ টাকা আছে ১৬ লাখ ৯ হাজার ৫০০ টাকা। স্ত্রীর কাছে আছে ১৩ লাখ ৭৮ হাজার ৫০০ টাকা। ব্যাংকে জমা আছে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে আছে ৬ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে আছে ৫ ভরি স্বর্ণ। ইলেকট্রনিক্স ও আসবাবপত্রের মূল্য দেখিয়েছেন ২০ হাজার টাকা।

এই প্রার্থীর কৃষি জমি আছে ২০ বিঘা। স্ত্রীর নামে আছে ১২ বিঘা জমি। অকৃষি জমি আছে ৩ বিঘা স্ত্রীর নামে ২ বিঘা। প্রার্থীর নিজের নামে আছে একটি চারতলা ভবন। যার মূল্য দেখিয়েছেন ৩০ লাখ ২ হাজার ৭০০ টাকা। এছাড়া স্ত্রীর নামে আছে দুটি বাড়ি। বাড়ি দুটির মূল্য উল্লেখ করেননি। এছাড়াও একটি ব্যাংকে ৫ লাখ টাকা ঋণ আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রাজশাহী-২ আসন থেকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মনোনীত প্রার্থী আবদুল্লাহ আল মাসুদ শিবলী। পেশায় ব্যবসা এই প্রার্থীর বছরে আয় ৩ লাখ টাকা। নগদ টাকা আছে ৫০ হাজার আর স্ত্রীর কাছে আছে ২০ হাজার। স্ত্রীর নামে আছে ১৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও ১৫ ভরি স্বর্ণ। ইলেকট্রনিক্স পণ্য আছে ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকার। আসবাবপত্র আছে ২ লাখ ১০ হাজার টাকার। কৃষি জমি আছে প্রায় ১৮ শতক যার মূল্য ২০ লাখ টাকা। অকৃষি জমি আছে ৫ দশমিক ৭৮ শতক যার মূল্য দেওয়া আছে ১৫ লাখ টাকা। ৩ শতকের উপরে একটি দালান যার মূল্য দেখিয়েছেন ৩০ লাখ টাকা।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাইফুল ইসলাম স্বপন পেশায় ব্যবসায়ী। স্বাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন এই প্রার্থীর বছরে আয় ৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে অর্ধেক আসে কৃষি থেকে। নগদ আছে ৮০ হাজার টাকা। ইলেকট্রনিক্স পণ্য আছে লাখ টাকার। ২ লাখ ২০ হাজার টাকা দামের একটি মোটরসাইকেল আছে তার। কৃষি জমি আছে সাড়ে ৪ বিঘার। অকৃষি জমি আছে ১ দশমিক ২ শতক।

বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী ইয়াসির আলিফ বিন হাবিবের শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিএ। পেশায় ব্যবসা এই প্রার্থীর বছরে আয় ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। নগদ আছে ১৫ লাখ টাকা। আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য আছে সাড়ে ৩ লাখ টাকার। যৌথ মালিকানায় কৃষি জমি আছে ৬০ লাখ টাকার মূল্যের।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রার্থী কামরুল হাসান পেশায় ব্যবসায়ী। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং। প্রার্থীর বছরে আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। নগদ টাকা আছে ১ লাখ। একটি মোটরসাইকেল আছে যার মূল্য দিয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। ২০ ভরি স্বর্ণ বিবাহসূত্রে পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। ইলেকট্রনিক্স ও আসবাবপত্র আছে ৪ লাখ টাকার।

রাজশাহী-২ আসনের বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনোনীত প্রার্থী মারুফ শাহরিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ পাশ। পেশায় চাকরজীবি এই প্রার্থীর বছরের আয় আড়াই লাখ টাকা। নগদ টাকা আছে সাড়ে ৭ লাখ। ব্যাংকে আছে আড়াই লাখ টাকা। এছাড়াও বিয়েতে উপহার হিসেবে পেয়েছেন ৫ ভরি স্বর্ণ। আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য আছে চার লাখ টাকার। তবে কোন স্থাবর সম্পদ দেখাননি তিনি।

রাজশাহী-৩
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রার্থী মতিউর রহমান মন্টু পেশায় আইনজীবি। এছাড়াও তার অন্যান্য ব্যাবসা আছে। এমএ ও এলএলবি পাশ এই শিক্ষার্থীর বছরে আয় ৪ লাখ টাকা। ব্যবসায় পুঁজি আছে ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭ টাকা। তার একটি মোটরসাইকেল আছে যার মূল্য ২০ হাজার টাকা। স্বর্ণের মূল্য দেখিয়েছেন তিনি ২০ হাজার টাকা। এছাড়াও সোফাসেট যার মূল্য দেখানো হয়েছে ২৫ হাজার টাকা।

অকৃষি জমি আছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৫০ টাকা। তার স্ত্রীর নামে আছে দুই বিঘা জমি। যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৫৬ হাজার ১৬০ টাকা। ব্যাংকে ঋণ আছে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৪২৮ টাকা। তার একটি মামলাও আছে যা বিচারাধীন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবদুস সালামের শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি পাশ। পেশায় ব্যবসায়ী এই প্রার্থীর বছরে আয় ৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে কৃষি ও নিজস্ব ব্যবসার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। তার নগদ টাকা আছে ৫ লাখ ও ব্যাংকে আছে ৫ হাজার টাকা। স্ত্রীর আছে ১০ ভরি স্বর্ণ। আসবাবপত্র ইলেট্রনিক্স সামগ্রী আছে ২ লাখ টাকার। স্ত্রীর নামে আছে ১ লাখ টাকার। জমি আছে ৬ বিঘা ও মাছের খামার আছে যৌথভাবে ৪ লাখ টাকার। একটি মামলা থাকলেও তিনি খালাস পেয়েছেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের প্রার্থী বজলুর রহমান স্বশিক্ষিত। পেশায় ব্যবসায়ী এই প্রার্থীর বছরের আয় ৫ লাখ টাকা। নগদ টাকা আছে ২ লাখ। একটি মোটরসাইকেল ৭৩ হাজার টাকা ও আসবাবপত্র আছে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী আছে আড়াই লাখ টাকার। এক একর ধানের জমি আচে যার মূল্য দেখিয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। তার নামে একটি বাড়ি আছে যার মূল্য দেওয়া হয়েছে ২ লাখ টাকা।

ন্যাশনাল পিপলস প্রার্থী সইবুর রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পাশ। কৃষি ও ব্যবসা থেকে তার বছরে আয় ২ লাখ টাকা। নগদ টাকা আছে ১০ হাজার ও ব্যাংকে আছে ৫০ হাজার টাকা। জমি আছে দুই বিঘা। এছাড়া আয় ও অন্যান্য সম্পদ তিনি দেখাননি।

জাতীয় পার্টির আরেক প্রার্থী সোলাইমান হোসেন শিক্ষাগত যোগ্যতা স্বশিক্ষিত। ব্যবসা থেকে বছরে আয় ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা। নগদ টাকা আছে ৫ লাখ ও ব্যাংকে আছে ৫০ হাজার টাকা। তিন লাখ টাকার আসবাব ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী আছে তার। তার দেড় বিঘা জমি। যার মূল্য দেখিয়েছেন সাড়ে ৭ লাখ টাকা।

রাজশাহী-৪
রাজশাহী-৪ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। আওয়ামী লীগের এই নেতা হলফনামায় বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১ কোটি ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা। তারও একটি বিলাসবহুল জিপ, একটি মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল আছে।

আবুল কালাম আজাদ কৃষিখাত থেকে আয় দেখিয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। বছরে মৎস্য খামার থেকে আসে ১ কোটি এক লাখ টাকা। এছাড়াও পৌর মেয়র হিসেবে বছরে সম্মানী পান ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এই প্রার্থীর নগদ টাকা আছে ১০ লাখ টাকা। ব্যাংকে আছে ৫০ হাজার টাকা। ২৯ লাখ ২৪ হাজার ৯৫৭ টাকার ডিপিএস আছে। ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র আছে স্ত্রীর নামে। স্ত্রীর ২০ ভরি স্বর্ণ আছে।

এই প্রার্থীর বিলাসবহুল জিপের দাম দেখিয়েছেন ১ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের দাম দেখিয়েছেন ৩৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৭ টাকা। ইলেকট্রনিক্স পণ্য আছে ৮০ হাজার টাকার ও আসবাবপত্র আছে ৬০ হাজার টাকা। তার একটি পিস্তলের মূল্য ২ লাখ ১০ হাজার টাকা ও শর্টগানের মূল্য দেখিয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
তার দান সূত্রে পাওয়া কৃষি জমি আছে ৪ দশমিক ৪০ একর। যার মূল্য দেখিয়েছে ৬২ লাখ ৫০ হাজার ৯০০ টাকা। অকৃষি জমি আছে ৩ দশমিক ৪৫ একর জমি যার মূল্য দেখিয়েছেন ১ কোটি ৪৩ লাখ ৭২ হাজার ৩০০ টাকা। স্ত্রীর নামে আছে দশমিক ৬১৮ একর জমি। যার মূল্য ২০ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা। একটি আবাসিক ভবন আছে যার মূল্য দেখিয়েছেন ১৭ লাখ টাকা। নির্মানাধীন বাণিজ্যিক ভবনের মূল্য দেখিয়েছেন ৫০ লাখ টাকা। তার মৎস্য খামার আছে ১০টি। যা সবগুলো লিজ নেওয়া।

জাতীয় পার্টির প্রার্থীর আবু তালেব প্রামাণিকের শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি। তিনি একটি ফৌজধারী মামলার আসামী। মামলাটির এখনও বিচার চলছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করেন। পেশায় ব্যবসায়ী এই প্রার্থীর বছরে আয় ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। নগদ টাকা আছে ২২ লাখ ২২ হাজার। একটি মোটরসাইকেল ও স্ত্রীর আছে ১৫ ভরি স্বর্ণ। আসবাবপত্র আছে ৪০ হাজার টাকার।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম রায়হান। পেশায় ব্যবসায়ী এই প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি। তার বছরে আয় দেখিয়েছেন ৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা। তার কাছে নগদ টাকা আছে ৩ লাখ। একটি মোটরসাইকেল যার মূল্য দেখিয়েছেন ৮৪ হাজার টাকা। ৩ ভরি স্বর্ণের মূল্য দেখিয়েছেন ১ লাখ টাকা। ইলেকট্রনিক্স পণ্য ও আসবাবপত্র আছে ২ লাখ টাকার। একটি বসত বাড়ি আছে যার মূল্য দেখিয়েছেন ৩ লাখ টাকা।

রাজশাহী-৫
এই আসনে এবার প্রার্থী আছেন আরও পাঁচজন। তারা হলেন-এ আসনের দুইবারের সাবেক এমপি আবদুল ওয়াদুদ দারা (আওয়ামী লীগ মনোনীত), মখলেসুর রহমান (গণফ্রন্ট), শফিকুল ইসলাম (জাকের পার্টি), আবুল হোসেন (জাতীয় পার্টি) ও শরিফুল ইসলাম (বিএনএম)।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদ দারার শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসসি। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দারার নামে কোনো মামলা নেই। তিনি কৃষিখাত থেকে বছরে ৬ লাখ ১০ হাজার, শেয়ার থেকে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ২২৯ টাকা ও একটি কোম্পানীর পরিচালক হিসেবে বছরে ২১ লাখ টাকা আয় করেন। তার হাতে নগদ টাকার পরিমাণ ২ কোটি ২১ লাখ ২৩ হাজার ১৩৭। ব্যাংকে আছে ২ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ টাকা। শেয়ার আছে ৪ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার। সঞ্চয়পত্র আছে ৩৬ লাখ টাকার। ৮১ লাখ ও সাড়ে ২৭ লাখ টাকা দামের দুটি জিপ আছে।

স্ত্রীর নামেও আছে সাড়ে ১৫ লাখ টাকা দামের একটি জিপ। স্ত্রীর নামে সঞ্চয়পত্র আছে ২ কোটি ২০ লাখ ৬৯ হাজার ১০২ টাকার। শেয়ার আছে আরও ২ কোটি ২০ লাখ টাকার।
ব্যাংকে আছে ৩১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। নগদ আছে ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৭৮৯ টাকা। প্রার্থীর নির্ভরশীলদের নামে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। দারার নামে ৩০৩ ও স্ত্রীর নামে ৩১১ শতাংশ কৃষিজমি আছে। দারা ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এ আসনের এমপি ছিলেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে তিনি আবার ভোটের মাঠে নেমেছেন।

এ আসনের গণফ্রন্টের প্রার্থী মখলেসুর রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ। তার নামেও কোনো মামলা নেই। তিনি ব্যবসা থেকে বছরে ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা আয় করেন। তার ওপর নির্ভরশীলদের বছরে আয় সাড়ে ১২ লাখ টাকা। মখলেসুরের হাতে নগদ টাকার পরিমাণ দেড় লাখ। তিনি ১৪ বিঘা জমির মালিক। ১০ লাখ টাকা দামের একটি বাড়ি আছে তার। স্ত্রীর নামে আছে ৩ লাখ টাকা ও ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার। বাসায় আছে ৪ লাখ টাকার আসবাবপত্র।

জাকের পার্টির শফিকুল ইসলামের পড়াশোনা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। তার নামে কোনো মামলা নেই। তিনি কৃষিখাত থেকে বছরে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আয় করেন। তার হাতে কেবল ১ লাখ টাকা আছে, ব্যাংকে কিছু নেই। নিজের নামে আছে এক একর কৃষিজমি। স্ত্রীর আছে ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার। এছাড়া তাদের আর কোনো সম্পদ নেই।

জাতীয় পার্টির আবুল হোসেন পড়াশোনা করেছেন এমএসসি পর্যন্ত। তার নামেও কোনো মামলা নেই। কৃষিখাত থেকে তিনি ১ লাখ ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা হিসেবে পান ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অনুদান পান বছরে ১ লাখ টাকা। এখন তার হাতে আছে ৫ লাখ টাকা। স্ত্রীর হাতে আছে ২ লাখ। ব্যাংকে কোনো টাকা নেই। আবুল হোসেনের প্রায় ৫ একর কৃষিজমি আছে। ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ। আবুল হোসেন একসময় এই আসনটির সংসদ সদস্য ছিলেন।

বিএনএমের প্রার্থী শরিফুল ইসলাম এমএসএস পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তিনি কোনো মামলার আসামি নন। তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৩১ হাজার ৩৯৮ টাকা। নগদ টাকা আছে প্রায় ৭ লাখ। ব্যাংকে কোনো টাকা নেই। শরিফুল ইসলামের স্ত্রীর নামেও কোনো সম্পদ নেই।

রাজশাহী-৬
রাজশাহী-৬ আসনে এবার নির্বাচনে আরও ছয়জন প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন রাহেনুল হক (আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র), জুলফিকার মান্নান জামী (জাসদ), মহসিন আলী (এনপিপি), রিপন আলী (জাকের পার্টি), শামসুদ্দিন রিন্টু (জাতীয় পার্টি) ও আবদুস সামাদ (বিএনএম)।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থী রাহেনুল হকের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ। তিনি ব্যবসা থেকে বছরে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা হিসেবে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা পান। তাঁর হাতে এখন ১ লাখ আর ব্যাংকে প্রায় ৬ লাখ টাকা আছে। স্ত্রীর নামে ব্যাংকে আছে ২৫ লাখ টাকা। কোনো কৃষিজমি নেই। রাহেনুল হকের নামে কোনো মামলাও নেই।

জাসদের প্রার্থী জুলফিকার মান্নান জামীর শিক্ষাগত যোগ্যতা মাস্টার্স। তাঁর নামে কোনো মামলা নেই। তিনি বছরে ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা আয় করেন ব্যবসা থেকে। এখন তাঁর হাতে ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৬০০ টাকা আছে। ব্যাংকে কোনো টাকা নেই। স্ত্রী কিংবা তাঁর নামে অন্য কোনো সম্পদ নেই।

এনপিপির প্রার্থী মহসিন আলী পড়াশোনা করেছেন এসএসসি পর্যন্ত। তিনিও কোনো মামলার আসামি নন। তিনি ব্যবসা করে বছরে ২ লাখ টাকা আয় করেন। এখন হাতে ৫০ হাজার ও ব্যাংকে ৫০ হাজার টাকা আছে। স্থাবর-অস্থাবর তাঁর নামে আর অন্য কোনো সম্পদ নেই।

জাকের পার্টির প্রার্থী রিপন আলীর শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি। পেশায় তিনিও ব্যবসায়ী। বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তাঁর হাতে নগদ টাকা আছে ২০ লাখ। মাছের খামারে বিনিয়োগ আছে প্রায় ১৬ লাখ টাকা। প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের কৃষিজমি রয়েছে। তার নামে কোনো মামলা নেই।

বিএনএমের প্রার্থী আবদুস সামাদ অর্থনীতিতে এমএ করেছেন। তার নামেও কোনো মামলা নেই। তিনি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। এখন কোনো আয় নেই। হাতে আছে নগদ ১৩ লাখ টাকা। ব্যাংকে কোনো টাকা নেই। কোনো কৃষিজমি নেই। স্ত্রীর নামে আছে ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ